চক্ষু রোগের চিকিৎসায় কুম্বীর ব্যবহার সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীস রয়েছে, যা ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উদ্ধৃত করেছেন। সা'দ ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কুম্বী মান্নার মতোই অথবা এক প্রকার মান্না এবং এর নিংড়ানো পানি বা রস চক্ষু রোগের ওষুধ।” (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম) ৬৬১
সা'দ ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুম্বী এক প্রকার মান্না, যা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা বনী ইসরাঈলের জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং এর রস চোখের ওষুধ।” (সহীহ মুসলিম ও ইবনে মাজাহ) ৬৬২ এ হাদীসটি পুনরায় মুসলিম শরীফে একটু অন্যভাবে বর্ণিত হয়েছে। সা'দ ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুম্বী হচ্ছে মান্না জাতীয় উদ্ভিদ বিশেষ, যা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা মূসা আলাইহিস সালাম-এর উপর পাঠিয়েছিলেন। আর এর রসে চোখের নিরাময় রয়েছে।” (সহীহ মুসলিম) ৬৬৩
মুসলিম শরীফের আরেকটি হাদীস রয়েছে, যার ভাষা একটু আলাদা। তবে বর্ণনাকারী একই ব্যক্তি । আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুম্বীই হচ্ছে মান্না এবং এর রসে চোখের ওষুধ রয়েছে।” (সহীহ মুসলিম) ৬৬৪
কুম্বী এক জাতীয় উদ্ভিদের নাম। এটি সাধারণত স্যাতস্যাতে স্থানে জন্মে থাকে । বাংলাদেশে এটা ব্যাঙের ছাতা নামে অভিহিত। এরদ্বারা সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। তবে এতে বিষাক্ত উপাদানও রয়েছে।
তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন, “বেহেশত হেসেছিলো যখন কুম্বী বা truffles এসেছিল, আর পৃথিবী হেসেছিলো যখন কারা বা কাবের (capers) এসেছিলেন।” (আস্-সুয়ূতী) ৬৬৫ শু'আইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুম্বীর পানি তোমাদের জন্য জরুরী (উপকারী)। এটা মান্না থেকে উৎপন্ন হয়। এর পানি চক্ষু রোগের ওষুধ।" (কানজুল উম্মাল ও আবু নুয়াইম) ৬৬৬
কুম্বী সম্পর্কে সর্বশেষ হাদীসটি বর্ণনা করেন হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু । তিনি বর্ণনা করেন, “একদা আমরা কতিপয় সাহাবী নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসে ছত্রাক সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম । কতিপয় সাহাবী বলেন, ছত্রাক যমীনের বসন্ত রোগ। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ছত্রাক হলো মান্নার অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চক্ষু রোগের ওষুধ। আর আজওয়া হলো বেহেশতের খেজুর এবং এটা বিষের প্রতিষেধক।” (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ৬৬৭ আত-তিরমিযী শরীফে উদ্ধৃত সা'দ ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত। আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ছত্রাক মান্নার অন্তর্ভুক্ত, এর পানি চোখের জন্য নিরাময়।" (ইবনে মাজাহ)
৬৬৮
ইবনে মাজাহ শরীফে উদ্ধৃত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের ভাষাও অনুরূপ। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ছত্রাক হলো 'মান্না' নামক আসমানী খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং তার পানি চক্ষু রোগের নিরাময়। 'আজওয়া হলো জান্নাতের খেজুর এবং তা উন্মাদনার প্রতিষেধক।" (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ৬৬৯
ইমাম ইবনে মাজাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আরেকটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে কতিপয় অতিরিক্ত শব্দ রয়েছে। সা'দ ইবনে যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ছত্রাক হলো মান্নার অন্তর্ভুক্ত যা বনী ইসরাঈলের আহারের জন্য পাঠিয়েছিলেন। এর নির্যাস চক্ষু রোগের প্রতিষেধক।” (ইবনে মাজাহ) ৬৭০
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষায় দু'মুখো এবং লেজবিহীন সাপ মেরে ফেলার জন্য নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এধরনের সাপ মহিলাদের গর্ভপাতও ঘটিয়ে থাকে। এ বিষয়ে ইবনে মাজাহ শরীফে দু'টো হাদীস রয়েছে। (ইবনে মাজাহ) ৬৭১ আমি আজওয়া খেজুর সম্পর্কে এর আগে আলোচনা করেছি। এ খেজুরটি মদীনায় উৎপন্ন হয়। এর দাম অন্যান্য খেজুরের চেয়ে বেশি।