তুমি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়---বন্দী জেগে আছো 

তুমি অপরুপ, তুমি সৃষ্টির যথেষ্ট পূজা পেয়েছো জীবনে?

তুমি শুভ্র, বন্দনীয়, নারীর ভিতরে নারী, আপাতত, একমাত্র তুমি

বাথরুম থেকে এলে সিক্ত পায়ে, চরণকমলযুগ চুম্বনে মোছার যোগ্য ছিল-

তিন মাইল দুরে আমি ওষ্ঠ খুলে আছি, পূজার ফুলের মতো ওষ্ঠাধর



আমি পুরোহিত, দেখো, আমার চামর, বাহু স্বতোৎসার শ্লোক

হৃদয় অহিন্দু, মুখ সোমেটিক, প্রেমে ভিন্ন কোপটিক খৃষ্টান

আশৈশব থেকে আমি পুরোহিত হয়ে উঠে তোমার রূপের কাছে ঋণী

তোমার রূপের কাছে অগ্নি, হেম, শস্য হবি-পদাঘাতে পূজার আসন

ছড়িয়ে লুকাও তুমি বারবার, তখন তন্ত্রের ক্ষোভে অসহিষ্ণু আমি

সবলে তোমার বুকে বসি প্রেত সাধনায়, জীবন জাগাতে চেয়ে জীবনের ক্ষয়

ওষ্ঠের আর্দ্রতা থেকে রক্ত ঝরে, নারীর বদলে আমি স্ত্রীলোকের কাছে

মাথা খুঁড়ি, পুরোহিত থেকে আমি পুরুষের মতো চোখে ক্রুরতা ছড়িয়ে

আঙুলে আকাশ ছুঁই, তোমার নিঃশ্বাস থেকে নক্ষত্রের জন্ম হলে

আমি তাকে কশ্যপের পাশে রেখে আসি।

এ রকম পূজা হয়, দেখো ত্রিশিরা ছায়ায় কাঁপে ইহকাল

এমন ছায়ার মধ্যে রূপ তুমি রূপের কঠিন ঋণ বিশাল মেখলা

আমি ঋণী আমি ক্রীতদাস নই, আরাধনা মন্ত্রে আমি

তোমাকে সম্পূর্ণ করে যাবো।।