এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস থেকে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্ যা সহীহ আল বুখারীতে লিপিবদ্ধ করা আছে। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্ তা'য়ালা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে তখন যতোসব মুসলমান তা শুনবে তাদের প্রত্যেককে এর জবাবে “ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলতে হবে। পক্ষান্তরে হাই আসে শয়তানের দিক হতে। সুতরাং তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেনো যথাসাধ্য তা রোধ করে (অর্থাৎ মুখে হাত দিবে)। কেননা, তোমাদের কেউ হাই তুললে শয়তান তার প্রতি হাসতে থাকে (ঠাট্টা করে)।” (সহীহ আল বুখারী) :
১৮৭
সম্মানিত দর্শক-শ্রোতা-পাঠক! In medical terms হাই তোলা বা yawning means taking a deep breath with the mouth wide open as when one is sleepy or honed. Yawning is an involuntary action. Yawning causes one to take a deep breath when one needs some extra oxygen. Yawning is induced by hypoxia, that is, low level of oxygen in the blood stream.
আচ্ছা মুহতারাম সাধারণত কি অবস্থায় বা কোন সময় হাই আসে?
উত্তর : সাধারণত ক্লান্তি বা খারাপ জল্পনা-কল্পনার কারণে হাই এসে থাকে বা যখন ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, তখন বারবার হাই আসতে থাকে। অনুরূপভাবে অনিচ্ছা বা অনাগ্রহও হাই আসার কারণ হয়। উদাহরণ স্বরূপ, কোনো আলোচনা সভায় বা বক্তৃতা দেবার সময় শ্রবণকারী বক্তব্য শুনতে শুনতে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই তার হাই আসা শুরু হয়ে যায়। তাছাড়া হাই আসার সময় মানুষের চেহারার অবস্থা খুবই বিকৃত হয়ে পড়ে। সুশ্রী মানুষের আকৃতিও বিগড়ে যায়, যা খুবই দৃষ্টিকটু। ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের হাই তোলা, আর বক্তৃতা শোনার সময় শ্রোতাদের হাই তোলা শিক্ষক ও বক্তা উভয়েরই মনোকষ্টের কারণ হয়। Sigh is a mark of disregard to a teacher or speaker. তাই কোনো মেহমান হাই তুলতে লাগলে মেজবানের নিকট তা অসহ্য মনে হয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্ হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে, তখন সকল শ্রোতা জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে। আর যখন তোমাদের কারো হাই ওঠে, তখন যথাসম্ভব সে যেনো তা ফিরিয়ে রাখে এবং 'হা' 'হা' না বলে । কেননা, এটি শয়তানের তরফ থেকে হয় এবং সে হাসতে থাকে।” (সহীহ আল বুখারী, আবূ দাউদ, আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)
হাই তোলার সময় স্বাভাবিক দৃশ্য। তাই হাই তোলার সময় মুখ ঢাকা বাঞ্ছনীয়
অপরদিকে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “একবার দুই ব্যক্তি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাঁচি দিলো। তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একজনের হাঁচির জবাব দিলেন, অন্যজনের হাঁচির জবাব দিলেন না। তখন সেই ব্যক্তি বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন অথচ আমার হাঁচির জবাব দিলেননা? তিনি বললেন, সে ‘আলহামদুলিল্লাহ' বলেছে আর তুমি ‘আলহামদুলিল্লাহ' বলোনি।” (সহীহ আল বুখারী) ১৮৯
তাই এসব বাস্তবতার নিরিখেই মনোচিকিৎসক নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, হাই তোলা শয়তানের কাজ, যথাসম্ভব তা ফিরিয়ে রেখো। আর যদি অনিচ্ছাকৃত হাই এসেই পড়ে, তবে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা উচিত যেনো আওয়াজ বের না হয় এবং অন্য কেউ 'হা' করা মুখ দেখতে না পায় । হাই তোলা সম্পর্কে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষ্য হচ্ছে, হাই তোলার দ্বারা মন-মেজাজ ও প্রকৃতির অলসতা ও জড়তা বৃদ্ধি পায়। ফলে সে উদাসীনতা ও অলসতার মাঝে হারিয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আল্লাহ্ তা অপছন্দ করেন। আর শয়তান তাতে আনন্দবোধ করে। কারণ বান্দার ক্ষতিতেই শয়তানের আনন্দ । পক্ষান্তরে হাঁচি মানুষের মন-মস্তিষ্ক পরিষ্কার করে, জড়তা দূর করে । তাই এটি মানুষের জন্য কল্যাণকর। যাহোক, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চললে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, স্বাস্থ্য অটুট থাকবে, রোগ ব্যাধি সহসা আক্রমণ করবেনা। অপরদিকে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস মেনে চলার জন্য আমরা পরকালেও কল্যাণ লাভে সামর্থ হবো ইনশাআল্লাহ !