ঐতিহাসিক পদ্ধতি কী?
উত্তর ভূমিকা : মানব সভ্যতার ক্রমবিবর্তন ও মানুষের দ্বারা সংঘটিত অতীতের কাজের ওপর গবেষণার ফসল হলো ইতিহাস। সুদূর অতীত ও নিকট অতীতের বিভিন্ন উৎসের যথাযথ সন্ধান লাভ এবং উৎসের ওপর গবেষণা করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উদ্ধার করেন ঐতিহাসিক। ইতিহাস রচনায় একজন ঐতিহাসিককে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়। যা সাধারণত ঐতিহাসিক পদ্ধতি নামে সমধিক পরিচিত।
● ঐতিহাসিক পদ্ধতি : নিম্নে ঐতিহাসিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
ক. ঐতিহাসিক পদ্ধতির সংজ্ঞা : যে সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করে অতীতের কোনো ঘটনা, প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানাদি সম্পর্কে সমীক্ষা চালানো হয় তাকে ঐতিহাসিক পদ্ধতি বলে। অতীতের ওপর সর্বাত্মক অনুসন্ধান পরিচালনা করে যতদূর সম্ভব সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিতে হয় এবং গবেষণাকৃত তথ্যের গভীরে প্রবেশ করে এর নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ঐতিহাসিককে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করতে হয়। এ কারণে যথার্থ নিয়ম ও সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসৃত না হলে প্রামাণ্য ইতিহাস রচনা করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে ।
খ. ঐতিহাসিক পদ্ধতির বিভিন্ন দিক : সর্বজনীন ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করার জন্য একজন ঐতিহাসিককে ঐতিহাসিক পদ্ধতির নিম্নোক্ত দিকগুলো অনুসরণ করা একান্ত আবশ্যক :
১ উৎস সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া : ইতিহাসের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাস উৎসভিত্তিক । উৎস ছাড়া ইতিহাস রচনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় । বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করতে হলে ঐতিহাসিককে যথাযথভাবে উৎস সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হবে। ঐতিহাসিককে উৎসের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে (প্রত্নতাত্ত্বিক ও লিখিত উৎস) অবগত থেকে গবেষণার মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস রচনা করতে হবে।
২. উৎস হতে তথ্য বের করা : ইতিহাসের উৎস জোগাড়করণ, উৎসের শ্রেণিবিভাগ, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলাদা করার পর সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে ঐতিহাসিককে উৎস হতে তথ্য বের করে আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় সঠিক ফল প্রাপ্তির জন্য ঐতিহাসিককে যথাসম্ভব উৎসের সমকালীন সময়ে ফিরে যেতে হবে । একজন ঐতিহাসিক গভীর অনুসন্ধান, গবেষণা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে উৎস কোন প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা বের করতে পারলে ঐতিহাসিক পদ্ধতি সার্থক হবে। ৩. ধারাবাহিকতা ও সময়ানুক্রমিকতা : ধারাবাহিকতা ও সময়ানুক্রমিতা ইতিহাসের মূল আলাচ্য বিষয় । ঐতিহাসিকগণ প্রাপ্ত উৎস ও তথ্যসমূহকে বস্তুনিষ্ঠ করার পাশাপাশি সেগুলোকে ধারাবাহিক ও সময়ানুক্রমিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন। ঘটনা ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি যথাযথভাবে সময় কাল উল্লেখ করতে হবে। উৎস, তথ্য ও ঘটনার সময় উল্লেখ না করলে ঐতিহাসিক পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলা যাবে না ।
৪. ভৌগোলিক অবস্থানগত নির্দেশনা : ইতিহাস রচনা করার সময় তথ্য যাচাই বাছাই করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি উৎস ও ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থানগত নির্দেশনা প্রদান করাও একান্ত আবশ্যক। ইতিহাস রচনা করার সময় ঐতিহাসিককে স্থানের উল্লেখ সহকারে ইতিহাস রচনা করতে হয়। কারণ পৃথিবীর সব ঘটনাই কোনো না কোনো ভৌগোলিক অবস্থানে সংঘটিত হয়ে থাকে। যা ঐতিহাসিক পদ্ধতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, যথাযথভাবে ইতিহাস রচনা করতে হলে সুষ্ঠুভাবে ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার । ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ ব্যতীত ঐতিহাসিক সত্যাসত্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না এবং সঠিক ইতিহাস আড়ালেই থেকে যায়, যা প্রকৃত ইতিহাসচর্চার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
গবেষণা কী? গবেষণা : নিম্নে গবেষণা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
● ঐতিহাসিক পদ্ধতি : নিম্নে ঐতিহাসিক পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
ক. ঐতিহাসিক পদ্ধতির সংজ্ঞা : যে সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করে অতীতের কোনো ঘটনা, প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানাদি সম্পর্কে সমীক্ষা চালানো হয় তাকে ঐতিহাসিক পদ্ধতি বলে। অতীতের ওপর সর্বাত্মক অনুসন্ধান পরিচালনা করে যতদূর সম্ভব সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিতে হয় এবং গবেষণাকৃত তথ্যের গভীরে প্রবেশ করে এর নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ঐতিহাসিককে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করতে হয়। এ কারণে যথার্থ নিয়ম ও সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসৃত না হলে প্রামাণ্য ইতিহাস রচনা করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে ।
খ. ঐতিহাসিক পদ্ধতির বিভিন্ন দিক : সর্বজনীন ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করার জন্য একজন ঐতিহাসিককে ঐতিহাসিক পদ্ধতির নিম্নোক্ত দিকগুলো অনুসরণ করা একান্ত আবশ্যক :
১ উৎস সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া : ইতিহাসের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাস উৎসভিত্তিক । উৎস ছাড়া ইতিহাস রচনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় । বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করতে হলে ঐতিহাসিককে যথাযথভাবে উৎস সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হবে। ঐতিহাসিককে উৎসের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে (প্রত্নতাত্ত্বিক ও লিখিত উৎস) অবগত থেকে গবেষণার মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস রচনা করতে হবে।
২. উৎস হতে তথ্য বের করা : ইতিহাসের উৎস জোগাড়করণ, উৎসের শ্রেণিবিভাগ, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলাদা করার পর সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে ঐতিহাসিককে উৎস হতে তথ্য বের করে আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় সঠিক ফল প্রাপ্তির জন্য ঐতিহাসিককে যথাসম্ভব উৎসের সমকালীন সময়ে ফিরে যেতে হবে । একজন ঐতিহাসিক গভীর অনুসন্ধান, গবেষণা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে উৎস কোন প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা বের করতে পারলে ঐতিহাসিক পদ্ধতি সার্থক হবে। ৩. ধারাবাহিকতা ও সময়ানুক্রমিকতা : ধারাবাহিকতা ও সময়ানুক্রমিতা ইতিহাসের মূল আলাচ্য বিষয় । ঐতিহাসিকগণ প্রাপ্ত উৎস ও তথ্যসমূহকে বস্তুনিষ্ঠ করার পাশাপাশি সেগুলোকে ধারাবাহিক ও সময়ানুক্রমিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন। ঘটনা ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি যথাযথভাবে সময় কাল উল্লেখ করতে হবে। উৎস, তথ্য ও ঘটনার সময় উল্লেখ না করলে ঐতিহাসিক পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলা যাবে না ।
৪. ভৌগোলিক অবস্থানগত নির্দেশনা : ইতিহাস রচনা করার সময় তথ্য যাচাই বাছাই করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি উৎস ও ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থানগত নির্দেশনা প্রদান করাও একান্ত আবশ্যক। ইতিহাস রচনা করার সময় ঐতিহাসিককে স্থানের উল্লেখ সহকারে ইতিহাস রচনা করতে হয়। কারণ পৃথিবীর সব ঘটনাই কোনো না কোনো ভৌগোলিক অবস্থানে সংঘটিত হয়ে থাকে। যা ঐতিহাসিক পদ্ধতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, যথাযথভাবে ইতিহাস রচনা করতে হলে সুষ্ঠুভাবে ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার । ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসরণ ব্যতীত ঐতিহাসিক সত্যাসত্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না এবং সঠিক ইতিহাস আড়ালেই থেকে যায়, যা প্রকৃত ইতিহাসচর্চার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।