Anirban1| অনির্বান – ১ Lyrics


অনির্বান আমার বন্ধু , অনির্বানের সাথে যখন আমার দ্বিতীয়বার
দেখা হয়েছিলো তখন সময়টা ছিলো বড় অদ্ভুত। আমরা হাইওয়ের উপর
দিয়ে অনেকদুরে একটা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি , লাল আকাশ ,
সন্ধ্যে হয়ে আসছে , দু ’ পাশে ফাঁকা মাঠ ।
আমরা চা খাবো বলে গাড়িটা দাড় করিয়েছি একটা বিচ্ছিন্ন
দ্বীপের মত চায়ের দোকানে। এমন সময় দেখতে পেলাম লাল
আকাশকে পেছনে রেখে একটা ছেলে মাঠ পার হয়ে আমার
দিকে এগিয়ে আসছে। আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো –
চিনতে পারছিস ? আমি বললাম – না ! বললো – ভালো করে দেখ ।
আমি সেই চুরি যাওয়া আলোতে ওকে চিনলাম , আমার বন্ধু অনির্বান ।
আমার চোখের সামনে পুরোনো দিনগুলো ছায়াছবির মত ভেসে উঠছে।
আমি ওকে প্রশ্ন করলাম – অনির্বান , তুই এখানে !! ও বললো –
তাইতো কথা ছিলো বন্ধু , আমাদের তো এখানেই থাকার
কথা ছিলো । আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ।
আমি খুব বোকার মত ওকে প্রশ্ন করলাম – অনির্বান কি করছিস এখন ? ও
বললো – যা কথা ছিলো বন্ধু , মানুষের মাঝখানেই আছি । আমি আর
দাড়িয়ে থাকতে পারছিনা , একটা অপরাধবোধ আমাকে গ্রাস করছে ।
ও বললো – তোর দেরি হয়ে যাচ্ছে । আমি গাড়িতে যেয়ে বসলাম ।
ও জানলার কাছে এসে বললো – এখন তো তোর নাম হয়ে গেছে ,
তুইতো বিখ্যাত হয়ে গেছিস ! সুখেই আছিস কি বল ! আমার গাড়ি স্টার্ট
নিয়ে নিয়েছে , অনির্বান আমার জীবন
থেকে মিলিয়ে যাচ্ছে …. .
অনির্বানের শেষ কথা গুলো আজও আমার কানে আলপিনের মত বেঁধে –
সুখেই আছিস ….
সুখেই আছিস ……… .
দেখে যা , যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান
কি সুখে রয়েছি আমি
কি সুখে বেচেছি গান
সেদিনের মিটিঙের মাইক
সেদিনের কলেজের স্ট্রাইক
সেদিনের মাতাল পদক্ষেপ
বে -দিক সিদ্ধান্তের আক্ষেপ
আজ কেঁদে এই মাপা পদচারন
সেদিনের তালের কাছে ম্লান
দেখে যা , যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান
কি সুখে রয়েছি আমি
কি সুখে বেচেছি গান
শ্রমিকের মুক্তির গান
কৃষকের হাতিয়ার শান
শ্রেনী হীন সমাজের স্বপ্ন
ঘৃনার প্রতিপালনেতে যত্ন
আজ তোর ঘামে ভেজে যে পথের ধূলো
হয়তো সেথায় আমার হতো স্থান
দেখে যা , যা অনির্বান
কি সুখে রয়েছে প্রান
কি সুখে রয়েছি আমি
কি সুখে বেচেছি গান…
বাঁশরিয়া বাজাও বাঁশি দেখিনা তোমায়গেঁয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।এ শহরে এসছো তুমি কবে কোন রাজ্য থেকে।তোমাদের দেশে বুঝি সব মানুষই বাঁশি শেখেআমাদের স্কুল-কলেজে শেখে লোকে লেখা-পড়া।প্রাণে গান নাই মিছে তাই – রবিঠাকুর মুর্তি গড়াতোমার ঐ দেহাতী গান দোলে যখন বাঁশির মুখেআমাদের নকল-ভন্ড কৃষ্টি চালায় করাত বুকেবুকে আর গলায় আমার শহর কলকাতায়গেঁয়ো সুর ভেসে বেড়ায় শহুরে হাওয়ায়।ঠেলা ভ্যান চালাও তুমি কিংবা ভাড়া গাড়ির ক্লিনারক’বছরে একবার যাও তোমার দেশের নদীর কিনারআগে পেলে বাঁশি বাজাও ফেলে আসা ঘরের ডাকেহেসে গিয়া এমন সুরে হয়ত ডাকো কোলকাতাকেফিরে এসে উদাম খাটো গায় গতরে ব্যস্ত হাতেমজুরিতে ভাগ বসাচ্ছে কারা তোমার কোলকাতাতেতাদেরই গাইয়ে আমি