বাংলাদেশে জ্ঞাতিসম্পর্কের ধরন ব্যাখ্যা করবাংলাদেশে জ্ঞাতিসম্পর্কের সম্বোধন রীতি আলোচনা কর

মুখ্য শব্দ জ্ঞাতিসম্পর্ক, সম্বোধন রীতি।

জ্ঞাতিসম্পর্ক: ইংরেজি করহংযরঢ় শব্দের অর্থ জ্ঞাতিসম্পর্ক। রক্ত বা বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয়ে যখন কোনো মানুষ

কোনো সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তখন তাকে জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে। জ্ঞাতিসম্পর্ক বলতে মূলত রক্ত, বিবাহ,

বন্ধুত্ব, কাল্পনিক, দত্তক ইত্যাদির ভিত্তিতে সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে নির্দেশ করতে বোঝানো হয়ে

থাকে। তবে এটি একইসাথে সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার ফল।

জ্ঞাতিসম্পর্কের ধরন: সাধারণত বাংলাদেশ দুই ধরনের জ্ঞাতিসম্পর্ক দেখা যায়। যথা-বিবাহভিত্তিক জ্ঞাতিসম্পর্ক এবং

সগোত্রসূচক জ্ঞাতিসম্পর্ক। বিবাহভিত্তিক জ্ঞাতিসম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বৈবাহিক বন্ধন। বিয়ের মাধ্যমে শুধু একজন পুরুষ

আর নারীর মধ্যেই সম্পর্ক স্থাপিত হয় না বরং তাদের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যেও সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

যেমন- শ্যালক, শ্যালিকা, দুলাভাই, ভাবী, দেবর, ভাসুর, ননদ, শ্বশুর, শাশুড়ি ইত্যাদি সম্পর্ক দুই পক্ষ থেকেই সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, সগোত্রসূচক জ্ঞাতিসম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো রক্তের বন্ধন। যেমন- চাচা, ছেলে-মেয়ে, ভাই, জেঠা, ফুফু,

চাচাতো ভাই, চাচাতো বোন, ফুফাতো ভাই, ফুপাতো বোন ইত্যাদি সম্পর্ক। সামাজিক জ্ঞাতিসম্পর্ক নামে আরও এক

ধরনের জ্ঞাতিসম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে বিবাহিত কোনো সন্তানহীন দম্পতি যে সন্তান দত্তক হিসেবে গ্রহণ করে এবং তার

সাথে যে সম্পর্কের তৈরি হয় তাকে সামাজিক জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে। এছাড়াও আরও দুই ধরনের জ্ঞাতি আছে। যথা- মুখ্য

জ্ঞাতি এবং গৌণ জ্ঞাতি । স্বামী-স্ত্রী, বাবা- ছেলে, মা- মেয়ে, বাবা- মেয়ে, মা- ছেলে এবং ভাই- বোন এরা সবাই মুখ্য

জ্ঞাতি এবং এদের সাথে যে সম্পর্ক হয় তাকে মুখ্য জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে। অন্যদিকে চাচা/জেঠা-ভাতিজা/ভাতিজি,

শ্যালক/শ্যালিকা-দুলাভাই, ননদ/দেবর-ভাবী ইত্যাদি গৌণ জ্ঞাতি এবং এদের সাথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাকে গৌণ
জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে।

বাংলাদেশের মানুষের জ্ঞাতিসম্পর্কের সম্বোধন রীতি:

মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু সম্প্রদায়

আব্বা, বাজান, বাপজান বাবা নানা, নানাজি দাদু

আম্মা, আম্মু/ মা মা নানি দিদিমা

চাচা/কাকা/জেঠা জেঠামশাই/খুড়ো/ কাকা ভাবি/বাউজ বৌদি

মামা, মামাজি মামা দেবর/দেওর ঠাকুরপো

চাচি/কাকি/জেঠি কাকিমা/জেঠিমা/খুড়িমা ননদ ঠাকুরঝি

মামি, মামানি মাসিমা ফুপা/ফুপাজি পিসেমশাই

দাদা, দাদি ঠাকুর্দা, ঠাকুমা ফুফু/ফুফুজি পিসিমা

বোন/আপা, বুবু, বুজি দিদি ভাই দাদা

খালু মেসো দুলাভাই জামাইবাবু

খালা মাসি শালা শালাবাবু

মামাতো ভাই মামাতো দাদা মামাতো বোন মামাতো দিদি

মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু সম্প্রদায়

খালাতো ভাই মাসতুতো দাদা ফুফাতো ভাই পিসতুতো দাদা

খালাতো বোন মাসতুতো দিদি ফুফাতো বোন পিসতুতো দিদি

চাচাতো ভাই খুড়তুতো দাদা চাচাতো বোন খুড়তুতো দিদি

জ্ঞাতিসম্পর্কের ধরন একই ধরনের হলেও বাংলাদেশে হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে জ্ঞাতিসম্পর্কের

সম্বোধন রীতিতে ভিন্নতা রয়েছে। তবে আবহমান কালের সাংস্কৃতিক ঐক্য, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সম্পর্কেও কারণে

অনেক জ্ঞাতিসম্পর্কের সম্বোধন রীতিতে অভিন্ন শব্দও প্রয়োগ করা হয়। যেমন শালী/শ্যালিকা, ভাগ্নে/ভাগ্নি, ভাইপোভাইঝি/ভাতিজা-ভাতিজি, ভাসুর, বেয়াই, সম্বুন্ধী ইত্যাদি।

সারসংক্ষেপ

জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্কযুক্ত মানুষের মধ্যে

সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। বাংলাদেশের হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের জ্ঞাতিসম্পর্কের রীতিনীতিগুলো মূলত এদেশের

সংস্কৃতিরই অংশ। স্বামী-স্ত্রী, বাবা- ছেলে, মা- মেয়ে, বাবা- মেয়ে, মা- ছেলে এবং ভাই- বোন এরা সবাই মুখ্য জ্ঞাতি

এবং এদের সাথে যে সম্পর্ক হয় তাকে মুখ্য জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে। অন্যদিকে চাচা/জেঠা-ভাতিজা/ভাতিজি,

শ্যালক/শ্যালিকা-দুলাভাই, ননদ/দেবর-ভাবী ইত্যাদি গৌণ জ্ঞাতি এবং এদের সাথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাকে গৌণ
জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে।

পাঠোত্তর মূল্যায়ন-৭.৪

সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন

১। চাচা/জেঠা-ভাতিজা/ভাতিজি কোন ধরনের জ্ঞাতিসম্পর্ক?

(ক) সামাজিক জ্ঞাতি (খ) মুখ্য জ্ঞাতি

(গ) গৌণ জ্ঞাতি (ঘ) উপরের কোনটিই নয়

২। জ্ঞাতি সম্পর্ক প্রধানত কত প্রকার?

(ক) ২ প্রকার (খ) ৩ প্রকার

(গ) ৪ প্রকার (ঘ) ৫ প্রকার

বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম

ইউনিট ০১ পৃষ্ঠা ১১৭