অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের আলোকে শ্রমবিভাজনকে ব্যাখ্যা করুন।


অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান

মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে হয়। সমাজ গঠনের সাথে অর্থনীতি
ওতপ্রোতভাবে জড়িত।যে কোন সমাজের অর্থনীতির একটি সাধারণ রূপ থাকে যা অর্থনৈতিক
কর্মকান্ডের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। সমাজবিজ্ঞানীরা অর্থনীতিকে প্রধানত: দেখে
থাকেন তিনটি ভিত্তিতে: শ্রম বিভাজন, সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। বিশেষায়ন ও দক্ষতা হল শ্রম
বিভাজনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী ও পুরুষের মধ্যে সর্বদা শ্রম বিভাজন থাকলেও শিল্পায়িত
সমাজে এটি ধারণ করে নতুন ও সুনির্দিষ্ট রূপ। শ্রম বাজারে নারী-পুরুষের ব্যবধানে নারীদের দক্ষতা
কম, পুরুষের কাজে নারীরা অক্ষম ও নারীদের গৃহস্থালী কর্ম পালনীয় বলে মনে করা হয়। শ্রম
বিভাজন নিয়ে সমাজবিজ্ঞানে তাৎপর্যময় আলোচনার অবতারণা করেন ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী এমিল
দুরক্যাঁ। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রাক-শিল্পায়িত ও শিল্পায়িত সমাজে মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করেন।
সম্পত্তি কোন বস্তু নয় এবং এর মালিকানাকে বিভিন্নরূপে-ব্যক্তি-মালিকানা, রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও
সাধারণ সম্পত্তিরূপে দেখা যায়। মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আদিম সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিলনা
বলে মনে করা হয়। তবে নৃতাত্তি¡ক গবেষণায় আদিম সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা লক্ষ্য করা
যায়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণার মূলত: বিকাশ ঘটেছে ধনতান্ত্রিক সমাজে। প্রাক-বৃটিশ ভারতীয়
সমাজে ভ‚মির মালিকানা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও এ কথা প্রযোজ্য যে, জমির প্রাচুর্যের কারণে
ব্যক্তিগত মালিকানার তেমন বিকাশ এখানে ঘটেনি।
সমাজের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার একটি সমনি¦ত রূপই হল ঐ সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
আধুনিক যুগে ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র-এ দু'ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা লক্ষণীয়।-এই তিনটি বিষয়েই এ
ইউনিটে আলোচনা করা হয়েছে।

● শ্রমবিভাজনের ধারণা
● অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের আলোকে শ্রমবিভাজন , কর্মসংস্থান ও লিঙ্গভিত্তিক
বিভাজন
ভ‚মিকা
শ্রমবিভাজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ এ্যাডাম স্মিথ ও রিকার্ডো। এডাম
স্মিথ মনে করতেন অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি মূল উপাদান হচ্ছে বিশেষজ্ঞতা এবং
শ্রমবিভাজন । বিনিময় ও বাজার ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠে শ্রমবিভাজন । বাজার যত
বড় হবে ততই বেড়ে যাবে শ্রমবিভাজন এবংমানবিক দক্ষতা ও পারদর্শিতা। শ্রমবিভাজন শুধু
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরি করেনা, তা পরস্পর-নির্ভরশীলতার জন্ম দেয়, তৈরি করে সামাজিক
বাঁধনকে। অর্থনীতিতে শ্রমবিভাজন বলতে বোঝায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাজের জায়গা যা
ফ্যাক্টরীতে কাজকে খন্ড খন্ড করে বিশেষ ব্যক্তির উপর অর্পন করা। কোন ব্যক্তি উৎপাদন
প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ, সুনির্দিষ্ট ও খন্ডিত কাজ বা ভ‚মিকা পালন করে। এর ফলে বিশেষায়িত
জ্ঞান, দক্ষতা এবং উৎপাদন বেড়ে যায়। একজন ডাক্তার যখন বিদেশে পড়াশুনা এবং
অভিজ্ঞতা অর্জন করে আসেন তা প্রায় ২৫ বছরের শিক্ষালাভের ফলজাত। সুতরাং তাঁর দক্ষতা
অনেক বেশি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এই দক্ষতা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সাম্প্রতিক সমাজবিজ্ঞানে শ্রমবিভাজনের পাশাপাশি কাজের সাথে যুক্ত ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, মর্যাদা
এবং সুযোগ-সুবিধার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মর্যাদা এবং
আয় অনেক বেশি। যে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তির অবস্থান নির্ভর করে বিশেষিত জ্ঞান ও
দক্ষতার উপর। একটি কারখানায় ব্যবস্থাপক, কেরানী এবং শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষমতা, মর্যাদা
এবং বেতনের যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় তা দক্ষতাভিত্তিক।
সাম্প্রতিক কালে শ্রম বিভাজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক
শ্রমবিভাজন ঝবীঁধষ উরারংরড়হ ড়ভ খধনড়ঁৎ। কোন কোন নৃবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী মনে
করেন নারী-পুরুষের শ্রমবিভাজন জৈবিক সূত্রে নির্ধারিত। পিটার মার্ডক চবঃবৎ গঁৎফড়পশ
২২৪ টি সমাজের উপাত্ত থেকে দেখিয়েছেন এসব সমাজে কিছু কাজ প্রধানত: নির্দিষ্ট থাকে
পুরুষের জন্য এবং কিছু কাজ নারীর জন্য। শিকার, কাঠ কাটা, খনিতে কাজ যার জন্য দৈহিক
শক্তির প্রয়োজন সেগুলো পুরুষের কাজ। রান্না, খাদ্য সংগ্রহ, পানি সংগ্রহ, কাপড় বোনা হচ্ছে
নারীদের কাজ। সন্তান লালনের জন্য নারীকে ঘরে থাকতে হয়, তাই নারীর কাজ গৃহ-
কেন্দ্রিক। সমাজবিজ্ঞানী ট্যালকট পার্সনস্ও মনে করতেন নারীদের দিতে হয় প্রকাশমুখী

নেতৃত্ব যার পরিসর হচ্ছে ঘর এবংযার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের অন্তরঙ্গ এবং আবেগময়
সামাজিকীকরণে মূল ভ‚মিকা পালন করা।
সমাজবিজ্ঞানী এ্যান ওকলী অহহ ঙধশষবু দেখিয়েছেন পিটার মার্ডক, পার্সনস্ এবং অন্যান্য
জৈবিক নির্ধারণবাদে বিশ্বাসী সমাজবিজ্ঞানীরা তথ্যগতভাবে ভ্রান্ত। আফ্রিকায় কংগোর অরণ্যে
মুবুতি পিগমীদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক কোন শ্রমবিভাজন নেই। নারী-পুরুষ একই সাথে শিকার
করে। নারী ও পুরুষ একইভাবে সন্তানের দেখাশুনা করে।
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া অঞ্চলে আদিবাসীদের মধ্যে নারীরা সীল এবং মাছ শিকার করে
থাকে।
আধুনিক যুগেও নারীদের পুরুষদের ক্ষেত্রে কর্মরত দেখা যায়। নারীরা চীনে, কিউবা এবং
ইসরায়েলে সৈন্যবাহিনীতে যথেষ্ট পরিমানে চাকুরী করছে। ভারতে নির্মাণ শিল্পে বার শতাংশ
নারী। এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশে খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের এক-চতুর্থাংশ
নারী।
নারী-পুরুষের শ্রমবিভাজনের খুব নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট একটি রূপ তৈরি হয়েছিল শিল্পবিপ বের -
যুগে। ইউরোপে সামন্তযুগে উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল গৃহস্থালীভিত্তিক। গৃহস্থালীর সমস্ত মানুষনারী, পুরুষ, কিশোর এবং বৃদ্ধ সবাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করত। প্রাক-শিল্পযুগে
তাই নারী-পুরুষের আলাদা শ্রমের বিভাজন ছিলনা। শিল্প বিপ্লব কাজের ক্ষেত্রকে সরিয়ে নিয়ে
এল গৃহস্থালী থেকে ফ্যাক্টরী, দোকান এবং অফিসে। আলাদা হয়ে পড়ল ঘর এবং কাজের
জগৎ। এটি লিঙ্গ-সম্পর্কের ক্ষেত্রে সূচনা করল এক গভীর পরিবর্তন। নারীদের স্থান হল ঘরে
এবং পুরুষেরা দায়িত্ব নিল আয়-সংস্থানের।এই শ্রমবিভাজন বিরাজমান ছিল মধ্যশ্রেণীর
নারীদের মধ্যে। নারীদের স্থান গৃহস্থালী কাজে এই ভাবাদর্শ নারীদের উঁচু দক্ষতা অর্জনের পথে
বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ছবি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
নারীরা তখন থেকে কার্যক্ষেত্রে প্রবেশ করতে শুরু করে। নারীদের শ্রমশক্তিতে যোগদানের হার
এখন অত্যন্ত বেশি এবং অনেকে আশংকা করছেন নারীরা ক্রমশ: পুরুষের জায়গা দখল করে
নেবে। তবুও নারীদের কর্মক্ষেত্র মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিষয়টিকে বলা হচ্ছে
আনুভ‚মিক পৃথকীকরণ ঐড়ৎরুড়হঃধষ ঝবমৎবমধঃরড়হ । অন্যদিকে নারীরা কম দক্ষতার কাজে
নিয়োজিত থাকছে। একে বলা হচ্ছে উলম্ব পৃথকীকরণ ঠবৎঃরপধষ ঝবমৎবমধঃরড়হ । ফলে লিঙ্গীয়
শ্রমবিভাজন এখনও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে।
এ্যাডাম স্মিথের সূত্র ধরে সমাজবিজ্ঞানে শ্রমবিভাজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন প্রখ্যাত
সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুরক্যাঁ ঊসরষব উঁৎশযবরস। শ্রমবিভাজনের ক্ষেত্রে তিনি প্রাক-শিল্পায়িত
ও শিল্পায়িত সমাজের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করেন। প্রাক-শিল্পায়িত সমাজে
তুলনামূলকভাবে শ্রমবিভাজন ছিল অবিশেষিত ঁহংঢ়বপরধষরুবফ। সেখানে সামাজিক সংহতি
ঝড়পরধষ ঝড়ষরফধৎরঃু গঠিত হতো ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সাদৃশ্যতার উপর। তারা একই বিশ্বাস,
মূল্যবোধ এবং বৃহত্তর পরিসরে একই ভ‚মিকায় অংশীদার হতো। এই একতাবদ্ধতা বা
একরূপীতা তাদেরকে গভীর সাম্প্রদায়িক জীবনের বন্ধনে বেঁধে রাখতো। দুরক্যাঁ এই ধরনের
সংহতিকে যান্ত্রিক সংহতি গবপযধহরপধষ ঝড়ষরফধৎরঃু বলে অভিহিত করেন এবং ব্যাখ্যা দেন।
দুরক্যাঁ আরেক ধরনের সংহতির কথা বলেন যা কেবল শিল্পায়িত বা আধুনিক সমাজে
বিদ্যমান। এই সংহতিকে তিনি নামকরন করেন জৈবিক সংহতি ঙৎমধহরপ ঝড়ষরফধৎরষু। এই
সংহতিতে কোন একরূপীতা নেই, বরং রয়েছে ভিন্নতা। এই ধরনের সংহতিতে মানুষের রয়েছে
বিশেষ বিশেষ দক্ষতা, ভ‚মিকা এবং পেশা। সমাজের কর্মকান্ড বহুমুখী এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। কিন্তু

একটি মানুষের ভ‚মিকা এবং পেশা সীমাবদ্ধ। গতানুগতিক সমাজে একজন কৃষক হয়তো চাষ
করছেন, মাছ ধরছেন, গরুর রক্ষণা-বেক্ষণ করছেন, বৃষ্টির সময়ে ঘর মেরামত করছেন। কিন্তু
আধুনিক সমাজে একজন শিক্ষক হয়ত সমাজবিজ্ঞানের তত্ত¡ পড়াচ্ছেন, তাঁর অন্য কোন ভ‚মিকা
বা পেশা নেই। এর ফলে তাঁর দক্ষতা অনেক বেশি। কিন্তু অন্য মানুষের উপর তাঁর
নির্ভরশীলতা প্রচন্ড। বেতন না পেলে তাঁকে ধার নিতে হচ্ছে ব্যাংক থেকে। বিদ্যুৎ বা পানির
সমস্যা হলে মিস্ত্রী ডাকতে হচ্ছে, টেলিফোন সমস্যা হলে ডাকতে হচ্ছে টেলিফোন মিস্ত্রীকে।
টেলিভিশন খারাপ হলে নিয়ে যেতে হচ্ছে সার্ভিস সেন্টারে। এভাবে আধুনিক সমাজে মানুষ
পরস্পর নির্ভরশীল।
জীবের দৈহিক গঠনের মত যেমন বিভিন্ন অংশগুলো পৃথক এবং একসঙ্গে জীবের রক্ষণা-বেক্ষণ
কাজ করে, তেমনি শিল্পায়িত সমাজে সামাজিক একক ঝড়পরধষ টহরঃ-এর রক্ষনা-বেক্ষণে
পেশাগত ভ‚মিকাগুলো বিশেষায়িতভাবে ঝঢ়বপরধষরুবফ ও একত্রে কাজ করে। এর ফলে
পারস্পরিক আন্ত:নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। দ্রব্যের উৎপাদন ও তার ব্যবস্থায়নে শিল্পায়িত
সমাজের মানুষ সুনির্দিষ্ট ভ‚মিকায় দক্ষ বা বিশেষজ্ঞ। বিশেষীকরণের জন্য প্রয়োজন
সহযোগিতা। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যের নকশায়ন, প্রস্তুতকরণ ও
বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বেশ বড় ধরনের বিশেষজ্ঞদের ঝঢ়বপরধষরংঃং প্রয়োজন পড়ে।
দুরক্যাঁ মনে করেন বিশেষিত শ্রমবিভাজন ও শিল্পায়িত সমাজের দ্রুত বৃদ্ধি সামাজিক সংহতির
জন্য বিপদজনক।তা নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি বা শ্রেয়োবোধহীনতার সৃষ্টি করে। ফলে বিশেষিত
শ্রম বিভাজনের জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধ ও নিয়ম-নীতি। তা ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং
প্রদান করবে সহযোগিতার কাঠামো।
সারাংশ
বিশেষজ্ঞতা ও শ্রমবিভাজন কে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল উপাদান বলে মনে করেন
অর্থনীতিবিদ এ্যাডাম স্মিথ।বিনিময় ও বাজার ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠে
শ্রমবিভাজন। অর্থনীতিতে শ্রমবিভাজন বলতে বোঝায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বা কাজের
জায়গা যা ফ্যাক্টরীতে কাজকে খন্ড খন্ড করে বিশেষ ব্যক্তির উপর অর্পন করা। এখানে
দক্ষতা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজবিজ্ঞানে শ্রমবিভাজনের পাশাপাশি কাজের সাথে
যুক্ত ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, মর্যাদা এবংসুযোগ-সুবিধার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যে কোন
প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তির অবস্থান নির্ভর করে বিশেষিত জ্ঞান ও দক্ষতার উপর।
শ্রমবিভাজনের ক্ষেত্রে সম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক
শ্রমবিভাজন। কোন কোন নৃবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী নারী-পুরুষের শ্রমবিভাজনকে মনে
করেন জৈবিক সূত্রে নির্ধারিত। পিটার মার্ডক তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন সমাজে কিছু
কাজ প্রধানত: নির্দিষ্ট থাকে পুরুষের জন্যএবং কিছু কাজ নারীর জন্য। সমাজবিজ্ঞানী
ট্যালকট পার্সনস্ও মনে করতেন নারীদের দিতে হয়প্রকাশমূখী নেতৃত্বে যার পরিসর হচ্ছে
ঘর। সমাজবিজ্ঞানী এ্যান ওকলী, মার্ডক, পার্সনস্ ও অন্যান্য জৈবিক নির্ধারণবাদে
বিশ্বাসীদের তথ্যকে দেখিয়েছেন ভ্রান্ত হিসাবে। তিনি উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন
আফ্রিকার কংগোর অরন্যের মুবুতি পিগমীদের কথা যাদের মধ্যে কোন লিঙ্গভিত্তিক
শ্রমবিভাজন নেই।
নারী-পুরুষের শ্রমবিভাজনের খুব নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট একটি রূপ তৈরি হয়েছিল শিল্পবিপ্লবের
যুগে। প্রাক-শিল্প যুগে নারী-পুরুষের আলাদা শ্রমবিভাজন ছিলনা। শিল্পবিপ্লব কাজের
ক্ষেত্রকে সরিয়ে নিয়ে এল গৃহস্থালী থেকে ফ্যাক্টরী, দোকান এবং অফিসে। এটি লিঙ্গ
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সূচনা করল এক গভীর পরিবর্তন। নারীদের স্থান হল ঘরে এবং পুরুষরা
দায়িত্ব নিল আয় সংস্থানের। ‘নারীদের স্থান হল গৃহস্থালী কাজে' এই ভাবাদর্শ নারীদের

উচুঁ দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ চিত্র সম্পূর্ণ
পাল্টে যেতে থাকে। নারীদের শ্রমশক্তিতে যোগদানের হার এখন অত্যন্ত বেশি। তবে
নারীদের কর্মক্ষেত্র কয়েকটি ক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে লিঙ্গীয় শ্রমবিভাজন এখনও
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানে শ্রমবিভাজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী এমিল
দুরক্যাঁ। শ্রম বিভাজনের ক্ষেত্রে তিনি প্রাক-শিল্পায়িত ও শিল্পায়িত সমাজের মধ্যে মৌলিক
পার্থক্য লক্ষ্য করেন। তিনি প্রাক-শিল্পায়িত সমাজে শ্রমবিভাজন অবিশেষিত ছিল বলে
মনে করেন। সেখানে সামাজিক সংহতি গঠিত হতো ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সাদৃশ্যতার
উপর। একতাবদ্ধতা বা একরূপীতা তাদেরকে গভীর যৌথ জীবনের বন্ধনে বেঁধে
রাখতো। দুরক্যাঁ এই ধরনের সংহতিকে নাম দেন যান্ত্রিক সংহতি। পক্ষান্তরে, শিল্পায়িত
বা আধুনিক সমাজে বিদ্যমান সংহতিকে তিনি বলেন জৈবিক সংহতি যেখানে কোন
একরূপীতা নেই এবং রয়েছে ভিন্নতা। এই ধরনের সংহতিতে রয়েছে বিশেষ বিশেষ
দক্ষতা, ভ‚মিকা এবং পেশা। গতানুগতিক সমাজের তুলনায় আধুনিক সমাজে মানুষের
নির্ভরশীলতা বেশি।
দ্রব্যের উৎপাদন ও তার ব্যবস্থায়নে শিল্পায়িত সমাজের মানুষ সুনির্দিষ্ট ভ‚মিকায় দক্ষ বা
বিশেষজ্ঞ। বিশেষিত শ্রমবিভাজনে ও শিল্পায়িত সমাজের দ্রুত বৃদ্ধি সামাজিক সংহতির
জন্য বিপদজনক বলে দুরক্যাঁ মনে করেন। কাজেই বিশেষিত শ্রমবিভাজনের জন্য
প্রয়োজন মূল্যবোধ ও নিয়মনীতি।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১. অর্থনীতিতে শ্রমবিভাজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন কে?
ক. এ্যাডাম স্মিথ খ. রিকার্ডো
গ. উভয়ই ঘ. এমিল দুরক্যাঁ
২. সমাজবিজ্ঞানের আলোকে শ্রমবিভাজন কে ব্যাখ্যা করেন কে ?
ক. অগ্যুস্ত্ কঁৎ খ. হাবার্ট স্পেনসর
গ. কার্ল মার্কস্ ঘ. এমিল দুরক্যাঁ
৩. শিল্পায়িত বা আধুনিক সমাজে কোন ধরনের সংহতি বিদ্যমান?
ক. যান্ত্রিক খ. জৈবিক
গ. উভয়ই ঘ. কোনটিই নয়
৪. 'টহরভড়ৎসরঃু' বা 'একরূপীতা' রয়েছে কোন সংহতিতে?
ক. জৈবিক খ. জৈবিক ও যান্ত্রিক
গ. যান্ত্রিক ঘ. অজৈবিক
৫. বিশেষিত শ্রমবিভাজন ও শিল্পায়িত সমাজের দ্রুত বৃদ্ধি সামাজিক সংহতিতে নিচের
কোনটি সৃষ্টি করে?
ক. নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি খ. শ্রেয়োবোধহীনতা
গ. ক ও খ উভয়ই ঘ. মঙ্গলজনক পরিস্থিতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. শ্রমবিভাজন কি ?

২. এমিল দুরক্যাঁ যান্ত্রিক ও জৈবিক সংহতি বলতে কি বুঝিয়েছেন ?
রচনামূলক প্রশ্ন
১. সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমবিভাজন বলতে কি বোঝায়? আলোচনা করুন।
২. অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের আলোকে শ্রমবিভাজনকে ব্যাখ্যা করুন।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]