জি হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা দুটো বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থেকো, যা আল্লাহ্র অভিসম্পাতের কারণ স্বরূপ। উপস্থিত সাহাবীরা বলে উঠলেন, সে দুটো জিনিস কী হে আল্লাহ্র রসূল! যা অভিসম্পাতের কারণ? তিনি উত্তর দেন, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় এবং ছায়াপ্রদানকারী গাছের নিচে যেখানে লোকজন বিশ্রাম গ্রহণ করে ও আশ্রয় নেয়, সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা।” (সহীহ মুসলিম) ২০৪ ঠিক এ ধরনের আরেকটি হাদীস রয়েছে, যা হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউই বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করবেনা, যে পানি প্রবাহিত হয়না এবং পরে সে পানিতে গোসল করা উচিত নয়।” (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম) ২০৫
প্রশ্ন-৬৭ : আমরা জানি প্রস্রাব আটকিয়ে রাখা একটি গর্হিত কাজ। কারণ এতে মারাত্মক অসুখ সৃষ্টি হতে পারে। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সর্বদা বলে যে প্রস্রাবের বেগ হলে তৎক্ষণাৎ মূত্রত্যাগ করে urinary bladder খালি করা উচিত। যাতে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে harmful excretory products প্রস্রাবের সাথে মূত্রথলি হতে বের হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যসমূহ আলোচনা করুন?
উত্তর : আপনি ঠিকই বলেছেন যে, প্রস্রাব আটকিয়ে রাখলে মারাত্মক অসুখ সৃষ্টি হতে পারে। হযরত আবূ
হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “একদা এক গ্রাম্য লোক মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে আরম্ভ করে। উপস্থিত লোকেরা তাকে বাধা দিতে যায়। ঐ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটিকে ছেড়ে দাও এবং প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, কঠোরতা অবলম্বন করার জন্য নয়।" (সহীহ আল বুখারী) ২০৬
সম্মানিত দর্শক-পাঠক! দৃশ্যটি একবার কল্পনায় আনুন । মসজিদে নববীতে এক রাকাআত নামায আদায় অন্য স্থানে ৫০ হাজার রাকাআত নামায আদায়ের সমান। সেখানে এক অপরিচিত ব্যক্তি প্রস্রাব করেছে এবং জায়গা অপবিত্র করেছে। সংগত কারণেই সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম উত্তেজিত হয়ে থাকবেন। আমাদের এখানে এ অবস্থা হলে আমরা কী করতাম? তাই তাকে পাকড়াও করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করা, শোরগোল করা, প্রস্রাব করতে বাধাদান ইত্যাদি সবই ছিলো স্বাভাবিক কাজ । কিন্তু মানবতার মুক্তিদূত, রহমতের নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রাণপ্রিয় সাহাবীদের বাধা দিলেন এবং বললেন, তাকে প্রস্রাব করতে দাও। Allow him to urinate. পরে জায়গাটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে। পরে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমাদেরকে সহজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, কঠোরতা অবলম্বনের জন্য তৈরি করা হয়নি।" সত্যিই কী মহানুভবতার শিক্ষা! আমরা কি এসব অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে পারতাম?
গত বেশ কয়েকটি পর্বে আমরা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর জীবনের বিভিন্ন দিক তথা ঘুম, বিশ্রাম অর্থাৎ তাঁর life-style নিয়ে আলোচনা করেছি। এ পর্যায়ে আমরা তাঁর খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবো ।
বস্তুত সঠিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে তিনি বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। তিনি কী কী খাদ্যদ্রব্য খেতেন, কী কী খেতেননা, কখন খেতেন, কতোটুকু খেতেন ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। আমরা যদি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পন্থায় পানাহার করি, পরিমিত পরিমাণ হালাল খাবার সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে গ্রহণ করি, তাহলে আমরা অনেক রোগ-ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকতে পারবো এবং আমাদের স্বাস্থ্য অটুট থাকবে, অকালে বার্ধক্য ঘনিয়ে আসবেনা।