মধুর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাচীনকালে এর ব্যবহার সম্পর্কে আলোকপাত করুন।

মধু পৃথিবীর সবেচেয়ে কার্যকর এবং ছোট্ট কারখানায় উৎপাদিত একটি খাদ্যদ্রব্য, যে কারখানায় একজন মানুষ শ্রমিকও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আর এই কারখানার নাম হচ্ছে মৌমাছির বাসা । মৌমাছি নামক অতীব ছোট্ট একটি প্রাণী বা পতঙ্গ আল্লাহ্র ইচ্ছায় মধু উৎপন্ন করে থাকে।



প্রাচীন ও আধুনিককালের সকল চিকিৎসাশাস্ত্রেই মধুর উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাচীনকালে গ্রিক ও মিসরীয়গণ মধু দ্বারা মৃত ব্যক্তির দেহকে যুগযুগ ধরে সংরক্ষিত করতো ( embalming) এবং মধুকে preservative হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা যায় যে মধু ২২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হলেও এর গুণাগুণের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতোনা । খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে এক মিসরীয় রাণীর কবরের ভেতর এক জার মধু পাওয়া যায়, যার তেমন কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেনি।



ওষুধশাস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত Hippocrates প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে তার রোগীর চিকিৎসায় মধু ব্যবহার করতেন এবং তিনি নিজেও মধু সেবন করতেন। অ্যারিস্টটলও “নিয়মিত মধু সেবনে স্বাস্থ্যের উন্নতি ও দীর্ঘায়ু লাভ হয়" বলে বিশেষ ধারণা পোষণ করতেন। আমাদের এই উপমহাদেশেও আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি মেডিসিনে বেশ কয়েক হাজার বছর যাবত মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে ।