উত্তর : হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে জিনিস অধিক পরিমাণে নেশা সৃষ্টি করে, তার অল্প পরিমাণ পান করাও হারাম।” (মুসনাদে আহমাদ, আবূ দাউদ ও আত-তিরমিযী) ৪৩০
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নেশা উদ্রেককারী জিনিসই হারাম এবং যেটাই মানুষের বিবেককে প্রভাবিত করে ও হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত করে, তাই হারাম। তা একমুষ্ঠি পরিমাণই হোক না কেনো।” (আবূ দাউদ ও আত-তিরমিযী) ৪৩১ আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত হাদীসের ভাষা নিম্নরূপ। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। আর যে বস্তু অধিক পরিমাণ নেশার সৃষ্টি করে তার এক অঞ্জলিও পান করা হারাম।” (আবূ দাউদ) উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসে “প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী এবং অলসতা আনয়নকারী বস্তু ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।” (আবূ দাউদ) ৪৩৩
দুটো হাদীস থেকে এ বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, “শুধুমাত্র মদই যে হারাম তা নয়, বরং সর্বপ্রকার নেশাদার ও মাদক দ্রব্যও হারাম, তা অধিক পরিমাণে হোক অথবা অল্প হোক।” Narcotic drugs এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
সম্মানিত দর্শক-পাঠক শ্রোতামণ্ডলী! যে কয়টি হাদীস আলোচনা করলাম তা থেকে আমরা জানতে পারি যে, মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম, ইয়াবা, হিরোইন, ককেইন, মরিজুয়ানা, ইয়াবা, ইণ্ডিয়ান হেমপ্, ফেনসিডিল ইত্যাদি সবকিছুই হারাম, যা সবার পরিত্যাগ করা উচিত, তা যে brand-এরই হোক না
কেনো । অন্য কোনো অজুহাত তা জায়েয করতে পারবেনা। হালাল বিয়ার বা ইসলামী মদ বলতে কিছুই নেই । আমরা আরো জানতে পারি যে, যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো কাজে, মদের ব্যবহার নিষেধ এবং এর যেকোনো পরিমাণ সেবনই হারাম। এসবের ব্যবহারে শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। আর এসব ক্ষতির কথা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সময় বর্ণনা করেছেন, যখন মদের ওপর কোনো গবেষণা হয়নি এবং মদের খারাপ গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষের জানার অন্য কোনো উপায় ছিলো না। তাই সবাই তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার উপর নির্ভর করতো।