এতোক্ষণ যে আলোচনা করা হলো তার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে ধূমপানের ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম হচ্ছে, এটি নিষেধ বা নাজায়েয। কোনো মুফতীর নিকট যান তিনি একথাই বলবেন। তবে অনেক আলেম একে মাকরূহ বলে থাকেন। অর্থাৎ ধূমপান করা হারামের কাছাকাছি।
কুরআন ও হাদীসে সরাসরি উল্লেখ নেই অথচ তা কেমন করে নিষেধ বা নাজায়েয হয়, এ ব্যাপারে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন কী?
উত্তর : আমরা জানি যে, কুরআন ও হাদীসে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যসমূহ হতে গবেষণা করে মুজতাহিদ ইমামগণ যে সকল মূলনীতি (Basic principles) উদঘাটন করেছেন সে সকল মূলনীতির আলোকে নবসৃষ্ট কোনো ইস্যু, অবস্থা, বিষয় বা কাজ এ যা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইসলামে কোনো কাজ নাজায়েয বা নিষিদ্ধ হয় কুরআন ও হাদীস অনুযোগী ইসলামী বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামতের উপর ভিত্তি করে। Heart বা kidney transplantation কি কুরআনে বা হাদীসে আছে? নেই। তবু এটি জায়েয বা permitted. কারণ, মুসলিম বিজ্ঞানীদের এটি সর্বসম্মত মতামত। যেসব কাজের নিষেধাজ্ঞা বা জায়েয হবার ব্যাপারে সরাসরি শরীয়াতের কোনো বিধান পাওয়া যায়না, তার জন্য তৃতীয় বা চতুর্থ স্তরের আইনের উৎস খুঁজতে হয়। ইসলামী শরীয়াতের তৃতীয় স্তরের আইনের উৎস হচ্ছে সাহাবায়ে কিরামের ঐক্যমত্য বা ‘ইজমা'। আর চতুর্থ স্তরের আইনের বিধান হচ্ছে চারটি Schools of Thoughts-এর চারজন বিজ্ঞ ইমাম ও সমসাময়িক আলেমদের অভিমত যা সাধারণত 'কিয়াস' নামে অভিহিত। তাই হানাফী, শাফিঈ, হাম্বলী ও মালিকি মাযহাবের মতামত বা নির্দেশনাও মেনে চলা ইসলামী শরীয়াতের দাবি ।