বৃষ্টি - রফিক আজাদ---সংকলিত (রফিক আজাদ) 



খররৌদ্রময় এই দিন—

শ্যামল বাংলায় বুঝি ফের নেমে আসে খরা!

খরতাপে রুদ্ধশ্বাসক্ষুদ্র এই গ্রামীণ শহর,

এ রকম এই দিনে চেতনায়ও খরার প্রদাহ—

নির্বাচনে হেরে-যাওয়া প্রার্থী যেন: বিরক্ত, বিব্রত;

এ রকম দুঃসময়ে এল বৃষ্টির শব্দের মতো

সুখকর এই পত্র—প্রাগের প্রাচীর থেকে উড়ে!

কুপিত, বিব্রতকর এই রোদে খামটি খুলিনি;

আমি তো অপেক্ষা জানি: এই খররৌদ্রে কখনো কি

প্রিয় বান্ধবীর লেখা চিঠি খোলা চলে?

অতএব, রেখে দিই যত্ন করে নিজস্ব ড্রয়ারে!

১১ জুলাই রাতে অকস্মাৎ বৃষ্টি নেমে এল

যেন দীর্ঘদিন পর হঠাৎ হারিয়ে-যাওয়া আমার সন্তান

ঘরে ফিরে এল।

বাইরে এখন বৃষ্টি,

বৃষ্টির স্নিগ্ধতা বহু দিন পর যেন

আমার হূদয়ে প্রীত মধ্যযুগ ভরে দিয়ে গেল!



এখনো বাইরে বৃষ্টি: জানালায় জলের প্রপাত—

এই বুঝি প্রকৃষ্ট সময় যখন প্রশান্ত মন,

হূদয়ে যখন আর খেদ নেই কোনো, ভারাতুর

নয় আর মন, ক্রোধ নেই, ঘৃণা নেই—অবিশ্বাস্য

শান্তিপ্রিয় আজ এই মাঞ্চুরীয় রাখাল বালক;

হূদয়ে কোনোই শোক নেই—শোকানুভূতিও নেই—

অসম্ভব শান্ত আজ—সমাহিত—আমার হূদয়!

নষ্ট করে ফেলে-দেয়া জীবনের জন্য নেই কোনো

শোচনা ও তাপ;—বৃষ্টির সৌগন্ধে ভরে আছে মন!

মনে হচ্ছে আমার মতন সুখী কেউ নেই আর

পৃথিবীর কোনো প্রান্তে ১১ জুলাই এই রাতে!





এখন আপনার চিঠি খোলা যায় এই পরিবেশে:

এ কী করেছেন! খামে ভরে কেউ কারুকে পাঠায়

গোবি-সাহারার দীর্ঘ হাহাকার, চীনের প্রাচীর?

স্তব্ধ হয়ে থাকি চিঠি পড়ে: সারাটা দুনিয়া জুড়ে

মানুষের এত দুঃখ—এর থেকে পরিত্রাণ নেই?

—বৃষ্টির প্রপাত শুনে, গাছের সবুজে চোখ রেখে

শিশুদের গালে চুমো খেয়ে আমরা পারি না ফের

এই দুঃখী গ্রহটির অন্তর্গত অসুখ সারাতে?