উত্তর : হযরত আবদূর রহমান ইবনে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “জনৈক চিকিৎসক নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওষুধ হিসেবে ব্যাঙ (frog) ব্যবহার করার অনুমতি চাইলেন । তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিরস্কার করেন এবং এ উদ্দেশ্যে তাকে ব্যাঙ মেরে ফেলতে নিষেধ করেন।” (মুসনাদে আহ্মাদ, আবূ দাউদ, আন-নাসাঈ ও মুসতাদরাক) ৪৪৩ ইবনে সীনা বলেন, “ব্যাঙের মাংস খেলে শরীর ফুলে যাবে এবং গায়ের রং বদলে যাবে। তাছাড়া এটি বীর্য বা semen-কে নিঃশেষ করে দেবে” (আস্-সুয়ূতী) ৪৪৪
আস্-সুয়ূতী নিজেও একই ধরনের একটি রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ব্যাঙ খাবে, তার বীর্যপাত বন্ধ হবেনা, যে পর্যন্ত না তা নিঃশেষ হয়ে যায়। হলুদ রংয়ের ব্যাঙই বেশি ক্ষতিকর।” (আস্-সুয়ূতী) ৪৪৫ অপরদিকে হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওষুধ হিসেবে সকল অপবিত্র জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।” (আবূ দাউদ) ৪৪৬ এখানে অপবিত্র জিনিস বলতে খারাপ বা হারাম জিনিস বা জীব-জন্তুর মাংস বোঝানো হয়েছে। হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল lizard বা গুঁইসাপ সম্পর্কে। তখন তিনি বলেন, “তোমরা এর মাংস খেয়োনা । তবে আমি এটি আমার উম্মতের জন্য নিষিদ্ধ করছিনা।” (সহীহ মুসলিম ও আবূ দাউদ) ৪৪৭
সহীহ আল বুখারীতে হাদীসটি এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে, “গুঁইসাপ আমি খাইনা এবং তা হারামও বলিনা।” (সহীহ আল বুখারী) ৪৪৮
Lizard বা টিকটিকি অথবা গিরগিটিকে ইউনানি ভাষায় রেগমাহী বলা হয়। এই রেগমাহী বড় ধরনের টিকটিকি । আমাদের দেশে সচরাচর এগুলো দেখা যায়না। কয়েকটি ইউনানি কোম্পানি এই রেগমাহীর সাহায্যে ওষুধ তৈরি করে আসছে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “যদি কোনো সিরাপে শুধু সাপের মাংস ( snake meat বা extract) থাকে, আমি কিছুতেই মনে করিনা যে, তা গ্রহণ করা উচিত। এমনকি সিরাপটি যদি গাধার দুধের সাথে মিশানো হয়, তাহলে তীব্র প্রয়োজনেও তা পান করা উচিত নয়। কারণ গাধার দুধপান করতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাই এ দুটো উপাদানই ওষুধ হিসেবে নিষিদ্ধ।” (আস্-সুয়ূতী) ৪৪৯