নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে রসিকতা, ঠাট্টা-তামাশা বা মজা করতেন? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলবেন কি?

উত্তর : সাধারণভাবে মজা, তামাশা, ঠাট্টা করা মহৎ লোকদের পক্ষে মানায়না। তবু তারা মাঝে-মধ্যে একটু আধটু করতেন। তবে সেখানে কোথাও অসত্য, অন্যায়, অসুন্দর বা মিথ্যার লেশ থাকতোনা। কাউকে হাসি-তামাশার মাধ্যমে আনন্দ দান করা দোষের না হলেও নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদাই সতর্ক থাকতেন যাতে এসব তামাশার মাঝে সত্য ছাড়া অন্য কিছু না থাকে। এমন কোনো কথা মুখ থেকে হঠাৎ বের হয়ে না যায়, যা অসুন্দর বা যা কাউকে আঘাত দিতে পারে বা কারো মনোকষ্টের কারণ হতে পারে। হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বর্ণনা করেন, “একদা একজন বৃদ্ধা মহিলা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন এবং তাঁর নিকট অনুরোধ করেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য দু'য়া করুন যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাত দান করেন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, হে অমুকের মা! কোনো বৃদ্ধা মহিলা তো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা । একথা শুনে বৃদ্ধা মহিলা যখন কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছিলেন তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা মহিলাকে গিয়ে বলো, কেউ বৃদ্ধ অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশের আগেই সকল মহিলাকে যুবতী ও কুমারী নারী বানাবেন।” (শামায়েলে তিরমিযী) ৮৩৫ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা বলেন,



إِنَّا أَنْشَأْنُهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا



“তাদের স্ত্রীদের (হূর) কে আমি বিশেষভাবে নতুন করে সৃষ্টি করেছি এবং কুমারী বানিয়ে দিয়েছি। তারা হবে নিজের স্বামীর প্রতি আসক্তা (সোহাগিনী) এবং তাদের সমবয়স্কা।” (ওয়াকিয়াহ ৫৬: ৩৫-৩৭) অপরদিকে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তার জন্য একটি প্রাণী বাহন দেয়ার জন্য আরয করলেন । তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, একটি উটনীর বাচ্চা তোমাকে দেয়া হবে। লোকটি আরয করলেন, এই উটের বাচ্চা দিয়ে আমি কী করবো হে আল্লাহর রসূল! আমার তো একটা বয়স্ক বাহন প্রয়োজন। তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক উটই হচ্ছে কোনো না কোনো উটনীর বাচ্চা।” (আত-তিরমিযী) ৮৩৬



এ দুটো হাদীস থেকে জানা যায়, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য সাহাবীদের গভীরভাবে মনোনিবেশ সহকারে শোনা উচিত। তাহলে উপস্থিত ব্যক্তিরা সবাই বুঝতে পারবে যে তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে কী বুঝাতে চেয়েছেন। ফলে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না ।