চুলের পরিচর্যা চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা

চুলের পরিচর্যা

ইশরাত জাহান চৌধুরী

প্রথম দর্শনেই ভাল লাগল। আরো একটু মনোযোগী এবং সাথে সাথে আরো বিস্মিত হয়ে উঠল দুচোখ। একগুচ্ছ ঘন, কৃষ্ণবর্ণ এবং দীর্ঘ চুল দুলে দুলে উঠছিল । কোন এক সময় কোন এক স্থানে দেখা মেয়েটিকে আরো অপরূপ করে তুলেছিল তার সেই অনিন্দ্যসুন্দর কেশগুচ্ছ। মনের অনুক্ত ইচ্ছেটা জাগ্রহ হয়ে ওঠে, আহা, যদি আমারও এমন হতো । একটু নির্মম শোনালেও সত্যি যে, সকলেই তেমন সুন্দর চুলের অধিকারী নন, এটা আল্লার দান। তাই বলে হতাশ হবার কিছু নেই, একটু যত্ন নিলে আপনিও বাড়াতে পারেন আপনার চুলের জৌলুস। আপনার অনুকূলে মানসিকতা আপনাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করবে।

আজকাল প্রসাধনী দ্রব্যে বাজার ভরে গিয়েছে, অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রীর মত
চুলের

পরিচর্যার জন্যও এসেছে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। তা সত্ত্বেও চুলের নানা সমস্যা বৃদ্ধি বই হ্রাস পাচ্ছে না। প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের পর সমাধান ও উপকারিতা না পেলে চিন্তিত হওয়াই স্বাভাবিক। কেমিক্যাল ওষুধের ওপরও অনেকে হয়ে পড়ছেন আস্থাহীন। এই সকল অনাস্থা, হতাশা দূর করে আপনাকে বিশ্বস্ত করে তোলা যায় কি করে ? হয়ত প্রাকৃতিক সম্পদের মাঝেই ফিরে পেতে পারেন আপনার বিশ্বাস, নির্ভরতা ও সৌন্দর্য।

চুল পরিচর্যার বিপুল সম্ভার নিহিত রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে। এর মাঝ থেকে বেছে নিন আপনার উপযোগী উপাদানটি। চুলের যত্ন করবেন কি করে ? চুল যাদের লম্বা বা আগা ফেটে যায়, তারা চুলের আগা মাঝে মাঝে ছেঁটে সমান করে নেবেন। সপ্তাহে দুদিন চুলের গোড়ায় খুব ভালো করে তেল মেসেজ করবেন। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে ৫০-১০০ বার চুল ব্যাক ব্রাশ করে ভালো করে বাঁধবেন। চুল বেশি করে ব্যাক ব্রাশ করে নিলে চুলের গোড়ায় রক্ত বৃদ্ধি পায় যা চুলের জন্য অত্যন্ত ভালো। যারা তেলতেলে ভাব পছন্দ করেন না তারা তেল দেবার পরদিন বা কয়েক ঘন্টা পরে চুলে শ্যাম্পু করে নিলে চুল ঝরঝরে হয়ে উঠবে ।


-
অনেকেই মাথায় চুলের খুসকি সমস্যায় ভুগছেন। টক দই মাথায় মেখে আধ ঘন্টাখানেক পরে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন এবং চুলও পরিষ্কার হবে। এছাড়া দু'চামচ আদার রসের সংগে দু'চামচ ভিনিগার মিশিয়ে মাথায় ভালো করে মেখে ঘন্টা দুই পরে শ্যাম্পু করুন। এভাবে ৪/৫ দিন করে যান। মশুরের ডাল বেশ কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেঁটে মাথায় লাগালেও ভালো ফল পাবেন। এভাবে আরেকটি প্রক্রিয়াতেও আপনি উপকৃত হতে পারেন। খৈল পানিতে ভিজিয়ে নরম করে চুলে দিলেও উপকার পাবেন। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শ্যাম্পু করতে পারেন। সপ্তাহে ২/৩ দিন ঈষদুষ্ণ অলিভ ওয়েল চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে
লাগাবেন।

চুলকে খুসকিমুক্ত রাখতে খাদ্য তালিকায় ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স, 'সি', 'ই' ও প্রচুর শাকসব্জি এবং প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যোগ করুন। উপকৃত হবেন যদি কয়েকটি আমলকি রাতে ভিজিয়ে রাখেন এবং সকালে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এ তো হলো খুসকি সমস্যা। চুল যারা সজীব করে তুলতে চান তারা ১টি ডিম ও ১কাপ টক দই মিশিয়ে চুলে ঘষে ঘষে লাগান। আধ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলবেন। চুল রুক্ষ হয়ে থাকলে মধু ও পানি পরিমাণমত নিয়ে ফেটিয়ে চুলে লাগান। চুলে মসৃণতা আসবে, আবার শ্যাম্পু করার পর লেবু বা ভিনিগার পানিতে মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলবেন। কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে এটা করতে পারেন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া চুল ভালো রাখার কয়েকটি সাধারণ ব্যাপারের উপর আপনার অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। যে শ্যাম্পুই ব্যবহার করবেন তা যেন ভালো হয়। সাবান দিয়ে কখনই চুল ধোবেন না। চুলের পক্ষে ক্ষতিকর, গোসলের পর অনেকক্ষণ সময় নিয়ে চুল রোদে শুকানো উচিত নয়। বছরের যে কোন সময়েই হোক, হালকা রোদে বাতাসে চুল শুকিয়ে নেবেন। ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাবেন না। গোসলের কিছুক্ষণ পর চুল আঁচড়ানো ভালো। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে, সে কারণে গোসলের সাথে সাথে চুল আঁচড়ানো উচিত নয়, চুলের চিরুনি ও ব্রাশ যথাসম্ভব পরিষ্কার ও ভিন্ন রাখবেন। মাঝে মাঝে ডেটল পানিতে চুল ধুয়ে রোদে শুকাবেন। এতে খুসকি কম হবে। চুল বেশি তেলহীন রাখবেন না, চুলের আগা এতে ফেটে যাওয়ার আশংকা থাকে। মেয়েরা আজকাল আর আগের মত ঘরে বসে নেই। পৃথিবী এগিয়ে চলেছে, মেয়েরাও তাই জীবনের তাগিদে সীমাবদ্ধতার গণ্ডী পার হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরছেন। কর্মস্থলের নানা জায়গায় ছোটাছুটির সময় সাথের হ্যাণ্ডব্যাগ বা পার্সটিতে একটি চিরুনি ফেলে রাখতে পারেন আনায়াসেই। আপনার চুলের সজ্জা



বিন্যাস করুন আপনার গন্তব্যস্থলের পারিপার্শ্বিকতার ওপর লক্ষ্য রেখে। যে অনুষ্ঠানেই যান, চুলকে সাজাবেন আধুনিকতার ছাঁচে এবং অবশ্যই তা হতে হবে রুচিশীল। আধুনিকতার দোহাই দিয়ে এমন কোনও বিন্যাস কখনই করা উচিত নয় যা আপনার ব্যক্তিত্ব খর্ব করে, আপনার সৌন্দর্যের হানি ঘটায়।
পরিশেষে আবার বলছি ধৈর্যহারা হবেন না। আপনার এই গতিশীল জীবনে বিশ্বাস এবং ধৈর্যের মূল্য অপরিসীম। জীবনটিকে সহজ ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। স্নিগ্ধ ও রুচিশীল সৌন্দর্য আপনার উন্নত মানসিকতা গঠনে অপরিহার্য — যা আপনার আত্মবিশ্বাসকে করবে সুদৃঢ়। ফলস্বরূপ আবার ফিরে পাবেন আপনার হারানো সৌন্দর্য, আরো অপরূপ হয়ে উঠবেন আপনি।