মুহতারাম, এবার বলুন ধূমপান পরিত্যাগ করার সহজ কোনো পদ্ধতি উপায় আছে কি? অর্থাৎ ধূমপান পরিত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা উপায় আছে কী

ধূমপান পরিত্যাগ করার জন্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট। ধূমপায়ীকে সর্বদা মনে রাখতে হবে দুটো ধ্রুবসত্য কথা যে ধূমপান মানে বিষপান ও ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পৃথিবীতে এমন কোনো একক সাধারণ অভ্যাস বা কাজ নেই, যার ক্ষতি ধূমপানের চেয়ে সর্বাত্মক, ব্যাপক যা স্বাস্থ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাই ধূমপান পরিত্যাগের ব্যাপারে আমি কয়েকটি পরামর্শ দিতে চাই।

১. ধূমপান পরিত্যাগ করতে হলে প্রথমে আপনি ধূমপান-এ ফিরে না আসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন এবং আল্লাহ্র প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখুন। সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নং আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা বলেন,

فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ

“যখন তুমি কোনো কাজ করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো বা সংকল্প করো, তখন আল্লাহ্র উপর ভরসা রাখো।” (আলে ইমরান ৩:১৫৯)

২. যখন কেউ ধূমপান পরিত্যাগ করতে সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তা বর্জন করা উত্তম। আস্তে আস্তে বর্জনের অভ্যাসের চেয়ে একবারে সহসা বর্জন করা উত্তম। দেখবেন, এতে আপনার কোনোই ক্ষতি হবেনা। ভালো কাজে আল্লাহ্ সর্বদা সাহায্য করে থাকেন। সাহাবীগণের জীবন থেকে শিক্ষা নিন । মদ্যপানের উপর যখন আল্লাহ্ পাক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, তখন তারা সকলে তৎক্ষণাৎ মদের পিপা ভেঙে-চুরে মদীনার রাস্তায় মদ ঢেলে ফেলেন। কোনো অন্যায়, খারাপ বা অবৈধ কাজ ধীরে ধীরে পরিত্যাগ করার চেয়ে দ্রুততার সাথে একবারেই তা করা উত্তম। মদ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন,

فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ ﴾

“তোমরা কি তবে উহা হতে বিরত থাকবে না?” (আল মায়িদাহ ৫:৯১)

তখন সাহাবীগণ একবাক্যে বলে ওঠেন, “হে আমাদের রব। আমরা বিরত থাকলাম। “হে আমাদের রব! আমরা বিরত থাকলাম।”

৩. যথাসম্ভব যারা ধূমপায়ী তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন এবং যেসব জায়গায় সর্বদা ধূমপান চলে, সে পরিবেশ বর্জন করুন। তাছাড়া কেউ আপনাকে কোনো সিগারেট offer করলে, আপনি দৃঢ়তার সাথে বলুন, sorry, I don't smoke. দুঃখিত, আমি ধূমপান করিনা। I don't waste money for useless practices. আমি বাজে কাজে টাকা-পয়সা নষ্ট করিনা ।

৪. যখনই ধূমপান করার ইচ্ছে জাগবে, তখন অন্য কোনো কাজে নিজেেেক ব্যস্ত রাখুন। দেখবেন কিছুক্ষণ পর আপনি ধূমপান করার কথা ভুলে যাবেন। আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রকৃত শক্তিশালী ও বাহাদুর সে নয়, যে তার শত্রুকে মল্লযুদ্ধে পরাজিত করে। প্রকৃত শক্তিশালী সেই, যে তার ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) ৪১৬ সুতরাং ধূমপানের মতো বদঅভ্যাসকে যে পরিত্যাগ করতে সক্ষম, সে-ই সবচেয়ে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান। ৫. সবশেষে আমি অনুরোধ জানাবো, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন, কীভাবে ধূমপান পরিত্যাগ করা যায়। তিনি হয়তো আরো কার্যকরী উপদেশ দিতে পারেন। কারণ কেউ অসুস্থ হলে সে সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পিতামাতার চেয়ে চিকিৎসকের উপদেশকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পরিশেষে আমি আপনাদেরকে সূরা মায়িদার ২ নং আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিতে অনুরোধ জানাবো ।

... وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ..

“সৎকর্ম ও তাকওয়ার ভিত্তিতে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করবে এবং পাপ ও অশ্লীল কাজে ও সীমা লঙ্ঘনে একে অন্যকে সাহায্য করবেনা।" (মায়িদাহ ৫:2 )