মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থতা লাভ করা কি ঐচ্ছিক কোনো বিষয়, নাকি আল্লাহ্র হুকুম বা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত? অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ না করা কি পাপ?

হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস দিয়েই এ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “প্রত্যেক রোগের ওষুধ রয়েছে। সুতরাং রোগ অনুযায়ী যখন ওষুধ গ্রহণ করা হয় তখন আলাহ্র হুকুমে রোগী আরোগ্য লাভ করে।” (সহীহ মুসলিম ও যাদুল মা'আদ) ৫২

এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে কোনো রোগই দুরারোগ্য নয়। প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ রয়েছে। আর চিকিৎসা হচ্ছে আল্লাহ্র হুকুম এবং রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। তাই অসুস্থ হলে আপনাকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো সঠিক রোগ নিরূপণ। অনেক ডাক্তার সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হন। ফলে তারা যে ব্যবস্থাপত্র দেন তা অন্য ধরনের হয়, সঠিক ব্যবস্থাপত্র হয়না। ফলে রোগী কষ্ট পায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগীও সঠিকভাবে তার রোগের বর্ণনা দিতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ রোগী তার রোগের সঠিক বর্ণনা দিতে ব্যর্থ হয় অথবা তার ব্যথার স্থানটি চিহ্নিত করতে অক্ষম হয়, কোনো কোনো সময় ব্যথা অনুভূত হয় বা কতোক্ষণ থাকে তা সঠিকভাবে বলতে না পারা ইত্যাদি। ফলে চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন।

এখানে আমি আরো একটি বিষয় আলোচনায় আনবো যা উপর্যুক্ত অভিমতের বিপরীত। বর্তমান সময়েও পৃথিবীর অনেক দেশে মানুষ অসুস্থ হলে তার নিরাময়ের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রাকৃতিক নিরাময় বিধানের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। অনেক গোষ্ঠী আছে যারা শিশুদেরকে হাসপাতালে পাঠাতে চায় না। তারা পশুপাখি ও বন্য জীবজন্তুর মতো প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই রোগ থেকে আরোগ্যলাভে বিশ্বাসী। এটা একটি বস্তুবাদী বিশ্বাস। আমেরিকায় কয়েকটি খ্রিস্টান গোষ্ঠী আছে, যারা এ concept- এ বিশ্বাসী। কিন্তু ইসলাম তা সমর্থন করেনা। ইসলামে অসুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণ করা সুন্নাহ। এটি খোদায়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত। অবশ্য যদি তাওহীদী বিশ্বাসে তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ স্তরে থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ইসলামে তারও সুযোগ রয়েছে।