উত্তর : হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “একদা জনৈক ব্যক্তি তার নিকট এসে স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করলো। তিনি তাকে বললেন, Luban বা frankincense গ্রহণ করো। এটা রাতে পনিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে নিংড়ানো পানি বা water decoction খালি পেটে সেবন করবে। কারণ এটা স্মৃতিশক্তির জন্য উপকারী।” (ইবনুল কাইয়িম) ৫৮২ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রহমাতুল্লাহ আলাইহিও একই ধরনের হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি হযরত আলী ইবনে আবি তালিবের নিকট এসে তাকে তার নিজের স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তখন তিনি উত্তরে বললেন, frankincense বা কুন্দুরখুটি ব্যবহার করো। কারণ, এটা সত্যিকারভাবে হৃদয় বা অন্তরকে শক্তিশালী করে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া দূর করে।” ৫৮৩ অর্থাৎ স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
ইমাম আবূ নু’য়াইম ও ইমাম আস্-সুয়ূতী হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন । ইহা কানযুল উম্মাল কিতাবেও উদ্ধৃত আছে । আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “কোনো ব্যক্তি যদি এক মিসকাল (৪.৩৭৪ গ্রাম) পরিমাণ কুন্দুরখুটির সাথে এক মিসকাল পরিমাণ চিনি মিশ্রিত করে চূর্ণ করে উক্ত গুড়ো পাউডার খালি পেটে সেবন করে বা গিলে খায়, তাহলে তার প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোগের জন্য উপকারী হবে।” ৫৮৪
এ বর্ণনাটি আবূ নু'য়াইম, ইমাম আস-সুয়ূতী ও ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাদের 'তিব্বুন নববী' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমি দুটো কথা সম্মানিত দর্শক-শ্রোতাবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলছি । আপনাদের মাঝে যাদের স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে, তারা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের এ ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করতে পারেন। এ রোগের উৎপত্তি যদি আলঝেইমার্স রোগের কারণে না হয়ে অন্য কোনো কারণে হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিশ্বাস উক্ত রোগীর স্মরণশক্তি ফিরে আসবে। আপনাকে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের এ ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য দু'য়াও করতে হবে।
এ বিষয়ে আমি আরো একটি হাদীস আলোচনা করব, যা উম্মু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত । তবে রোগ নিরাময়ে রসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা পড়ে রোগীকে পান করতে দেন তার বিস্তারিত বিবরণ হাদীসে নেই। তবে হাদীসের বর্ণনায় জানা যায় যে শিশু রোগীটি সুস্থ হয়েছিল এবং তার মেধাশক্তি সাধারণ মানুষের মেধাশক্তির তুলনায় অধিক বেড়ে গিয়েছিলো । (ইবনে মাজাহ) ৫৮৫