বাংলাদেশে ডুমুর কোথায় পাওয়া যায়? ডুমুর আর কী কাজে উপকারে আসে?

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে তিনি ডুমুরকে 'জান্নাতের ফল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। জান্নাতের ফলসমূহের সাধারণত বিচি থাকেনা। ডুমুর ফলটি বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে জন্মে। এটি খাদ্য ও ওষুধ উভয় হিসেবেই ব্যবহার করা যায়। এটি একটি অর্থকরী ফসল যা প্রধানত সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৫০০০ বছর যাবত চাষাবাদ হয়ে আসছে। বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটো ডুমুর খাওয়া খুব পছন্দ করতেন। আরবীয়রা এটিকে খাদ্য ও ওষুধ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতো। আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম ব্যবহার হচ্ছে কিডনি ও মূত্রথলির পাথর দূরীকরণে এটি একটি নির্ভরযোগ্য laxative ওষুধ । Asthma ও sexual debility-তেও এটি বেশ কার্যকর।

প্রশ্ন-২৪১ : ডুমুরের ওপর যে গবেষণা হয়েছে তার ফলাফল কী? মেহেরবানী করে আলোচনা করুন ।

উত্তর : গবেষণায় জানা যায়, ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে শর্করা জাতীয় পদার্থ অর্থাৎ sugar বিদ্যমান। ডুমুরে ৬৪ ভাগেরও বেশি চিনি জাতীয় পদার্থ আছে। এছাড়া ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ফসফরাস ও কপার রয়েছে। Citric acid, malic acid সহ বেশ কতগুলো inorganic acids রয়েছে। এই ডুমুরে ficisin নামীয় একটি enzyme রয়েছে। এ উপাদানগুলোর জন্য ডুমুর খেলে তা অতি সহজেই হজম হয় এবং একে wholesome বা স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে যারা গিঁটবাত বা অর্শরোগে ভুগছেন, তারা যেন এই ডুমুর ফল নিয়মিত খান। ইনশা'আল্লাহ্ তাদের অসুস্থতা দূর হয়ে যাবে। খাওয়ার পরিমাণ বা dosage হচ্ছে প্রতিদিন ১টি ২টি ডুমুর সকালে বা সন্ধ্যায় অথবা যেকোনো সময় খাওয়া যাবে।