স্কুলগামী বালক-বালিকাদের মধ্যে তীব্র প্রেম বা গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হওয়া কি দূষণীয়? ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়?

উত্তর : ছোট বালক-বালিকাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা রীতিমতো দূষণীয়। এ ভালোবাসা সৃষ্টির একমাত্র কারণ free mixing বা অবাধ মেলামেশা। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রধান কাজ হচ্ছে লেখাপড়া করা। কেউ প্রেমে পড়লে তার লেখাপড়ার যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটে। সর্বদা এই চিন্তা তাদের তেড়ে নিয়ে চলে। সর্বদা তারা নির্জনে সময় কাটানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। দিনের বেলায় স্কুলের ইউনিফর্ম পরে পার্কে গিয়ে সময় কাটায়। তাই এই প্রেমে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। কারণ, অনেকেই প্রেমে পড়ে সব শেষ করে ফেলে। এই প্রেম তাদেরকে পড়াশোনায় অমনোযোগী করে এবং উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ায় তীব্র বাধার সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে তারা পরীক্ষায় ফেল করে। শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়, লেখাপড়া আর হয়না। তবে যুবক-যুবতীদের প্রেমে পড়ার আগে তাদের পিতা-মাতার সম্মতি নেয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষ রাজি না হলে বা কোনো একজনের অভিভাবক রাজি না হলে আর কোনো কথা নেই। সেখানেই থামতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়কেই চরম মূল্য দিতে হবে। আর ছেলেমেয়ে উভয়ের লেখাপড়া শেষ হবার পর তাদের প্রস্তাবে যদি পিতা-মাতা রাজি থাকেন তাহলে আর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করতে হবে। নতুবা বিবাহ বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের জন্য উভয় পক্ষের অভিভাবকই দায়ী থাকবেন। বাল্যবিবাহ যদি অবৈধ হয় তাহলে বাল্যপ্রেম কীভাবে বৈধ হয়? কারণ প্রেমের পরিণতিই তো বিয়ে। আর বিয়ে না হলে তো বিয়ে বহির্ভূত অশ্লীল কাজ হতেই থাকবে। এটা open secret যে বিদেশীদের প্রেমে দুই-একশত বার যিনার আগে বিয়েই হয়না । ইসলাম এসব বিষয়ে কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছে।

প্রশ্ন- ২৮৭ : বিগত কয়েকটি পর্বে আমরা ‘হৃদয়ের ব্যাধি' বা 'মনের রোগ' বিষয়ে আলোচনা করেছি। সে আলোচনায় হৃদয়ের ব্যাধিতে আক্রান্ত যুবক-যুবতীদের করুণ পরিণতির কথা আলোচনা করেছি। কারণ অবৈধ প্রেমের প্রভাব ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। এই 'প্রেম' নামক ব্যাধি ছাড়া আরো কোনো বিষয় আছে কি, যেখানে এ ধরনের রোগ প্রকট আকার ধারণ করে?


উত্তর : প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যে কোনো উপায়ে, যেভাবেই হোক, অত্যধিক অর্থ-সম্পদ অর্জনের অদম্য বাসনা এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা এক প্রকার অসুস্থতা। It is a serious sickness of the heart. আর এ ব্যাধিই মানুষকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথে ধাবিত করে; ঘুষ- দুর্নীতিতে নিমজ্জিত করে।



সুপ্রিয় দর্শক-পাঠক! একটি পরিবারের সদস্যদের সুন্দরভাবে, উত্তমভাবে জীবনযাপনের জন্য কতো অর্থ দরকার? ১ কোটি, ৫ কোটি, ১০ কোটি, না ১০০০ কোটি টাকা। নাকি আরো বেশি? একটি পরিবারের বসবাসের জন্য কয়টা বাড়ি দরকার? চলাচলের জন্য কয়টা গাড়ি দরকার? কয়টি Industry থাকলে একজন লোক সুখী? কি পরিমাণ জমি থাকলে একজন সন্তুষ্ট ও সুখী? একজন মানুষ একসাথে কয়টি মুরগির রান খেতে পারে? আসলে এসব প্রশ্নের উত্তর আপেক্ষিক। মানুষের প্রয়োজনের শেষ নেই । এ প্রসঙ্গে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস আলোচনা করছি, যা হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত



I



নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের ভেতর কে আছো যে নিজের সম্পদের চেয়ে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদকে বেশি ভালোবাসে? সাহাবীরা উত্তর দিলেন, “আমাদের ভেতর এমন কেউই নেই যে নিজ সম্পদের চেয়ে উত্তরাধিকারীদের সম্পদকে বেশি ভালোবাসে।” তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তার সম্পদ সেটাই, যা সে খেয়েছে, আর যা সে পরিধান করে পুরনো করেছে এবং নিজ হস্তে তার জীবদ্দশায় আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে। যে সম্পদ তার মৃত্যুকালে রেখে যাবে, সেটাই তার উত্তরাধিকারীদের বা ছেলেমেয়েদের সম্পদ।” (সহীহ আল বুখারী) ৮১৯ তাই মাত্র ৩০/৪০/৫০ বছরের যিন্দেগির জন্য যে কোনো উপায়ে যে কোনভাবে সম্পদ অর্জনের মাত্রাতিরিক্ত বাসনা বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিযোগিতা নিঃসন্দেহে হৃদয়ের অন্যতম ব্যাধি'। যে অর্থের দরকার নেই অথচ তা অর্জনের তীব্র বাসনা। ছেলেমেয়েদের জন্য পিতা-মাতাই এ ব্যাধির চিকিৎসক হতে পারেন।






আমরা অনেক সময় সামান্য কারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি এবং হতাশাগ্রস্ত হই বা রেগে যাই। আবার অনেক ক্ষেত্রে অল্পকিছুতেই আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই এবং হৃদয়ে খুশির বন্যা বয়ে যায়। অন্যদিকে ছোটো-খাটো বিষয়ে বা তুচ্ছ ঘটনায় রাগান্বিত হই, রাগের মাথায় মারধর করি বা অন্যান্য বাড়াবাড়ি করি । তাই বিপদে ধৈর্য ধরা, খুশির সংবাদে আনন্দ প্রকাশে সংযত হওয়া, অপ্রত্যাশিত কাজে বা সংবাদে রাগান্বিত হলে সে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা, এসব বিষয়েই আমাদের প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। এসবের মধ্যে প্রথমেই আমরা রাগ বা ক্রোধ বিষয়ে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ ।