উত্তর : হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের লোকদের কারো জ্বর হলে তিনি দুধ ও ময়দা সহযোগে তরল পথ্য ‘ডালিয়া' পাকানোর নির্দেশ দিতেন। সে অনুযায়ী তা তৈরি করা হলে তিনি পরিবারের লোকদের বলতেন অসুস্থ রোগীকে পরিবেশন করতে । তিনি বলতেন, এটি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তির মনে শক্তি যোগায় এবং রোগীর মনের ক্লেশ ও দুঃখ দূর করে, যেমন তোমাদের কোনো মহিলা পানি দিয়ে তার চেহারার ময়লা দূর করে থাকে।” (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ৫৭৮
সম্ভবত ডালিয়া ও তালবিনা একই ধরনের পথ্য জাতীয় খাদ্য। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এই ডালিয়া পছন্দ করতেন। তিনি যবকে একটি উত্তম পথ্য, পেটের পীড়ার জন্য উপকারী ওষুধ ও দুর্বলতায় বিশেষ শক্তিবর্ধক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটি এক ভাগ ভালোভাবে চূর্ণ করা বার্লি ও পাঁচ ভাগ পানি একত্রে জ্বাল করে ২/৫ ভাগে কমিয়ে এনে ছেঁকে নিয়ে চিনি মিশ্রিত করে সেবন করা হয় ।
বস্তুত তালবিনা বা ডালিয়া সেসব লোকের জন্য, যারা সবেমাত্র অসুস্থতা থেকে আরোগ্যলাভ করেছে অথবা যারা আরোগ্য লাভের পথে বার্লি (Barley seeds) রয়েছে। রান্না করা বা সিদ্ধ বার্লি সবই পুষ্টিকর ও যন্ত্রণা প্রশমনকারী। তালবিনা, জাউ বা বার্লি যে নামেই আখ্যায়িত করি না কেনো, যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশেও চিকিৎসকগণ জ্বরে আক্রান্ত ও অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তির জন্য জাউ বা বার্লি জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য উপদেশ দিয়ে আসছেন। মূলত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন এ ব্যবস্থাপত্র তারই হুবহু অনুসরণ। আমি সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই, জেনে হোক না জেনে হোক, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ।