দার্শনিক অনুসন্ধানের পদ্ধতি হিসেবে বিশ্লেষণী পদ্ধতি কি যথার্থ? আপনার মতামত দিন।

সাম্প্রতিককালে অনেক দার্শনিক দর্শনের প্রচলিত পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, দার্শনিক

আলোচনার আসল পদ্ধতি হলো বিশ্লেষণী পদ্ধতি। নিরপেক্ষ ও যথার্থ জ্ঞান লাভের জন্য

দার্শনিক আলোচনায় বিশ্লেষণ আবশ্যক। বিশ্লেষণের মাধ্যমে দার্শনিক সমস্যার আলোচনা

করেন বলে এসব দার্শনিককে বলা হয় বিশ্লেষণী দার্শনিক। নিচে বিশ্লেষণী পদ্ধতি আলোচনা

করা হলো।

বিশ্লেষণী পদ্ধতি

সাম্প্রতিককালে একদল দার্শনিক গতানুগতিক দার্শনিক পদ্ধতিগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন।

এসব দার্শনিকের মতে, বিশ্লেষণই দার্শনিক অনুসন্ধানের যথার্থ পদ্ধতি। তাঁরা মনে করেন যে,

দার্শনিক প্রশ্নাবলীর বিশ্লেষণ ছাড়াও এসব প্রশ্নের উত্তর হিসেবে যেসব সাধারণ বিশ্বাস ও

দার্শনিক মতবাদ উপস্থাপন করা হয় সেসবেরও বিশ্লেষণ করা দরকার। কেবল বিশ্বাসের উপর

ভিত্তি করে অর্থাৎ যাচাই না করে কোনো কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়। নিছক বিশ্বাস ও

প্রাধিকার বা আপ্তবাক্য দার্শনিক সত্যে উপনীত হওয়ার প্রকৃত পথ নয়। এ মতবাদের

অনুসারীরা হলেন মূর, ভিটগেনস্টাইন, শ্লিক, এয়ার প্রমুখ দার্শনিকবৃন্দ।

বিশ্লেষণী দার্শনিক ম্যূর ভাষার সাধারণ ব্যবহার অর্থাৎ ভাষা-বিশ্লেষণ এবং শব্দ ও ধারণার

বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ভিটগেনস্টাইন অর্থহীনতা উদ্ঘাটনের উপর অর্থাৎ যে

ভাষাগত ভুল বুঝাবুঝি অনর্থক দার্শনিক সমস্যার সৃষ্টি করে, তা দ র করার উপর গুরুত্ব

দেন। শ্লিক ও এয়ার পদ ও ধারণার বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তাঁরা বিশ্লেষণের ধারা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করলেও বিশ্লেষণকেই দর্শনের আসল

পদ্ধতি বলে মনে করেন।

ধারণাগত বিশ্লেষণ, যৌক্তিক বিশ্লেষণ, প্রকল্প ও ইঙ্গিতপূর্ণ সমাধানের পরীক্ষণ, প্রমাণ ও

সত্যবিষয়ক বিষয়াবলীর যাচাইকরণ ইত্যাদি বিশ্লেষণী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। ধারণাগত

বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাক্যে ব্যবহৃত পদ ও ধারণার দ্ব্যর্থকতা ও অস্পষ্টতা দূর করে বিষয়বস্তুকে

সহজবোধ্য ও স্পষ্ট করা হয়। যৌক্তিক বিশ্লেষণে, হেতুবাক্যের যথার্থতা, যুক্তি ও প্রমাণের

নির্ভরযোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রকল্প ও ইঙ্গিতপূর্ণ সমাধানের পরীক্ষণের

ক্ষেত্রে, প্রকল্প ও ইঙ্গিতপূর্ণ সমাধান সঠিক কিনা, অন্য কোনো বিশ্বাসের সাথে এগুলো

সঙ্গতিপূর্ণ কিনা ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। প্রমাণ ও সত্যবিষয়ক বিষয়াবলীর যাচাইকরণের
মাধ্যমে বিষয়াবলীর যথার্থতা নিরূপণ করা হয়।

সমালোচনা

দর্শনে উত্থাপিত প্রশ্ন ও বিশ্বাসের যাচাইকরণে বিশ্লেষণের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু

দর্শনকে কেবল প্রশ্ন ও বিশ্বাসের বিচারমূলক পরীক্ষণ বা বিশ্লেষণ হিসেবে মনে করলে দর্শন

সম্পূর্ণরূপে নঞর্থক ও ধ্বংসাÍক বলে গণ্য হবে। দর্শন কেবল বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধান নয়,

অনুধ্যানমূলক অনুসন্ধানও। দর্শন জগৎ ও জীবন সম্বন্ধীয় মৌলিক প্রশ্নাবলীর

সদুত্তর বের করার চেষ্টা করে। সুতরাং বিশ্লেষণের সাথে সাথে অনুধ্যান ও সংশ্লেষণের

প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করতে হয়।

উপসংহার

দর্শনে বিশ্লেষণের মূল্য অপরিসীম। দর্শনে আলোচ্য বিষয়াবলীর দ্ব্যর্থকতা ও অস্পষ্টতাকে

বিশ্লেষণের সাহায্যে দূর করে এগুলোকে পরিষ্কার ও পরিস্ফুট করা যায়। দর্শনের অধিকাংশ

সমস্যাই ঘটে ভাষার জটিলতার কারণে। বিশ্লেষণী দার্শনিকরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই

জটিলতা দূর করে দর্শনকে সহজ ও প্রাঞ্জল করেছেন।

রচনামূলক প্রশ্ন

১। বিশ্লেষণী পদ্ধতি ব্যাখ্যা করুন।

সংক্ষিপ্ত উত্তরমূলক প্রশ্ন

১। বিশ্লেষণী পদ্ধতির অনুসারী কারা এবং তাঁদের বক্তব্য কি?

২। দার্শনিক অনুসন্ধানের পদ্ধতি হিসেবে বিশ্লেষণী পদ্ধতি কি যথার্থ? আপনার মতামত দিন।

ক) বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

সঠিক উত্তর লিখুন

১। বিশ্লেষণী পদ্ধতির অনুসারী

দার্শনিকবৃন্দ

র) প্রাচীন যুগের

রর) আধুনিক যুগের

ররর) মধ্যযুগের

ার) সাম্প্রতিক কালের

২। বিশ্লেষণী পদ্ধতির অনুসারী হলেন

র) প্লেটো

রর) ম্যুর

ররর) হেগেল

ার) কান্ট

৩। বিশ্লেষণী দার্শনিকদের মতে দার্শনিক অনুসন্ধানের পদ্ধতি হলো

র) স্বজ্ঞামূলক পদ্ধতি

রর) সংশ্লেষণমূলক পদ্ধতি

ররর) বিচারমূলক পদ্ধতি

ার) বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি

খ) সত্য হলে ‘স’ এবং মিথ্যা হলে ‘মি’ লিখুন।

১। ম্যূর ভাষা বিশ্লেষণ এবং শব্দ ও ধারণার বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব দেন।

২। ভিটগেনস্টাইন পদ ও ধারণার বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণের উপর গুরুত্ব দেন।

৩। বিশ্লেষণী পদ্ধতি ত্রæটিহীন।

৪। দর্শনে বিশ্লেষণের গুরুত্ব অপরিসীম।

সঠিক উত্তর
ক.

১। ার) সাম্প্রতিক কালের

২। রর) ম্যূর

৩। ার) বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি

খ.

১। স ২। মি ৩। মি ৪। স