ব্রঙ্কিয়াল কারসিনোমা ও ধূমপানের সম্পর্ক ধূমপান থেকে কোন রোগ হয়


সম্প্রতি সারা বিশ্বে ফুসফুসের ক্যান্সারের সংখ্যা ভীতিজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই রোগ পুরুষদের মধ্যেই বেশি তবুও মেয়েদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের সংখ্যা মেয়েদের মধ্যেও বেশ বেড়ে যাচ্ছে। ইংল্যাণ্ড ও ওয়েসে পুরুষ ও নারীর মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের ফলে ১৯৫১-৭৫ সাল এ পঁচিশ বছরের মৃত্যুহার নিম্নে দেয়া হলো। এ থেকে এই রোগের ক্রমবৃদ্ধির উচ্চ হার স্পষ্ট বোঝা যাবে।

১৯৭৯ সালে কেবল ইংল্যাণ্ডে ফুসফুসের ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি পুরুষ মৃত্যুবরণ করে যার পরিমাণ ছিল সমস্ত ক্যান্সারে মৃতের ৩৯% এবং একই সময়ে এটা ছিল মেয়েদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানীয় (১৩%)। মেয়েদের মধ্যে ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করেছিল স্তনের ক্যান্সার রোগে (২০%)। সুতরাং ফুসফুসের ক্যান্সার একটি ব্যাপক মারাত্মক ব্যাধি।


বাংলাদেশের এই রোগের সঠিক পরিসংখ্যান জানা না থাকলেও বর্তমানকালে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনও সন্দেহ নেই যে, ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে অত্যধিক সিগারেট সেবন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে, ধূমপানের অভ্যাস বৃদ্ধির সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি বৃদ্ধি পায় আর সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ যত অধিক, ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা তত কম। যদিও চুরুট এবং পাইপ ব্যবহারে জিহ্বার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ধূমপান ত্যাগ করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে এবং দশ বছর পর এ সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের সমতুল্য । অবশ্য বেশী ধূমপানে ব্রঙ্কাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। পানের সঙ্গে জর্দা ব্যবহারের পরিমাণ খুব কম বলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। খৈনির বেলায়ও তাই, তবে অতিরিক্ত খৈনির ব্যবহারে মুখে ক্যান্সার হতে পারে।

প্রতি ১০০টি সিগারেটের ধূমে প্রায় এক মাইক্রোগ্রাম (Img) 3.4 benzpyrene থাকে যা এককভাবে খুব মারাত্মক নয় যদিও তা ক্যান্সার করে থাকে। দেখা গেছে



সিগারেটের ধূমে আলকাতরা রয়েছে যা শক্তিশালী ক্যান্সার সহায়ক। এ ছাড়া কলকারখানা ও পাকঘরের ধূম এবং Internal combustion engine (সাধারণত সকল মোটরযানের ইঞ্জিন)-এর ধূমে সব বড় শহরের আবহাওয়া কলুষিত হয়ে থাকে । কারণ এ সবেই ক্যান্সার উৎপন্নকারী বেনজপাইরিন থাকে। কোন কোন আধুনিক শহরে এর পরিমাণ প্রতি ১০০ কিউবিক মিটার বাতাসে প্রায় ৫ মইক্রোগ্রাম ( 5mg) বা পাঁচশত (৫০০) সিগারেটের সমান ক্ষতিকর। এই কারণে বড় বড় শহরে ফুসফুসের ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আবহাওয়ার কলুষ অনিচ্ছায় ফুসফুসে প্রবেশ করে আর ধূমপায়ী এই ক্ষতিকর ধূম স্বইচ্ছায় ফুসফুসে টেনে নেয়। এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই যে, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ায় ক্যান্সারকারী ও ক্যান্সার সহায়ক এর সচেতনতার অভাবেই ফুসফুসের ক্যান্সার হয়। অতিরিক্ত ধূমপান এতে প্রবাদ বাক্যের উটের পিঠে শেষ কাঠি (Last straw on the camel's back) বা বন্দুকের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।


বাংলাদেশের বড় বড় শহরে অধিকাংশ বাস, ট্রাক ও টেম্পোর ইঞ্জিন এত খারাপ যে, এগুলো শহরময় দূষিত কালো গ্যাস ছড়াচ্ছে যাতে রয়েছে প্রচুর ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিষ 3.4 benzpyrene !
সুতরাং ধূমপান নিরোধ অভিযানের সঙ্গে এ সব খারাপ গাড়ী রাস্তা থেকে না হটালে কোন লাভ হবে না ।
নস্যির ব্যবহার বলতে গেলে একটি নোংরা অভ্যাস। এতে আঙুল, নাকের ছিদ্রদ্বয় ও কাপড় নস্যির রঙে রঞ্জিত হয়। এটাও শেষ পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের মত নেশা হয়ে যায়, তাই আজকাল উন্নত চিকিৎসার যুগে নস্যি নেহায়েত অচল। তবে নস্যি গ্রহণে বিশেষ কোন ক্ষতি হয় কি না তা দেখার জন্য গবেষণার প্রয়োজন ।

দুঃখের বিষয় তামাক ও সিগারেট কোম্পানী সারা বিশ্বে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচারপত্র ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন জনপ্রিয় খেলার আয়োজন করে জনসাধারণকে এই ক্ষতিকর বস্তুর দিকে আকর্ষণ করে যাচ্ছে। এসব কোম্পানী অনেক সময় বিভিন্ন লোকহিতকর কাজে দান করেও মানুষের মন আকৃষ্ট করে থাকে। সবশেষে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই ধূমপান-বর্জিত হওয়া উচিত। এ জন্য শুধু আইন নয়, মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে এবং শহরের পরিবেশকে ধূয়া ও দূষণমুক্ত করতে হবে।