: হযরত জাবির ইবনে আতিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রখ্যাত সাহাবী। তিনি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ছাড়াও সাত ধরনের লোক শহীদ বা শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত। তন্মধ্যে যিনি প্লেগে বা মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন, যিনি আগুনে পুড়ে মারা যান, যিনি ঝিল্লির প্রদাহজনিত রোগে (pleurisy) ভুগে মৃত্যুবরণ করেন, যিনি পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন, যিনি পেটের পীড়ার কষ্টে (কলেরা, ডায়রিয়া ইত্যাদি) মৃত্যুবরণ করেন, যিনি কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মারা যান এবং যে মহিলা সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করেন।” (আবূ দাউদ ও মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু যে হাদীসটি বর্ণনা করেন তার ভাষাও অনুরূপ। সেখানে উদ্ধৃত আছে যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমান যদি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং কেউ যদি প্লেগ রোগে মারা যায় তারা শহীদ।" (সহীহ আল-বুখারী)
আর যারা শহীদি মৃত্যু লাভ করেন তারা কবরে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হবেননা। তাই রোগ বা রোগীকে ঘৃণা করা উচিত নয়। আর রোগীকে দেখতে যাওয়া, তিনি যা খেতে চান বা খেতে পারেন, সম্ভব হলে তা নিয়ে যাওয়া আরো উত্তম ও নেকির কাজ। কারণ তাকে শুশ্রূষা করলে আল্লাহকে সেবা করা হয়। তাছাড়া রোগীও আল্লাহ্র নিকট দু'য়া করবে আপনার কল্যাণের জন্য। তার দু'য়া ফেরেশতাদের দু'য়ার সমতুল্য। তবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে যারা শহীদ হয় তারা আর যারা উপর্যুক্ত কোনো কারণে মারা যায়, তাদের উভয়ের মর্যাদা ও বিধান সর্বদিক দিয়ে এক নয় । যেমন, কুরআনে কারীমে জিহাদের শহীদদেরকে জীবিত বলার আদেশ দেয়া হয়েছে এবং মৃত বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত জিহাদের শহীদদের গোসল দিতে হয়না, পক্ষান্তরে অন্য শহীদদের গোসল দিতে হয় ইত্যাদি।