নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধে বেশ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন। এ বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ । আমি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাহোক, আমি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ছয়টি হাদীস এখানে আলোচনায় নিয়ে আসবো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
১. “সুস্থ ব্যক্তি যেকোনো জায়গায় বা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে আনা উচিত নয়।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক ও ইবনে মাজাহ) ১৫৩
২. “অসুস্থ উটগুলোর মালিক তার উটগুলোকে সুস্থ পশুর দলে পাঠিয়ে দেবেনা। (কারণ এতে ঐসব সুস্থ প্রাণী অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারে।)” (আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু; সহীহ মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)
৩. “কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত রোগীর দিকে অপলক নেত্রে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকবেনা।” (ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু; ইবনে মাজাহ) ১৫৫
"Do not continue looking at the person affected with leprosy." (Ibn Majah ) 155 ৪. “যখন কোনো কুষ্ঠরোগীর সাথে কথা বলার প্রয়োজন হয়, তখন তাদের মাঝে এক ধনুকের দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলবে।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা)
৫. নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সিংহের আক্রমণ থেকে পালাবার বা বাঁচবার জন্য যেমন চেষ্টা করো, তেমন কুষ্ঠরোগী থেকেও দূরে থেকো।” (সহীহ আল বুখারী) ১৫৭
৬. হযরত আমর ইবনে আশ-শারীদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাঁর পিতা থেকে জেনে বলেন, “সাকিফ-এর প্রতিনিধি দলে এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ পাঠালেন, তোমরা ফিরে যাও। আমরা তোমাদের আনুগত্যের অঙ্গীকারনামা (বায়আত) কবূল করে নিয়েছি।” (সহীহ মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)
সম্মানিত দর্শক-পাঠক ও শ্রোতামণ্ডলী! উপরে বর্ণিত ৪টি হাদীসে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগ ও তজ্জাতীয় রোগাক্রান্ত লোকদের নিকট থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। কুষ্ঠরোগ ও কুষ্ঠরোগী সম্পর্কে যে ক'টি হাদীস বর্ণনা করলাম তা জেনে একথা বলা ঠিক হবেনা যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগীকে ঘৃণা করতেন। বরং তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে একত্রে খানা খেয়েছেন। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম জনৈক কুষ্ঠ রোগীর ডান হাত ধরে তিনি যে প্লেটে খানা খাচ্ছিলেন সে পেটে তার হাত রেখে বলেন, আল্লাহ্র উপর আস্থা রেখে আল্লাহ্র নামে খাওয়া শুরু করো।” Trust in Allah and eat in the Name of Allah (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ১৫৯
এ হাদীসটি এ কথাই প্রমাণ করে যে তিনি কুষ্ঠরোগীকেও খাদ্য গ্রহণের সময় শরীক করতেন । হাদীসটি আগের পর্বেও আলোচনা করেছি।
সম্মানিত দর্শক-পাঠক! আমি যে কয়েকটি সহীহ হাদীস আলোচনা করলাম তা প্রমাণ করে যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বে ছোঁয়াচে রোগ বা সংক্রামক ব্যাধি নামক concept এর প্রথম আবিষ্কারক। স্পেনে মুসলমানগণ যখন বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় নিয়োজিত, তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত বাণীগুলো গ্রীক ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। সে সময় অনেক সাদা চামড়ার লোক ঐ Prophetic traditions গুলোতে যেসব scientific wisdom লুকায়িত ছিলো, তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন। সাদা চামড়ার লোক বলতে আমরা সাধারণত European, American ও Australian-দেরকে বুঝে থাকি। We are neither black nor white. আমাদের গায়ের রং কিছুটা হলদে। অর্থাৎ আমরা আমাদেরকে yellow or brown skinned বলতে পারি ।
যাহোক, ঐসব গবেষণার ফলে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক বিষয়ের নতুন নতুন ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করেন । তাই ঐ মেডিকেল concept গুলো যে তারাই আবিষ্কার করেছেন তা মেনে নেয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বস্তুত ইসলামের ইতিহাস আমাদের তাই বলে। মূলত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন spreading contagious diseases, contraindications in sickness, adverse effects of medicines, quarantine system ইত্যাদি বিস্ময়কর মেডিকেল concept গুলোর প্রথম আবিষ্কারক। কারণ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যগুলো ছিলো ৭ম শতাব্দীতে। অথচ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের concept গুলোর অধিকাংশই আবিষ্কৃত হয়েছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে।