শিরকী তাবিয এবং কুরআনের আয়াত বা তাসবীহাত ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা লিখিত তাবিয ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মতামত হচ্ছে, এটি পরিতাজ্য। এটি ব্যবহার করা বৈধ নয়। ইমাম আবূ দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুনানে হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নূশরাহ (জিনের আছরের তাবিয) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এটি শয়তানের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।" (আবূ দাউদ) ৫০৬
ইমাম আবূ দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'কিতাবুল মারাসিল বি ইশনাদিহী' গ্রন্থে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে আমি আল-হাসানকে জিজ্ঞেস করলাম, মন্ত্র ও তাবিয ব্যবহার সম্পর্কে । তিনি উত্তর দেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, "এগুলো শয়তানের কাজ।” (আস সুয়ূতী) ৫০৭
হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মন্ত্র, তাবিয ও তাওলা করা শিরক।" (আবু দাউদ) ৫০৮
তাওলা এক প্রকার যাদু, যা দিয়ে বেগানা মহিলা-পুরুষদের মধ্যে অবৈধ প্রেম সৃষ্টি করা যায়। নিঃসন্দেহে এটি হারাম কাজ। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “কুরআনের কোনো আয়াতের সাথে জাদু-মন্ত্র যোগ করলে তা শিরকে (polytheism) রূপান্তরিত হয়।" (আস্-সুয়ূতী) ৫০৯ সম্মানিত দর্শক-শ্রোতা! এতোক্ষণ যে আলোচনা করা হলো তার ভিত্তিতে বলা যায়, যে সব তাবিয, তাগা ইত্যাদিতে কুরআনের আয়াত ও আল্লাহর নাম নেই, অথবা উভয়ের সাথে আল্লাহ ছাড়া অন্য নামও সংযোজিত আছে, তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। তাই এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে শিশুদের কারো নামের
তখতি, হাঁসুলি, বেড়ি পরান বৈধ নয়। কারণ এর ব্যবহারকারী ব্যক্তি এ বিশ্বাস পোষণ করে থাকে যে এ দ্রব্যসমূহের কারণে শিশু বদনজর থেকে হিফাজতে থাকবে- এটিই শির্ক। এভাবেই মানুষের নিয়ত তখতি ও বেড়ির ব্যাপারেও হয়। আর এ কারণে এটিও শিরকের মধ্যে গণ্য। তবে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত ।