সাংস্কৃতিক নবীভবন ও বিস্তার বলতে কি বোঝেন?

সংস্কৃতির বিকাশ
উবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঈঁষঃঁৎব
উদ্দেশ্য
এই পাঠটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন:
● সংস্কৃতির বিকাশের ধরন
● সংস্কৃতির বিকাশে নবীভবন ও ব্যাপ্তির তাৎপর্য
ভ‚মিকা
সংস্কৃতির শুরু কখন তা বলা এখনও সম্ভব নয়, কেননা আদিম মানুষের সংস্কৃতির নমুনা আমরা
খুব বেশি পাইনি। সাংস্কৃতির বিকাশ ভাষার ক্রমবর্ধমান বিকাশের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
প্রাগৈতিহাসিক কালে সংস্কৃতির বিকাশের নজীর আমরা প্রধানত: পাই বস্তুগত সংস্কৃতির
ভিতর। অঁংঃৎধষড়ঢ়রঃযবপঁং অভৎরপধহঁং নামক প্রজাতি থেকে আমরা হাতিয়ার ব্যবহারের
নমুনা পাই। অন্তত: এই সময় থেকে মানুষের জৈবিক বিবর্তন একই সাথে জৈবিক এবং
সাংস্কৃতিক যা পরবর্তীকালে শুধু সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হিসাবে রূপ গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়া
শুরু হয় অন্তত ৫০ লক্ষ বছর আগে। প্রথম পাথরের হাতিয়ার ব্যবহারের নজীর পাওয়া যায়
পাঁচ থেকে ছয় লাখ বছর আগে। মানুষ আগুনের ব্যবহার শিখেছিল সম্ভবত: দু'থেকে তিন লাখ
বছর আগে। যদিও প্রাগৈতিহাসিক কাল সম্পর্কে আমাদের ধারণা অস্পষ্ট, তবুও বলতে পারি
যে ৫০,০০০ বছর আগে মানুষ এক ধরনের গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন যাপন করছিল। পাথর থেকে
তৈরি হয়ে গিয়েছিল হাতিয়ার, মানুষ শীত থেকে বাঁচার জন্য তৈরি করেছিল বস্ত্র এবং আশ্রয়ের
জন্য নির্মাণ করেছিল বাসস্থান।
নিয়ান্ডারকাল যুগে মানুষকে কবর দেওয়া শুরু হয়েছিল। এর পাশাপাশি শুরু হয়েছিল ভাল্লুককে
কবর দেওয়ার রীতি যা থেকে বোঝা যায় ধর্ম বিকশিত হতে শুরু করেছিল। সংস্কৃতির বিকাশ
দ্রুত হয় যখন মানুষ স্থায়ী কৃষি জীবন শুরু করে। পুরানতত্ত¡বিদরা ১৪,০০০ থেকে ৯,০০০
বছরের সময়কালকে কৃষি বিপ্লবের সময় বলেছেন। ১৫,০০০ বছর আগে তুরস্ক, সিরিয়া এবং
ইরাকে স্থায়ী বাসিন্দারা বুনো গম আহরণ করেছিল। এর কিছু পরেই খাদ্য শস্য উৎপাদন শুরু
হয়।

কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সৃষ্টি হয় পুরাণবিদ গর্ডন চাইল্ড যাকে বলেছেন নগরের বিপ্লব টৎনধহ
জবাড়ষঁঃরড়হ। আমরা প্রথম নগরের ধ্বংসাবশেষ পাই প্রাচীন ইরাকের জেরিকো নামক শহরে
এখন থেকে প্রায় ৯,০০০ বছর আগে। এখানে বাস করত দু'হাজার লোক এবং বাড়ি গুলো
তৈরি হয়েছিল পোড়া মাটি এবং নল-খাগড়া দিয়ে।
এভাবেই প্রাচীনকাল থেকে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল যা আধুনিক কালে বিস্ময়কর দ্রুত গতি
অর্জন করেছে।
গুহাচিত্র
১৮৮০ সালে স্পেনের আলতামিরা গুহায় আবিস্কৃত হয়েছিল এক চমৎকার গুহাচিত্র।
গুহাচিত্রটি ছিল পুরনো প্রস্তর যুগের। ফ্রান্স, জার্মানী, অস্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশে নানা ধরনের
গুহাচিত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গুহাচিত্র ৩২,০০০ থেকে ১১,০০০ বছরের পুরনো।
এগুলো মানুষের আঁকা প্রথম ছবি যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এই ছবিগুলো হাড়ে, গুহার
দেয়ালে, পাথরে আঁকা ছবি। এই গুহাচিত্রগুলো সংখ্যায় অনেক এবং এখনও পাওয়া
যাচ্ছে। ১৯৯৫ সালে দক্ষিন-পূর্ব ফ্রান্সের ঈযধাঁবঃ গুহায় পাওয়া ছবিগুলো বেশ আলোড়ন
সৃষ্টি করেছে। এর এক বছর আগের পর্তুগালে ২০,০০০ বছর আগের একহাজার প্রস্তর
চিত্র পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে গুহাচিত্রগুলো বিক্ষিপ্তভাবে আঁকা
ছবি নয়, এ গুলো সুবিন্যস্ত প্রতীক। গুহাচিত্র যাদুর সাথে যুক্ত মনে করা হলেও, এর
সত্যিকার উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য আমাদের কাছে এখনও অজ্ঞাত।
নবীভবন ওহহড়াধঃরড়হ
সংস্কৃতির বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নবীভবন। সংস্কৃতিতে নতুন কোন চিন্তা,
ঘটনা বা কাজের অন্তর্ভূক্তিকে সংস্কৃতির নবীভবন বলা যায়। সংস্কৃতির নবীভবনের দু'টি রূপ
চিহ্নিত করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে আবিষ্কার উরংপড়াবৎু এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে উদ্ভাবনা
রহাবহঃরড়হ। আবিষ্কার হচ্ছে এমন কিছু যা ছিল, কিন্তু প্রথম জানা গেল। শনির নতুন চাঁদ
খুঁজে পাওয়া বা কলম্বাসের আমেরিকায় অবতরণ হল আবিষ্কার।
বিরাজমান বস্তু বা কাজের মধ্যে পরিবর্তন এনে তাৎপর্যপূর্ণ অভিনবত্ব সৃষ্টি হচ্ছে উদ্ভাবনা।
বিরাজমান বস্তু, কাজ বা আচরণে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংমিশ্রনের ফলে উদ্ভাবনা ঘটে।
মোটর গাড়ি, টেলিভিশন, গণতন্ত্র সবই উদ্ভাবনা।
আদিম সমাজে উদ্ভাবনা খুব কম। মানব ইতিহাসের অধিকাংশ উদ্ভাবনা ঘটেছে গত ৫০০
বছরে। উদ্ভাবনার হার ক্রমাগত বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়কে বলা যায় উদ্ভাবনার সময়।
সংস্কৃতির মধ্যে চলছে অন্তহীন উদ্ভাবনা।
ব্যাপ্তি উরভভঁংরড়হ
সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য আবিষ্কার ও উদ্ভাবনা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন এলাকার কোন
জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবিষ্কার বা উদ্ভাবনা হলে তা সহজে অন্যান্য এলাকায় বিস্তৃত হয়ে যায়।

কার্পাস চাষ শুরু হয়েছিল প্রথমে ভারতে এবং রেশম চীনে। কিন্তু এটি দিয়ে যে প্রক্রিয়ায়
কাপড় তৈরি হয় তার উদ্ভাবনা হয়েছিল নিকট প্রাচ্যে। আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তার
উদ্ভাবনা প্রাচীন গল [ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের প্রাচীন অধিবাসীদের গল বলা হয়] থেকে ক্রমশ:
ছড়িয়ে পড়েছিল সমস্ত বিশ্বে। সাংস্কৃতিক বিস্তার এখন বিস্ময়করভাবে দ্রুত। স্যাটেলাইট টিভি
বা কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার আমাদেরকে প্রভাবিত করছে ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা,
বিনোদন প্রভৃতি বিভিন্ন দৈনন্দিন ও আবশ্যকীয় কাজে-কর্মে। বর্তমান প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য
বিকাশ, বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক বিস্তার প্রচন্ড গতিতে ঘটছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা ব্যাপ্তি প্রত্যয়টিকে দেখেন এমন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে যেখানে পশ্চিমের
সংস্কৃতি উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রসারিত হচ্ছে।
সারাংশ
আদিম মানুষের প্রাপ্ত সংস্কৃতির নমুনার স্বল্পতার কারণে সংস্কৃতির শুরু কখন তা বলা সম্ভব
নয়। তবে অঁংঃৎধষড়ঢ়রঃযবপঁং অভৎরপধহঁং নামক প্রজাতির সময়কাল থেকে মানুষের
জৈবিক বিবর্তন একই সাথে জৈবিক ও সাংস্কৃতিক যা পরবর্তীতে শুধু সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
হিসাবে লক্ষ্যণীয়। পাথরের হাতিয়ার ব্যবহারের নজীর পাওয়া যায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ
বছর আগে। আর আগুনের ব্যবহার মানুষ শিখেছিল সম্ভবত: দু'থেকে তিন লাখ বছর
আগে। একথা বলা যায় প্রায় ৫০,০০০ বছর আগে মানুষ এক ধরনের গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন
যাপন করছিল। তখন পাথর থেকে তৈরি হয়েছিল হাতিয়ার, শীত থেকে বাঁচার জন্য বস্ত্র
এবং আশ্রয়ের জন্য বাসস্থান। সংস্কৃতির বিকাশ দ্রুত হয় মানুষের স্থায়ী কৃষি জীবন শুরুর
মধ্য দিয়ে। এক্ষেত্রে পুরাণতত্ত¡বিদরা ১৪,০০০ থেকে ৯,০০০ বছরের সময়কালকে
অভিহিত করেছেন কৃষি বিপ্লবের সময় বলে। কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি উদ্ভব হয় শহরের।
গর্ডন চাইল্ড নগরের বিকাশকে বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেন। এভাবে প্রাচীনকাল থেকে
সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল যা আধুনিক কালে বিস্ময়কর দ্রুত গতি লাভ করেছে।
সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নবীভবন যা সংস্কৃতিতে নতুন চিন্তা, ঘটনা বা
কাজের অন্তর্ভুক্তিকে নির্দেশ করে। সংস্কৃতির নবীভবনে আবিষ্কার ও উদ্ভাবন নামক দু'টি
রূপ বিদ্যমান। প্রথম জানা গেল এমন কিছু হল আবিষ্কার আর বিরাজমান বস্তু বা কাজের
মধ্যে পরিবর্তন এনে তাৎপর্যপূর্ণ অভিনবত্ব সৃষ্টি হচ্ছে উদ্ভাবনা। কোন এলাকার কোন
জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবিষ্কার বা উদ্ভাবনা হলে তা সহজেই অন্যান্য এলাকায় বিস্তৃত হয়।
আর এ প্রক্রিয়াটি হল সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি বা বিস্তার। সাংস্কৃতিক বিস্তার বর্তমানে
বিস্ময়করভাবে দ্রুত। সম্প্রতি প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য বিকাশ, বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির মধ্য
দিয়ে সাংস্কৃতিক বিস্তার প্রচন্ড গতিতে ঘটে চলছে।

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১. আজ থেকে কত বছর আগে প্রথম পাথরের ব্যবহার পাওয়া যায় ?
ক. ২-৩ লক্ষ খ. ৩-৪ লক্ষ
গ. ৫-১০ লক্ষ ঘ. ১১-১৫ লক্ষ
২. নগরের বিকাশকে কে বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেন?
ক. ডি.ডি. গোস্বামী খ. গর্ডন চাইল্ড
গ. রাম কৃষ্ণ মুখার্জী ঘ. উষা পাটনায়েক
৩. বিরাজমান বস্তু বা কাজের মধ্যে পরিবর্তন এনে তাৎপর্যপূর্ণ অভিনবত্ব সৃষ্টিকে বলে-
ক. আবিষ্কার খ. রূপান্তর
গ. উদ্ভাবন ঘ. খ ও গ উভয়ই
৪. কার্পাস চাষ প্রথমে কোথায় শুরু হয়েছিল?
ক. চীনে খ. রাশিয়ায়
গ. ইরাকে ঘ. ভারতে
৫. সমাজবিজ্ঞানীরা নিচের কোন প্রত্যয়টি দেখেন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে যেখানে পশ্চিমের
সংস্কৃতি উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রসারিত হচ্ছে?
ক. নবীভবন খ. ব্যাপ্তি
গ. নবীভবন ও বিস্তার ঘ. উপরের কোনটিই নয়
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. সংস্কৃতির নবীভবনে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনা বলতে কি বোঝায় ?
২. সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তিকে সমাজবিজ্ঞানীরা কিভাবে দেখেন ?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. সংস্কৃতিক বিকাশ কিভাবে ঘটে? বিস্তারিত আলোচনা করুন।
২. সাংস্কৃতিক নবীভবন ও বিস্তার বলতে কি বোঝেন? সংস্কৃতির বিকাশে নবীভবন ও ব্যাপ্তির
তাৎপর্য উল্লেখ করুন।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]