সমাজবিজ্ঞানের ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর সুবিধা-অসুবিধা আলোচনা করুন।


● বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা
● সমাজবিজ্ঞানে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ বা পর্যায়
● সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত বিভিন্ন পদ্ধতির ধারণা ও সুবিধা-অসুবিধা
ভ‚মিকা
বিজ্ঞান যেসব বিষয়ের বিবরণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা তুলে ধরতে চায় তা নির্ভর করে যে
পদ্ধতির মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় তার উপর। পদ্ধতি বলতে
আমরা বুঝি যে সব উপায় ঞবপযহরয়ঁব এবং কৌশলের মাধ্যমে আমরা উপাত্ত সংগ্রহ এবং
জ্ঞান অর্জন করি। প্রত্যেক বিজ্ঞানের গবেষণা এবং জ্ঞান অর্জনের নিজস্ব কৌশল রয়েছে। তবে
প্রত্যেকটি বিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে সাধারণ ধর্ম তাকে অনুসরণ করে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
বলতে আমরা বুঝি বিজ্ঞান সম্পর্কে স্বীকৃত ধারণা এবং গবেষণার নির্দিষ্ট পর্যায় ও ধাপ।
বিজ্ঞান সম্পর্কে তিনটি সাধারণভাবে স্বীকৃত ধারণা রয়েছে।
এক. আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে স্বতন্ত্র এবং বাস্তব বিশ্ব রয়েছে যার কিছুটা আমরা জানি এবং
যার অনেক কিছুই আমরা জানিনা।
দুই. এই বিশ্বে যা কিছু বিরাজমান এবং ঘটমান তা নির্দিষ্ট কারণ এবং ফলের সম্পর্কের মধ্যে
যুক্ত। জগতে যা কিছু ঘটে তার পেছনে কারণ রয়েছে।
তিন. এই বর্হিজগতের জ্ঞান আমরা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করতে পারি যা
আমাদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও পছন্দ-অপছন্দের সাথে যুক্ত নয় এবং
যাচাইযোগ্য। যখনই দেখা যায় এটি ভ্রান্ত তখনই এটিকে বর্জন করা হয়।
বিজ্ঞানের যুক্তি পরম্পরা
বিজ্ঞানের কারণ-ফলের সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় চলক ঠধৎরধনষব নামক প্রত্যয়ের মাধ্যমে। চলক
দু'ধরণের-স্বাধীন এবং নির্ভরশীল। স্বাধীন চলক সময়ের দিক থেকে আগের এবং কারণকে
নির্দেশ করে। নির্ভরশীল চলক সময়ের দিক থেকে পরের এবং ফলের প্রতীক। বিজ্ঞানীরা এ
দু'টি চলকের মধ্যে কারণ-ফলের সম্পর্ক খোঁজেন। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা উপকল্প বা
ঐুঢ়ড়ঃযবংরং তৈরি করেন এবং বাস্তব জগতে যাচাই করেন।
আমরা সাধারণভাবে বিশ্বাস করি আমাদের পরমায়ু নিয়তি নির্ধারণ করে।কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা
লক্ষ্য করেন গড় আয়ু সামাজিক শ্রেণীর সাথে যুক্ত। শ্রেণীর সিঁড়ি বেয়ে যত নামা যায় তত গড়
আয়ু কমে যায়। অন্যদিকে, শিল্পায়ন যত বেড়ে যায় তত বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যায়। সামাজিক
সংহতি যত কমে যায় তত আতœহত্যা বেড়ে যায়। যাচাই পর্যায়ে দেখা যায় কোন একটি স্বাধীন
পাঠ-৫
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
বলতে আমরা বুঝি
বিজ্ঞান সম্পর্কে
স্বীকৃত ধারণা এবং
গবেষণার নির্দিষ্ট
পর্যায় ও ধাপ।

চলক নয়, হয়ত একাধিক স্বাধীন বা মধ্যবর্তী চলক ওহঃবৎাবহরহম ঠধৎরধনষব ফলের সাথে
যুক্ত। ফলে উপকল্পকে পরিমার্জিত করতে হয়। কখনও উপকল্প মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন তা
বাতিল করতে হয়।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি একটি যুক্তিবদ্ধ প্রক্রিয়া যার কয়েকটি ধাপ বা পর্যায় রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়া কিভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য আমরা গøক ঈযধৎষবং ণ.
এষড়পশ এবং স্টার্ক জড়ফহবু ঝঃধৎশ এর গবেষণার উল্লেখ করতে পারি।
এক. সমাজতাত্তি¡ক সমস্যা : ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসীবাদী
ধর্মগত সহিংস হাঙ্গামা ঘটেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে কেন এটি ঘটছে এটি
ব্যাখ্যা করার জন্য বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'জন সমাজবিজ্ঞানীকে
দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দুই. পর্যালোচনা : ইহুদী এবং খ্রীষ্ট ধর্মের মধ্যে বিরোধ পর্যালোচনা করে তাঁরা যুক্তিভিত্তিক
এবং যাচাই-পূর্ব একটি তত্ত¡ তৈরি করলেন।
নিচের ছকে এটি দেখানো হল।
উপকল্প প্রণয়ন
এই তত্তে¡র প্রত্যয়গুলো হচ্ছে১. ধর্মীয় গোঁড়ামি ঙৎঃযড়ফড়ীু : খ্রীষ্ট ধর্মে গোঁড়া বিশ্বাস।
২. নির্দিষ্টবাদ চধৎঃরপঁষধৎরংস : একমাত্র খ্রীস্টধর্ম খাঁটি ধর্ম এবং অন্য সমস্ত ধর্ম ভ্রান্ত।
৩. ঐতিহাসিক ইহুদীরা যীশুর ‘হত্যাকারী' ঐরংঃড়ৎরপধষ ঔবংি ধং 'পৎঁপরভরবৎং'
৪. এই বিশ্বাসগুলো মিলিত হয়ে ধর্মীয় বিরোধিতা জবষরমরড়ঁং যড়ংঃরষরঃু তৈরি করে।
৫. এই বিরোধিতা ধর্মের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে ও ইহুদী-বিরোধিতা তৈরি করে।
গবেষণা নকশা প্রণয়ন
এই তত্ত¡কে যাচাই করার জন্য গøক এবং স্টার্ক একটি গবেষণা নকশা প্রণয়ন করলেন। তাদের
প্রশ্নমালার নমুনা তুলে ধরা হল।
গবেষণাযোগ্য সমস্যা নির্বাচন
গবেষণা কর্ম পর্যালোচনা
উপকল্প প্রণয়ন
গবেষণা নকশা প্রণয়ন
উপাত্ত সংগ্রহ
সিদ্ধান্ত

কলাম ক কলাম খ
আপনি কি মনে করেন ইহুদীরা এরকম? যদি ইহুদীরা এমন হয়, তবে
আপনি কেমন বোধ করবেন?
হাঁ কিছুটা না বন্ধুসূলভ অবন্ধুসূলভ কোনটিই নয়
ইহুদীরা ব্যয়ে বেশ
কুন্ঠাহীন এবং দান করে
থাকে
ইহুদীরা খ্রীষ্টানদের
চেয়ে বেশি ব্যবসায়ে
ঠকিয়ে থাকে।
উপাত্ত সংগ্রহ
প্রশ্নমালা তৈরি এবং যাদের উপর সমীক্ষা চালাবেন তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা স্থির করে
তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০০ লোকের উপর একটি জরিপ চালালেন।
ফলাফল বিশে ষণ -
জরিপের ভিত্তিতে প্রাপ্ত উপাত্তকে তাঁরা দু'টি চলকের মাধ্যমে তুলে ধরলেন-ধর্মীয় গোঁড়ামী
(স্বাধীন চলক) এবং ইহুদী-বিরোধিতা (নির্ভরশীল চলক)।
সিদ্ধান্ত
তাঁদের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেল যাদের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামী বেশি তাদের মধ্যে ইহুদীবিরোধিতাও বেশি।
গবেষণার সামাজিক ব্যবহার
গøক এবং স্টার্ক তাদের বিশে ষণ থেকে অনুমান করলেন যে ১৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন জনগণ -
সাম্প্রদায়িক। ১৯৬৬ সালে গøক এবং স্টার্কের গবেষণা প্রকাশিত হবার পর তা ব্যাপক সাড়া
তৈরি করল। সমাজবিজ্ঞানী দু'জনের যথেষ্ট সমালোচনা করা হল। কিন্তু গøক এবং স্টার্ক কথা
বলছিলেন তথ্যের ভিত্তিতে। তাঁদের অবহেলা করা গেলনা। গীর্জা কর্তৃপক্ষ তাঁদের ডাকলেন
এবং দু'বছর ধরে সমস্ত দেশে তাঁরা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুললেন।
সমাজবিজ্ঞানের মূল পদ্ধতি হচ্ছে এই ধরনের জরিপ পদ্ধতি। কিন্তু সমাজবিজ্ঞান অন্যান্য
পদ্ধতিরও সাহায্য গ্রহণ করে থাকে।
সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত পদ্ধতি
● জরিপ পদ্ধতি ঝঁৎাবু গবঃযড়ফ
সমাজবিজ্ঞানের
মূল পদ্ধতি হচ্ছে
জরিপ পদ্ধতি।

এটি একটি কৌশল যা প্রশ্নমালা বা সাক্ষাৎকার-অনুসূচী ব্যবহার করে কোন নির্দিষ্ট বা
প্রতিনিধিত্বমূলক জনসংখ্যা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
সুবিধা
❐ এই পদ্ধতির দ্বারা গবেষক উপকল্প ঐুঢ়ড়ঃযবংরং কে পরীক্ষা করতে পারে।
❐ কারণ-ফলের সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়।
❐ সাধারণীকরণ করা সম্ভবপর।
অসুবিধা
❐ জরিপ জনগণের মতামত, ও মূল্যবোধকে নির্দেশ করে, তাদের আচরণকে নয়।
❐ জরিপ কেবলমাত্র বাহ্যিক, গভীর নয়।
● অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ চধৎঃরপরঢ়ধহঃ-ঙনংবৎাধঃরড়হ
এটি প্রধানত: সামাজিক বা সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের পদ্ধতি যা সমাজবিজ্ঞানেও ব্যবহৃত হয়ে
থাকে। এই পদ্ধতিতে একজন গবেষক কোন ছোট জনগোষ্ঠী-উপজাতির অংশের মধ্যে বা
একটি গ্রামে নয় মাস বা তার অধিকাল সময় ধরে বসবাস করে ঐ জনগোষ্ঠীর সামাজিক
প্রতিষ্ঠান, সম্পর্ক, জীবনাচরণ এবং দ্বন্দ¡ সংহতি বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা অর্জন করেন এবং
প্রকাশ করেন।
সুবিধা
❏ গবেষক স্বাভাবিক আচরণগত রূপকে গভীরভাবে দেখতে পান।
❏ গবেষক সামাজিক জীবনের নতুন প্রেক্ষাপটে প্রবেশ করতে পারেন।
অসুবিধা
❏ প্রাপ্ত ফলাফল উদ্দেশ্যভিত্তিক।
❏ সাধারণীকরণ করা সম্ভব নয়।
❏ গবেষকের পক্ষপাত প্রাপ্ত ফলাফলকে বিকৃত করতে পারে।
● পরীক্ষণ পদ্ধতি ঊীঢ়বৎরসবহঃধষ গবঃযড়ফ
কারণ ও ফলাফলের একটি নিয়মভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত অনুসন্ধান হচ্ছে পরীক্ষণ পদ্ধতি।
পরীক্ষণ পদ্ধতিতে একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী দু'টি দলকে ঈড়হঃৎড়ষ মৎড়ঁঢ় এবং
ঊীঢ়বৎরসবহঃধষ মৎড়ঁঢ় নামে অভিহিত করে কোন স্বাধীন চলকের সাথে পরীক্ষামূলক দলের
সম্পর্ক তৈরি করে দেখা হয় তা ঈড়হঃৎড়ষ মৎড়ঁঢ় এর তুলনায় কত বেশি ভিন্নতা [পরীক্ষামূলক
দলে] তৈরি করতে পেরেছে। এই পরিবর্তন স্বাধীন চলকের অবদান।
সুবিধা
❐ ফলাফল এখানে স্পষ্ট।
❐ সত্যতা নিরূপণে পুনরায় গবেষণা সম্ভব।

অসুবিধা
❐ এ পদ্ধতির ব্যবহার সমাজবিজ্ঞানে খুব সীমাবদ্ধ।
❐ আচরণ পরীক্ষাগার এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ভিন্নতর হতে পারে।
ইদানিংকালে সমাজবিজ্ঞানে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ এবং গুণগত পদ্ধতির পর বিশেষ
গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। ১৯৭০ সালের পূর্বে মনে করা হত সমাজবিজ্ঞান হবে
পদ্ধতিগতভাবে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মত যা দৃষ্টবাদ চড়ংরঃরারংস -এ বিশ্বাসী। এর পর
অনেক গ্রন্থে সমাজবিজ্ঞানের পদ্ধতিগুলোর একটি বিশাল তালিকা দেওয়া হয়। এর
অধিকাংশই সমাজবিজ্ঞানের পদ্ধতি নয়। পরিসংখ্যান জ্ঞানের একটি শাখা এবং গণিতের
মত বিজ্ঞানের একটি ভাষা। সব বিজ্ঞানই একে ব্যবহার করে। ঐতিহাসিক পদ্ধতি
ইতিহাসের একটি পদ্ধতি এবং কোন কোন বিরল ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানীরা এর আশ্রয় নিয়ে
থাকেন। ইতিহাসের উপাত্ত ব্যবহার করে গবেষণার অর্থ এই নয় যে, সেটিতে ঐতিহাসিক
পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞান যদি বিজ্ঞান হয় তবে দার্শনিক পদ্ধতি আর
পদ্ধতি হতে পারে না। সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন সমাজ এবং সময়ের প্রপঞ্চও নিয়ে চর্চা করে।
ফলে সমাজবিজ্ঞানে তুলনার বিষয়টি গ্রোথিত। এর জন্য নতুন কোন পদ্ধতির প্রয়োজন
নেই।
সমাজবিজ্ঞানে পদ্ধতিগত গবেষণায় বহুধাবাদ গবঃযড়ফড়ষড়মরপধষ চষঁৎধষরংস তৈরি হয়েছে।
বলা হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের জন্য কোন ইস্পাত কঠিন ছক নেই। আমরা নানা ভাবে জ্ঞান অর্জন
করতে পারি। কখনও কখনও জ্ঞান অর্জনের বিকল্প পদ্ধতিগুলো অনেক বেশি ফলবান হয়। এর
ফলে সমাজবিজ্ঞানে নানা গুণগত পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ
চধৎঃরপরঢ়ধহঃ-ঙনংবৎাধঃরড়হ, দ্রুত গ্রামীণ অবস্থা নির্ণয় জধঢ়রফ জঁৎধষ অঢ়ঢ়ৎধরংধষ,
অংশগ্রহণমূলক দ্রুত অবস্থা নির্ণয় চধৎঃরপরঢ়ধঃড়ৎু জধঢ়রফ অঢ়ঢ়ৎধরংধষ, ফোকাস দল আলোচনা
ঋড়পঁং এৎড়ঁঢ় উরংপঁংংরড়হ, গভীর সাক্ষাৎকার ওহ-উবঢ়ঃয ওহঃবৎারবি প্রভৃতি নানা ধরনের
গবেষণা কৌশল এখন সমাজবিজ্ঞানে জনপ্রিয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে সুবিধা তা অবশ্য এই
কৌশলগুলো থেকে সবটুকু পাওয়া যায় না।
সারাংশ
পদ্ধতি বলতে আমরা বুঝি যে সব উপায় এবং কৌশলের মাধ্যমে আমরা উপাত্ত সংগ্রহ ও
জ্ঞান অর্জন করি। প্রত্যেক বিজ্ঞানের গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য রয়েছে নিজস্ব
কৌশল। এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে বিজ্ঞান সম্পর্কে স্বীকৃত ধারণা এবং গবেষণার
নির্দিষ্ট পর্যায় ও ধাপ। বিজ্ঞানে কারণ ও ফলের সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় স্বাধীন ও
নির্ভরশীল নামক দু'ধরনের চলকের মাধ্যমে। এ উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানীরা উপকল্প প্রণয়ন করে
বাস্তব জগতে যাচাই করেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি একটি যুক্তিবদ্ধ প্রক্রিয়া যার রয়েছে
কয়েকটি ধাপ বা পর্যায়। এগুলো হল-গবেষণাযোগ্য সমস্যা নির্বাচণ, গবেষণা-কর্ম
পর্যালোচনা, উপকল্প প্রণয়ন, গবেষণা-নকশা প্রণয়ন, উপাত্ত সংগ্রহ, ফলাফল বিশ্লেষণ ও
সিদ্ধান্ত।
সমাজবিজ্ঞানের মূল পদ্ধতি হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। জরিপ পদ্ধতিতে প্রশ্নমালা বা
সাক্ষাৎকার অনুসূচী ব্যবহার করে প্রতিনিধিত্বমূলক কোন জনসংখ্যা থেকে তথ্য সংগ্রহ
করা হয়। সমাজবিজ্ঞান অন্যান্য পদ্ধতিরও সাহায্য গ্রহণ করে থাকে। ইদানিংকালে
সমাজবিজ্ঞানে অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ও গুণগত পদ্ধতির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ
করা হচ্ছে। অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে গবেষক
গভীর অর্ন্তদৃষ্টি লাভ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করা সম্ভব নয়। সত্যতা

নিরূপনে পূণরায় গবেষণা সম্ভব এমন একটি পদ্ধতি হল পরীক্ষণ পদ্ধতি যা হচ্ছে কারণ
ও ফলাফলের একটি নিয়মভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত অনুসন্ধান।
পাঠোত্তর মূল্যায়ন
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১. নিচের কোন ক্ষেত্রে আচরণগত তথ্যের পর্যাপ্ততা দুর্লভ ?
ক. পরীক্ষণ পদ্ধতি খ. জরিপ পদ্ধতি
গ. অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ঘ. ঐতিহাসিক উৎস
২. কোন পদ্ধতির দ্বারা গবেষক প্রকল্পকে পরীক্ষা করতে পারে?
ক. জরিপ খ. ঐতিহাসিক
গ. অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ঘ. উপরের কোনটিই নয়
৩. পরীক্ষণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি প্রযোজ্য?
ক. ফলাফল এখানে স্পষ্ট এবং একাধিক অর্থবিহীন
খ. গবেষকের পক্ষপাত প্রাপ্ত ফলাফলকে বিকৃত করে
গ. স্বাভাবিক আচরণগত গভীর দৃষ্টিভঙ্গী গবেষক এখানে দেখতে পান
ঘ. উপরের সবগুলো
৪. গবেষণাকে পর্যাপ্ত তথ্যের উপর অবশ্যই নির্ভর করতে হয় নিচের কোন ক্ষেত্রে উক্তিটি
প্রযোজ্য ?
ক. পরীক্ষণ পদ্ধতি খ. ঐতিহাসিক পাঠ
গ. জরিপ পদ্ধতি ঘ. অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রধান ধাপগুলো কি কি ?
২. সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুণগত পদ্ধতিগুলো উল্লেখ করুন।
রচনামূলক প্রশ্ন
১. সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো কি কি? যে কোন তিনটি পদ্ধতি আলোচনা করুন।
২. সমাজবিজ্ঞানের ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর সুবিধা-অসুবিধা আলোচনা করুন।

FOR MORE CLICK HERE
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মাদার্স পাবলিকেশন্স
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১ম পর্ব
আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস
আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ
ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস
মুঘল রাজবংশের ইতিহাস
সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি
অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষ
পৌরনীতি ও সুশাসন
অর্থনীতি
অনার্স ইসলামিক স্টাডিজ প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত
অনার্স দর্শন পরিচিতি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত

Copyright © Quality Can Do Soft.
Designed and developed by Sohel Rana, Assistant Professor, Kumudini Government College, Tangail. Email: [email protected]