উপুড় হয়ে বা চিৎ হয়ে শোওয়া সম্পর্কে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উপদেশসমূহ অনুগ্রহপূর্বক আলোচনা করুন ।

এ প্রশ্নের উত্তর নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস থেকে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশা'আল্লাহ।

উপুড় হয়ে শয়ন করা নিষেধ।

চিত হয়ে শয়ন করা নিষেধ।

হযরত আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, “একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে একজন ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি মুখের উপর উপুড় হয়ে পেটের উপর ভর দিয়ে শুয়ে আছেন । নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পা দিয়ে স্পর্শ করে বললেন, “উঠে দাঁড়াও বা উঠে বসো। কারণ এটি জাহান্নামীদের শোয়া।” (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ) ৩৪৯ এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে উপুড় হয়ে পেটের উপর চাপ দিয়ে ঘুমানো একটি বদভ্যাস ।

It is a bad habit. তাই এটা পরিত্যাজ্য। কারণ দোযখের অধিবাসীরা এভাবে ঘুমায়। হযরত তাফা ইবনে কায়স গিফারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমার পিতা আস্হাবে সুফ্ফার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে একদা আমি ভোরের দিকে মসজিদে উপুড় হয়ে শুয়েছিলাম। হঠাৎ আমি অনুভব করলাম, কেউ আমাকে তার পা দিয়ে নাড়া দিচ্ছে। অতঃপর বলছেন যে, "এভাবে উপুড় হয়ে শোয়াকে আল্লাহ পাক অপছন্দ করেন। আমার পিতা বলেন, “অতঃপর আমি চোখ খুলে দেখলাম, স্বয়ং (এ ব্যক্তি আর কেউ নন) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।” (আবূ দাউদ) ৩৫০ আসহাবে সুফ্ফা হলেন সেসব সম্মানিত সাহাবী যাঁরা দুনিয়ার ব্যস্ততা পরিহার করে সব সময় মজিদে নববীতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোহবতে থাকতেন এবং সলাত, যিকির ও অজিফায় সময় কাটাতেন।

তিরমিযী শরীফে হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণিত হাদীসটিতে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “উপুড় হয়ে শোয়া আল্লাহ পছন্দ করেননা।" (আত-তিরমিযী) ৩৫১

সম্মানিত দর্শক-শ্রোতা ও পাঠক! উপুড় হয়ে শোয়া অত্যন্ত ভুল পদ্ধতি যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি মানুষের পাকস্থলী, হজমশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলে। হৃদয়ের স্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপুড় হয়ে শুতে নিষেধ করেছেন।

এমনকি হিপোক্রাটস্ও তার বইয়ে একই ধরনের কথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, “কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি উপুড় হয়ে ঘুমায়, যা অসুস্থ না থাকলে তার স্বাভাবিক ঘুমের নিয়ম নয়, তাহলে সে মানসিক দুর্বলতা বা পেটব্যথায় ভুগছে।” (ইবনুল কাইয়িম) ৩৫২

আব্বাস ইবনে তামীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচা হতে জেনে বর্ণনা করেন, "তিনি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে নববীতে এক পা আরেক পায়ের উপর রেখে শায়িত অবস্থায় দেখেছেন ।” (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী) ৩৫৩

অপরদিকে প্রসিদ্ধ সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ যেন চিৎ হয়ে শুয়ে এক পা অপর পায়ের উপর তুলে না রাখে।” (সহীহ মুসলিম) ৩৫৪

চিৎ হয়ে ঘুমানো সাধারণভাবে অনুচিত। এ দুটো হাদীসই আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। এটি সত্য যে অধিকাংশ সময়ই ঘুমানোর সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডানহাত তাঁর মাথা মুবারকের নিচে থাকতো এবং চেহারা কিবলামুখী থাকতো। তবে সম্ভবত কাত পরিবর্তনের সময় তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এমনটি করে থাকবেন। কারণ স্বাভাবিকভাবে বেশি সময়ের জন্য চিৎ হয়ে শোয়া সঠিক নয়, যা হযরত জাবির বর্ণিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস থেকে জানা যায়। এটি মুখ দিয়ে শ্বাস- প্রশ্বাস নিতে প্রভাবিত করে। কারণ যখন কেউ চিৎ হয়ে শয়ন করে, তখন তার মুখ খোলা থাকে, কেননা the lower jaw is relaxed. এ অবস্থান sleep apnea ঘটতে পারে। অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে





শ্বাস বন্ধ হতে পারে । তাছাড়া snorring বা নাক ডাকা স্বভাব সৃষ্টি হতে পারে ।

জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি।" (আত-তিরমিযী) ৩৫৫