এতোক্ষণ যে আলোচনা করলাম তার সারমর্ম হলো, রোগ একটা কষ্টিপাথর যা বান্দার পরীক্ষার জন্য আসে। আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, রোগ মঙ্গল ও সফলতার সোপান। হাদীস থেকে আমরা জানি যে “আল্লাহ্ যাকে কল্যাণ দান করতে চান তাকে কষ্টে ফেলেন।” তাই রোগ জান্নাত লাভের অসীলাস্বরূপ। রোগ মানুষের গুনাহকে দূর করে। এটি পাপের ক্ষতিপূরণস্বরূপ এবং গুনাহের কাফ্ফারা গুনাহ্ মাফের অসীলা । তাই রোগীর মর্যাদা অনেক বেশি। রোগীর দু'য়া ফেরেশতাদের দু'য়ার সমতুল্য। একজন রোগী যদি ধৈর্যশীল, শোকরগুয়ার ও আল্লাহ্র প্রতি নির্ভরশীল হয়ে যায়, তখন তার প্রতি আল্লাহ্র রহমত বাড়তে থাকে। ফলে রোগ তার জন্য রহমতস্বরূপ হয়ে যায়। আর রোগের কারণে সে আল্লাহ্র প্রতি আরো নিবিষ্ট হয়। সুতরাং এ অবস্থায় সে কোনো দু'য়া করলে তা কবূল হয়ে যায়। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “তুমি কোনো রোগীকে দেখতে গেলে তখন তাকে তোমার জন্য দু'য়া করতে বলবে। নিশ্চয়ই তার (রোগীর) দু'য়া ফেরেশতাদের দু'য়ার মতো।" (ইবনে মাজাহ)
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি, রোগীর নিকট দু'য়ার জন্য অনুরোধ করাও সুন্নত। এর মধ্যে নেকি নিহিত রয়েছে। রোগীর দু'য়া কবুল হবার কারণ হচ্ছে, যেহেতু সে সর্বদা কষ্ট ভোগ করতে থাকে তাই আল্লাহ্র প্রতি তার মনোযোগ অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সে সর্বদা আল্লাহ্র করুণাপ্রার্থী হয়ে থাকে। সে নিজেকে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণকারী মনে করে। রোগ যন্ত্রণায় সে সর্বদা আল্লাহকে ডাকতে থাকে। ইমাম গাযালি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, রোগ বা অসুস্থতা ঈমান বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহ্র নৈকট্যলাভে সহায়তা করে ।