বিভিন্ন সমাজে স্তরবিন্যাসের রূপগুলো কি? বিশ্লেষণ করুন।


● এথনিসিটি

ভ‚মিকা

সমাজে শ্রেণী কিন্তু স্তরবিন্যাসের একটি মাত্র রূপ নয়। ধ্রুপদী সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবার

স্তরবিন্যাসকে দেখেছেন ক্ষমতার সামাজিক বন্টন হিসাবে । ক্ষমতার বন্টন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে

ঘটে সম্পদ বা বিশেষ করে সম্পত্তির ভিতর দিয়ে। স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে তা তৈরি করে শ্রেণী।

সামাজিক পরিসরে ক্ষমতার প্রকাশ মর্যাদা বা সম্মানের ভিতর যা মর্যাদা গোষ্ঠী তৈরি করে।

ক্ষমতার রাজনৈতিক প্রকাশ হচ্ছে রাজনৈতিক দলের মধ্যে।

পরবর্তীকালের সমাজবিজ্ঞানীদের আলোচনায় রাজনৈতিক দল স্তরবিন্যাসের একটি অবয়ব

হিসাবে বিবেচিত হয়নি। ভেবারের শ্রেণীর ধারণাটিও পরবর্তীকালে তেমন আর ব্যবহার

হয়নি। ভেবারের সবচেয়ে বড় অবদান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে তাঁর মর্যাদাগোষ্ঠীর

ধারণা। পরবর্তীকালে সমাজবিজ্ঞানে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে স্তরবিন্যাসের তিনটি ভিন্ন

বিষয়ের উপর। এগুলো হচ্ছে লিঙ্গ ও বয়স ভিত্তিক স্তরবিন্যাস এবং এথনিসিটি।

রাজনৈতিক দল, মর্যাদাগোষ্ঠী এবং শ্রেণী

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবারের মতে স্তরবিন্যাস সৃষ্টি হয় ক্ষমতার অসম বন্টনের ফলে।

স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অসম বন্টন আমরা লক্ষ্য করি তিনটি ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক দলের

মধ্যে আমরা ক্ষমতার সরাসরি এবং রাজনৈতিক প্রকাশ দেখতে পাই। সমাজের পরিসরে

সম্মান বা মর্যাদার যে অসম প্রকাশ তা বিরাজ করে মর্যাদাগোষ্ঠীর ভিতরে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক,

বিশেষ করে সম্পত্তির বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠে শ্রেণী।



মর্যাদাগোষ্ঠী

সমাজে মানুষকে মর্যাদার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা যায়। প্রত্যেকটি স্তরকে একটি

মর্যাদাগোষ্ঠী হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। মর্যাদাগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি বিশেষ জীবন-রীতি

খরভব ঝঃুষব। মর্যাদাগোষ্ঠীর সদস্যরা অন্য গোষ্ঠীর সাথে সামাজিক যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রাখে।

মর্যাদাগোষ্ঠী হচ্ছে প্রাক্-ধনতান্ত্রিক সমাজের স্তরবিন্যাসের রূপ। জাত-বর্ণ প্রথা বা মধ্যযুগে

ইউরোপের এস্টেট ব্যবস্থা মর্যাদাগোষ্ঠীর প্রধান রূপ।

শ্রেণী

ম্যাক্স ভেবার শ্রেণী প্রত্যয়টি সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন ধনতান্ত্রিক সমাজের জন্য। তাঁর

শ্রেণীর সংজ্ঞা তাই বাজারের সাথে যুক্ত। যে সব মানুষের বাজারে একই অবস্থান থাকে এবং

একই পুরস্কার লাভ করে তাদের একটি শ্রেণী বলা যায়। প্রত্যেক শ্রেণীর একই ধরনের জীবন

সম্ভাবনা খরভব ঈযধহপব থাকে।

শ্রেণীর সমকালীন চিন্তা

ভেবারের শ্রেণীর ধারণা থেকে সমাজবিজ্ঞানীরা একটি গভীর অর্ন্তদৃষ্টি পেয়েছিলেন। বাজারে

প্রতিযোগিতা করতে হলে মানুষের প্রয়োজন নানা ধরনের দক্ষতা এবং গুণ। আধুনিক সমাজে

শিক্ষাগত এবং পেশাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা জীবন সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয় এবং উঁচু আয়ের

সুযোগ করে দেয়। ফলে সমকালীন সমাজবিজ্ঞানীরা শ্রেণী বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করেছেন

পেশা, শিক্ষা এবং আয় অথবা শুধু মাত্র পেশা। পেশা সাধারণত: শিক্ষা এবং আয়কে

প্রতিফলিত করে।

বৃটেনের শ্রেণীকাঠামোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখবো নিচের বিন্যাস।

উঁচু শ্রেণী টঢ়ঢ়বৎ ঈষধংং বৃটেনের ১ শতাংশ এই শ্রেণীর অন্তভর্‚ক্ত। বড় শিল্পপতি, বিশাল

ভ‚সম্পত্তির মালিক এবং অভিজাত শ্রেণী মিলে তৈরি হয়েছে এই শ্রেণী। এন্থনি গিডেন্সের মতে

পুরনো মধ্য শ্রেণীতে পড়ে ছোট ব্যবসার মালিক, স্থানীয় দোকানের মালিক এবং ছোট কৃষক।

এদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। উঁচু মধ্যশ্রেণীর টঢ়ঢ়বৎ গরফফষব ঈষধংং এ অন্তভর্‚ক্ত থাকে

ব্যবস্থাপক শ্রেণী এবং পেশাজীবী লোক। নিচু মধ্যশ্রেণীতে রয়েছে সাধারণত: অফিস কর্মচারী

দোকান কর্মচারী, শিক্ষক, নার্স প্রভৃতি অকায়িক শ্রমজীবী লোক। ২০০১ সালে বৃটেনে

সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকÑ ৫১ শতাংশ মধ্যশ্রেণীর অন্তভর্‚ক্ত হয়েছে।

শ্রমিক শ্রেণী

নিয়মিতভাবে কায়িকশ্রমের মাধ্যমে যারা অর্থ উপার্জন করে তাদের সমন¦য়ে গড়ে উঠে শ্রমিক

শ্রেণী। উঁচু শ্রমিক শ্রেণী টঢ়ঢ়বৎ ডড়ৎশরহম ঈষধংং গড়ে উঠে দক্ষ শ্রমিকদের নিয়ে। তাদের



আয় বেশি এবং চাকুরির নিরাপত্তা রয়েছে। নিচু শ্রমিক শ্রেণীতে রয়েছে অদক্ষ এবং আধাদক্ষ

কর্মজীবীরা যাদের আয় কম এবং কাজের নিরাপত্তা কম।