ইতিহাসের বিষয়বস্তু বা পরিধি Scope or Subject Matter of History

ইতিহাস শব্দটি উচ্চারিত হলেই তার বিশালত্বের ব্যাপারটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মনের মধ্যে ফুটে ওঠে। ইতিহাস যদি হয় মানব সমাজের অতীত সম্পর্কে আলোচনা তাহলে ইতিহাসের পরিধি ঠিক ততটুকুই ব্যাপক। ইতিহাসের মূল উপজীব্য বিষয় হলো মানুষ। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা, কার্যক্রম যত শাখায় ও যতদূর বিস্তৃত ইতিহাসের পরিচিতিও ততদূর পরিব্যাপ্ত। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের জীবনধারণের যে বৈচিত্র্য কিংবা মানব সমাজের যে বহুবিধ রূপ রয়েছে- ইতিহাসের পরিধির ভিতরে কমবেশি তার সবটুকুই পরিধিভুক্ত। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ বন্যদশা ও বরবর অবস্থার মধ্যে ছিল। প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষ পর্বে মানুষ খাদ্য উৎপাদনের কৌশল আয়ত্ত করে খাদ্য উৎপাদক শ্রেণিতে পরিণত হতে থাকে ।

সভ্যতার সূচনালগ্নে মানবজীবনের বৈচিত্র্য কিংবা প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকগুলো এতবেশি ছিলো না। জ্ঞান চর্চা, তথ্য প্রযুক্তি, মানুষের নব উদ্ভাবন, সামনে এগিয়ে যাবার দুরন্ত বাসনা মানুষের জীবনকে যেমন ক্রমশ জটিল করে তুলেছে, তেমনিভাবে প্রকৃতিও নিজেকে তৈরি করে নিয়েছে স্বকীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের রূপ-কাঠামোয় ।

সপ্তদশ শতকের বিজ্ঞান বিপ্লব, অষ্টাদশ শতকের জ্ঞান বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, কূটনৈতিক বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব প্রভৃতি বিষয় আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ব্যাপক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। ঊনবিংশ শতকে রোমান্সবাদ, ডারউনের বিবর্তনবাদ, কার্ল মার্কসের সমাজতন্ত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।

বিংশ শতাব্দীতে ইতিহাসের পরিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্নায়ুযুদ্ধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য ইতিহাসকে আরও ব্যাপক একটি বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি দর্শন যেমন— ধর্মীয় দর্শন, রাজনৈতিক দর্শন ইতিহাস দর্শন, ইত্যাদি বিষয়গুলোর চর্চা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর ইতিহাসের বিষয়বস্তু বা পরিধির বিশালতা এভাবেই বেড়ে ওঠে। যাহোক ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু বা পরিধিসমূহ প্রতীয়মান হয়—

১. মানুষের উৎপত্তি ও বিবর্তন : কোনো কোনো পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে কখন, কীভাবে মানুষের উৎপত্তি হলো তা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিক। পিকিং মানব, জাভা মানব, নিয়ানডারথাল মানব থেকে শুরু করে কমপক্ষে যে তিনটি দৈহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আদিম অবস্থা থেকে মানুষের আধুনিক অবস্থায় রূপান্তর ও পরিবর্তন ঘটেছে, আর এসবই হচ্ছে ইতিহাসের বিষয়বস্তু ।

২. সমাজ জীবন : কালক্রমে মানুষ যখন সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে শুরু করে তখন পর্যায়ক্রমে তার সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। মানুষ সামাজিক জীব, তাই মানব সমাজে এ বিবর্তন প্রক্রিয়া ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩. ঘটনা প্রবাহ : বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিহাস রচিত হয়। বিভিন্ন ঘটনা কখন এবং কোথায় ঘটল, কারা ঘটাল,
ঘটনার প্রতিক্রিয়া ইত্যাদির আলোচনা একমাত্র ইতিহাসই করে থাকে। যখন থেকেই মানুষ ইতিহাস রচনা শুরু করেছে তখন থেকেই ইতিহাস রচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ঘটনা প্রবাহ ।

৪. অতীত কর্মকাণ্ড : মানুষের অতীত সংস্কৃতি, অতীত কর্মকাণ্ড ইত্যাদি হচ্ছে ইতিহাসের প্রধান বিষয়বস্তু ।


দার্শনিক জর্জ স্যান্টায়ানা তাই হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, “যে জাতি ইতিহাস সম্বন্ধে অজ্ঞ থাকে, সে জাতি ইতিহাসের ভুল-ভ্রাপ্তির পুনরাবৃত্তি ঘটাবার জন্য অভিশপ্ত হয়েই আছে।"

প্রখ্যাত দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, ইতিহাস শুধুমাত্র রাজা, তার সিংহাসন ও আমলা এবং যুদ্ধ জয়ের কাহিনিই নয়; বরং প্রকৃত ইতিহাস হলো কোনো সময় বা কালের জনসমষ্টির সার্বিক মানবিক দিক। তাই ঘূর্ণায়মান এ পৃথিবীতে সমাজের অতীত রূপ ও জীবন প্রণালি সম্পর্কে জানতে ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের সাক্ষী হয়ে ইতিহাস ধরে রেখেছে ঘটে যাওয়া সব স্মৃতিকথা। বর্তমানকে সুন্দর করে সাজাতে গিয়ে মানুষ বার বারই ফিরে যেতে চায় পেছনের দিকে।


এক সামাজিক ইতিহাসের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য

Nature or Characteristics of Social History

সামাজিক ইতিহাস অনুশীলনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকগণ সাধারণ সমাজতাত্ত্বিক উপ পদ্ধতির সামাজিক ইতিহাস পরিবর্তনশীল সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের বিকাশ এবং সামাজিক

ধারা সম্পর্কিত আলোচনা। সামাজিক ইতিহাস কোনো কল্প কাহিনি নয়। এটি একটি বিজ্ঞান। সমাজের বৈজ্ঞানিক আলোচনার সামাজিক ইতিহাসের মুখ্য বিষয় বলে বিবেচিত।

সামাজিক ইতিহাস হলো সমাজশিক্ষার সে অংশ যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কী করে একটি সমাজ ও জাতি অ
যুগ থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন প্রকার ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানের আধুনিক যুগে এসে পৌঁছেছে।

সুতরাং সামাজিক ইতিহাস বর্তমান সমাজের সাথে অতীতের তুলনা করে। সামাজিক ইতিহাসের পরিচিতি
আমরা এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারব। নিম্নে সামাজিক ইতিহাসের প্রকৃতি বা ৈ

১. পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি : সামাজিক ইতিহাস IHolistic দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই সমাজের বিশ্লেষ দে। ত

সামাজিক ইতিহাস মানব সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বা অধ্যয়ন।

২. সমাজের উৎপত্তি ও বিকাশের বিবরণ : সামাজিক ইতিহাস মানব সমাজ ও তার কর্মবিবর্তন আলোচনা করে। জীবনের চিত্র, শিকার ও সংগ্রহ সমাজ, উদ্যান সমাজ, পতপালন সমাজ কৃষি সমাজ, শিল্প সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে সামাজিক ইতিহাস।

৩. কার্যকরণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা : সামাজিক ইতিহাস মানুষের সামগ্রিক কার্যকলাপের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন। এটা অতীত ও বর্তমানের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের কার্যকরণ সম্পর্ক বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা চালায়।

৪. মূল্যবোধ নিরপেক্ষতা : সমাজবিজ্ঞানের মতো সামাজিক ইতিহাসও মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান। ধর্ম, দর্শন, নীতিশাস্ত্র

ইত্যাদির ন্যায় সামাজিক ইতিহাস মানবিক বিষয় নয়। সুতরাং সমাজবিজ্ঞানের সাথে সামাজিক ইতিহাসের সম্পর্ক অবিভাজ্য। ৫. জ্ঞানের তাত্ত্বিক শাখা : সামাজিক ইতিহাস জ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক শাখা, ব্যবহারিক শাখা নয়। সামাজিক- ঐতিহাসিক সমাজ ও বিভিন্ন প্রকার সামাজিক আন্তঃক্রিয়াকে নানা দিক থেকে বিশ্লেষণ করে মানব জ্ঞান ভাণ্ডারকে পরিপূর্ণ।

৬. সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা : হেনরি মেইন, এডওয়ার্ড, ওয়েস্টার মার্ক বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের সামাজিক ইতিহাসের

আলোচনা এবং সমাজবিজ্ঞানীদের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

৭. আপামর জনগণের ইতিহাস : সামাজিক ইতিহাস হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী আপামর জনগণের ইতিহাস। কি ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইতিহাস নয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রথা, সামাজিক বিধি-বিধান, বিভিন্ন আন্তঃমানবিক সম্পর্ক প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এ সরল পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক ইতিহাসের প্রকৃতি।

৮. সমাজ কাঠামোর বর্ণনা : সামাজিক ইতিহাস সমাজের বিভিন্ন কাঠামোর কার্যকরী বিষয়বস্তুর পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করে। ৯. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে আলোচনা : সামাজিক ইতিহাস, অতীত ইতিহাসের বর্ণনা দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ণয় করে। পৃথিবীর পর দেশেই কিছু না কিছু নিদর্শন আছে এবং কালক্রমে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। যেমন- নরসিংদীর উয়ারি বটেশ্বর, কুমিল্লার ময়নামতি, মিশরের পিরামিড, পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বগুড়ার মহাস্থান গড়, ঢাকার লালবাগ কেল্লা প্রভৃতি নিদর্শন সম্পর্কে সামাজিক ইতিহাসের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যায়। সুতরাং সামাজিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে আলোচনা।

৯. মহৎ গুণাবলি অর্জন : মানুষ হচ্ছে ইতিহাসের কেন্দ্রীয় বিষয়। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন, অতীও
খ্যাতিমান মনীষীদের শৌর্য-বীর্য ও মহৎ গুণাবলি জানা সম্ভব হয়।

:

১০. আত্মোপলব্ধির চাবিকাঠি : স্বীয় প্রকৃতি, আত্মপরিচয়, আত্মসচেতনতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা ইত্যাদি ইতিহাস পাঠে অবগত হওয়া যায়। কারণ অতীত অভিজ্ঞতার আলোকেই সমাজ তার সমস্যাসমূহের মোকাবিলা করে থাকে। সুতরাং ইতিহাস অভিজ্ঞতা অর্জনে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।

১১. বিনোদনের উৎস : সাহিত্যের রসাস্বাদন, নাটক, উপন্যাস, জীবনী, গল্প, শিল্পকলা, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চারু ও কারুকলা
ইত্যাদি বিষয়ে ইতিহাসের জ্ঞান ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

১২. আন্তর্জাতিক মৈত্রী প্রতিষ্ঠা : মানুষের পরধর্ম সহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। যেহেতু

ইতিহাস মানুষের মনের দিগন্তকে প্রসারিত করে।

১৩. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অর্জন : রাজনৈতিক ঘটনাবলি তথা সমকালীন রাজনীতির ধারা বোঝার পক্ষে ইতিহাস সবচেয়ে বেশি সহায়ক। অধ্যাপক সিলি (Seely) যথার্থই বলেছেন, "History is past politics, politics is present history." অর্থাৎ ইতিহাস হলো অতীতের রাজনীতি, আর রাজনীতি হলো বর্তমানের ইতিহাস ।

১৪. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন : আজকের উন্নত সংস্কৃতির মুলে রয়েছে বিগত দিনের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবদান। যেহেতু আজকের সংস্কৃতি বিগত দিনের সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই সাংস্কৃতিক ইতিহাস হতে দীক্ষা গ্রহণ করে সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।

১৫. পররাষ্ট্র নীতির দিক-নির্দেশনা : ইতিহাসের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং এক রাষ্ট্রের সাথে অপর রাষ্ট্রের যাবতীয় সম্পর্কের বিষয়েও জানতে পারি। সুতরাং পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে হলে ইতিহাস অধ্যয়ন করা অতীব জরুরি।

১৬. মানব জাতির ক্রমবিকাশের বিবরণ : মানব জাতির ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিক বিবরণ ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকে। ইতিহাস

মানব জাতির ক্রমবিকাশ, মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

১৭. সতর্কতা অবলম্বন : যেহেতু ইতিহাস অধ্যয়নের মাধ্যমে নানা দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, প্লাবন, মহামারি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও

এর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সম্পর্কে জানা যায়। সেহেতু যুগে যুগে বিভিন্ন জনপদে সংঘটিত এসব দুর্যোগ-দুর্বিপাকের বিবরণ, আগাম সতর্ক বার্তা জানার জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।

১৮. আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি : মানুষকে দৃঢ় প্রত্যয়ী করা, মানুষের আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা, বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় যুক্তি, বিচার ও বুদ্ধির

বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরীসীম।

১৯. জাতীয়তাবোধ ও আন্তর্জাতিকতাবোধ সৃষ্টি : শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে চেতনাবোধ প্রভৃতি ইতিহাস অধ্যয়নের মাধ্যমে জানা সম্ভব। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিশ্বজনীনভাবে উদ্বুদ্ধ করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম।

২০. বর্তমানকে জানা : বর্তমানকে যথাযথভাবে জানতে ও উপলব্ধি করতে হলে অতীতকে জানা আবশ্যক। তাই বলা যায়,

ইতিহাস জীবিত অতীত হিসেবে বর্তমানের মধ্যে বেঁচে থাকে । তাই বর্তমান ও অতীতকে জানতে ইতিহাস ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

২১. ইতিবৃত্ত সংরক্ষণ : বিভিন্ন সভ্যতার ক্রমবিবর্তন, নানা জাতির উত্থান-পতন, রাজা-বাদশার নানা কর্মকাণ্ডের বিবরণ সবই

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে। এসব সংরক্ষিত ইতিবৃত্ত থেকে পরবর্তী প্রজন্ম ব্যাপক দিক-নির্দেশনা লাভ করে থাকে । পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সামরিক ব্যক্তি, সমাজের প্রশাসক, মানব জাতির ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রভৃতি বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান আহরণে ইতিহাস শাস্ত্র সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। সুতরাং সমাজে বসবাসকারী সকলেরই ইতিহাস পাঠ একান্ত আবশ্যক।