হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা বলেছেন, “যে ব্যক্তি আসরের নামাযের পর নিদ্রা গেলো, তার আক্কেল-বুদ্ধি ভোঁতা করে ফেললো। এজন্য সে যেনো নিজেকেই তিরস্কার করে।” (জামে সগীর) ৩৩৭ হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এ বর্ণনা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশ কয়েকজন সাহাবী সমর্থন করেছেন বলে জানা যায়। অর্থাৎ তারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এই
বর্ণনারই প্রতিধ্বনি করেছেন। তারা বলেন, “যারা বিকেলবেলা ঘুমায় তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারে। আর এজন্য তারা যেনো নিজেদেরকেই দায়ী করে।” (ইবনুল কাইয়িম) ৩৩৮
এ রিওয়ায়াতটি আল্লামা হাফিয ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুবিখ্যাত তিব্বুন নববী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে ইমাম আল্লামা আস-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল ইমাম (সম্ভবত তাঁর শিক্ষক) নামে জনৈক সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, “যে ব্যক্তি আসরের পর নিদ্রা গেলো সে যেনো তার বোধশক্তি হারিয়ে ফেললো।” (আস-সুয়ূতী) ৩৩৯
সম্মানিত দর্শক! আমার মনে হয় একজন আধুনিক ডাক্তারও একই ধরনের উপদেশ দিয়ে থাকবেন, “বিকেলবেলা ঘুমানো অনুচিত।" এটি নিষেধ। তাই আমি সম্মানিত দর্শক-শ্রোতা বা পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, অসুস্থ না থাকলে কেউ আছরের নামাযের পর ঘুমাবেননা। প্রয়োজনে রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে ইশার নামায আদায় করে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর ঘুমিয়ে পড়ুন। এতে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। প্রিয় দর্শক-পাঠক! আপনি কখন ঘুমাচ্ছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কতোক্ষণ ঘুমাচ্ছেন। দেরিতে ঘুমালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠবেন, এটিই স্বাভাবিক। যদি ইশার নামাযের পরে টেলিভিশনে আজেবাজে অবাস্তব, নাটক-সিনেমা দেখে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান, তাহলে আপনার ঘুম প্রত্যুষে আপনা আপনি ভাঙবে। তখন আপনি অবশ্য কর্তব্য সলাত আদায় করে অফিসে বা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় পাবেন। এটি অতীব সত্যকথা। যিনি ফজরের নামায জামায়াতে পড়তে অভ্যস্ত, তিনি কর্মস্থলে সর্বদা ঠিক সময়ে উপস্থিত হন। একটি প্রবাদ আপনারা জানেন, “যে দিনে ঘুমায় আর রাত জাগে, তার রোগ হয় সবার আগে।” আমরা এটিও জানি যে, 'early to bed and early to rise, makes a man healthy, wealthy and wise.' এ প্রবাদগুলো এখনো সত্য বলেই প্রমাণিত। আর এই প্রবাদের চেতনা হচ্ছে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ।