উত্তর ঃ ধৈর্যকে ঈমানের ভিত্তি বলা হয়ে থাকে। বস্তুত ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার সমন্বয়ই ঈমান। ইসলামের কতিপয় পূর্বপুরুষ মনিষী বলেছেন, “ঈমানের দুটো অংশ রয়েছে । একটি হচ্ছে ধৈর্য ধারণ করা আর অপরটি হচ্ছে প্রশংসা করা । আর এ প্রশংসাই হচ্ছে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও উপলব্ধির সমন্বয় সাধন।” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কুরআন মজীদে (সূরা ইবরাহীম ও সূরা সাবায়) বলেন,
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَأَيْتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
“নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে।” (ইবরাহীম ১৪:৫ ও সাবা ৩৪:১৯ ) এ আয়াতটিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারীদের প্রশংসা করেছেন। বস্তুত অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ করাকে রোগের নিরাময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। Patience is the remedy to many sicknesses. কুরআন মজীদে ধৈর্যশীলদের সম্বোধন করে আরো বলা হয়েছে,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلوةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصُّبِرِينَ ﴾
“হে মু'মিনগণ! ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (আল বাকারাহ ২:১৫৩)
وَاللَّهُ يُحِبُّ الصُّبِرِينَ
“আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।” (আলে ইমরান ৩:১৪৬)
وَلَبِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصُّبِرِينَ
“কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটা ধৈর্যশীলদের জন্য উত্তম।” (আন-নাহল ১৬:১২৬)
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই জীবনের সবচেয়ে সর্বোত্তম অবস্থাটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।" (ইবনুল কাইয়িম) ৮৩৪
অতএব আমাদের ঈমানের পূর্ণতা অর্জন করতে হলে সকল ক্ষেত্রে ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে।