মানুষ যখন ধূমপান করে তখন তার কী কী physical and emotional পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করে থাকি?

একজন ধূমপায়ী যখন ধূমপান করে তখন তার মাংসপেশি আস্তে আস্তে অকার্যকর হতে থাকে এবং ধূমপানের ফলে একটি বিশেষ সময় অতিবাহিত করে। তার চিন্তাশক্তির সামনে পর্দার আবরণ পড়ে যায় । তার হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে সে একটুতেই ঘাবড়িয়ে যায়। মাঝে মাঝে তার হাত-পা কাঁপতে থাকে। তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং সে প্রায়ই অনিদ্রায় ভোগে। ধূমপানে আসক্ত ব্যক্তির হাতের দুই আঙুলে যে হলুদ দাগ পড়ে যায় তা alkaloid nicotine এর জন্য । এ ধরনের দাগ ধূমপায়ীদের ফুসফুস, যকৃত ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহে পড়ে তা আস্তে আস্তে অকেজো হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, গোশতের দোকানে গিয়ে গরু বা ছাগলের কলিজার দিকে তাকান। কতগুলো কলিজা নষ্ট হয়ে গেছে, রংও পরিবর্তিত হয়েছে যা কেউ কিনতে চায় না। আবার কতগুলো কলিজা তরতাজা ও দেখতে সুন্দর । ঐগুলোর গ্রাহকই বেশি ।

প্রশ্ন-১৩৫ : ধূমপানের যে মারাত্মক কুফল-এর ওপর পরিসংখ্যান কী বলে?



উত্তর : আমার কাছে শুধু দুটো পরিসংখ্যান আছে। পরিসংখ্যান বলে যে, একজন ধূমপায়ীর গড় আয়ু একজন অধূমপায়ীর গড় আয়ু অপেক্ষা ১০ বছর কম। ২০০০ সালে পৃথিবীতে ধূমপানের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ লক্ষ ৩০ হাজারে। এর মধ্যে ২৪ লক্ষ উন্নয়নশীল দেশে, আর ২৪,৩০,০০০

শিল্পোন্নত দেশে। সংখ্যাটির মধ্যে ৩৮,০৪,০০০ হচ্ছে পুরুষ। আর বাকীরা মহিলা বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক । আরো বিশ্লেষণ করে জানা যায়, উক্ত সংখ্যার মধ্যে-

১৬,৯০,০০০ cardio vascular diseases-এর জন্য মৃত্যু হয়েছে;

৯,৭০,০০০ obstructive pulmonary discases-এ; এবং

৮,৫০,০০০ ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য মৃত্যু হয়েছে।

প্রায় প্রতি বছরই survey হয়। এই সার্ভেটি ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল LANCET-এ প্রকাশিত হয়েছে। কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইচ্ছা করলে verify করতে পারেন। Vol 362, Issue 9387, page 847 Editor, Ezzati, A Loper.

প্রশ্ন-১৩৬ : ধূমপান বন্ধ করার জন্য সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে এবার কিছু বলুন। আপনি কি মনে করেন ধূমপান বন্ধ করতে সরকার যা করছে তা যথেষ্ট?



উত্তর : পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধূমপানের অপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় বড় রাস্তার মোড়ে, হাসপাতালের সামনে বড় বড় দর্শনীয় বিলবোর্ড স্থাপন করে। সম্মানিত দর্শক-পাঠক! আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন যে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উত্তর পার্শ্বে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে একটি বিরাট বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। সেখানে লেখা আছে, “ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান ও তামাক বর্জন করুন।” এটি কার কথা? আমার-আপনার নিশ্চয়ই নয়। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কথা। সারা বিশ্বের নন্দিত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কথা, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কথা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সারকথা। আর আমরা এই সতর্কবাণীকে অবজ্ঞা করবো ?

তবে সরকারকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে। জনস্বাস্থ্যে প্রণীত গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানগুলো আরো বেশি বেশি হওয়া উচিত। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সরকারের বেশি বেশি বিজ্ঞাপন দেয়া উচিত। অন্তত বেহায়াপনা, নগ্নতা ও নোংরামীতে পরিপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো কমিয়ে ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো caption আকারে টেলিভিশনের পর্দায় আনলে উপকার বেশি হবে।

WARNING

TOBACCO SMOKE CAUSES FATAL LUNG DISEASE IN NONSMOKERS.

বর্তমানে মানুষ যেহেতু ইলেট্রোনিক মিডিয়া প্রভাবিত, তাই মিডিয়ার গুরুত্ব সমধিক। সরকারের উচিত টেলিভিশনে নাটক বা সিনেমা কমিয়ে দিয়ে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনুষ্ঠানগুলো বেশি বেশি প্রচার করা। সরকার দুধে মেলামাইন নিয়ে যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি উঠে পড়ে লাগা উচিত এই ধূমপানের বিরুদ্ধে।

সম্মানিত দর্শক-পাঠক! কুরুচিপূর্ণ নাটক লিখে

জাতির সেবা করা যায়না। যতোসব মিথ্যা, অশ্লীল, কাল্পনিক, বানোয়াট ও নোংরা তথ্যে পরিপূর্ণ নাটক বা গল্পের বই একজন মানুষের জীবন থেকে হাজার হাজার ঘণ্টা হাইজ্যাক করতে পারে মাত্র। অন্য কোনো উপকার তো এতে দেখিনা। যারা ঘরে বেশি বেশি নাটক দেখে, যারা হাজার হাজার ঘণ্টা সময় এ কাজে অপচয় করে, তাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট কিয়ামতের দিনে ১ নম্বর প্রশ্নটির উত্তর দেয়া কঠিন হবে।