শীতে ত্বকের পরিচর্যা শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় শীতকালে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন
শীতে ত্বকের পরিচর্যা নাসরিন চৌধুরী
শীতের দিনগুলো বেশ শুষ্ক। তাই দেহ-ত্বকে নেমে আসে রুক্ষতা। মানবদেহের সৌন্দর্যের হাতিয়ার হচ্ছে মসৃণ ত্বক। প্রসাধনীর বাহুল্য ত্বকে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারে তা সত্য কিন্তু সে সৌন্দর্য সাময়িক। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করার ফলে ত্বকের সমূহ ক্ষতি হয়। আমরা শীতের দিনগুলোতে প্রসাধনীর উপর নির্ভর না করেও দেহ ত্বককে সতেজ ও ও মসৃণ রাখতে পারি। তার জন্য চাই কেবল কয়েকটি উপকরণ যা অনায়াসে সংগ্রহ করা যায় অল্প খরচে। আমাদের সৌন্দর্য চর্চার পূর্ব ইতিহাস আলোচনা করলে পাই আগে নারীরা সাজতো ফুলের অলংকার পরে। কালিদাসের কাব্য 'মেঘদূতে' পাই যক্ষ প্রিয়ার ফুলের সাজে সাজবার কথা। রাধিকা সাজে নীলাম্বরী শাড়ি পরে আর সর্ব অঙ্গে ফুলের গয়না পরে। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান অত্যন্ত রূপবতী মহিলা ছিলেন। তাঁর ভেতর ছিল সৌন্দর্যকে টিকিয়ে রাখবার দুর্বার সাধনা। তিনি ভালবাসতেন গোলাপ পানিতে দেহ ত্বকে ভিজিয়ে ত্বকের পেলবতা বজায় রাখতে। আমাদের ইসলাম ধর্মে নারীর সাজগোজকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকাকে ইসলাম সমর্থন করেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেহ-মন এবং পোশাক-আশাক হলেই একজন মানুষকে সুন্দর দেখায়।
আজ আমি দেহের ত্বকের যত্ন কিভাবে নিতে হবে তা বলবো। দামী ক্রিম, স্নো, মাখলেই ভাববেন না আপনার ত্বকের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ আছে। আমাদের ত্বকের গোড়ায় ছোট ছোট লোমকূপ আছে, অতিরিক্ত ক্রিম মাখার ফলে সেই লোমকূপগুলোর পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মুখে ছোট ছোট গোটা উঠতে দেখা যায়। কখনও বা ব্রন ওঠে। ব্রন অবশ্য বয়ঃসন্ধিকালেই বেশি ওঠে। যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদেরই ব্রন হবার সম্ভাবনা
রয়েছে।
প্রতিদিন রাতে ঘুমুবার আগে কুসুম গরম পানিতে হাত মুখ ধুয়ে নিন। গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপ পানি মিশিয়ে আয়নার সামনে বসে তা মুখে মালিশ করুন। হাতে-পায়ে দিন। সকালে ঘুম ভাঙলে মুখ ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যাবে। পুরো শীতকালটা আপনি রাতে ঘুমুবার আগে মুখের ত্বকের এই যত্নটুকু নিতে পারেন।
বাজারের দামী ক্রিম মেখেই আপনি হয়ত ভাবছেন এটিই যথেষ্ট, আসলে কিন্তু তা নয়। আপনার শিশুরও শীতে স্বাভাবিক লাবণ্য হারাচ্ছে। পাউডার একদমই এখন শিশুর গায়ে দেবেন না। পাউডারে চামড়া আরো খসখসে হয়ে যায়। গোসলের আগে শিশুর গায়ে অলিভ অয়েল কিংবা সরিষার তেল মেখে নিতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে শিশুকে গোসল করাবেন। গোসলের পর শিশুর শরীরে মুখে বেবি লোশন মেখে দিন ।
শীতে গৃহিণীদের হাতের ত্বক খসখসে হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। মেয়েদের সৌন্দর্যে হাতের ভূমিকাও রয়েছে। তাই হাতগুলোতে যেন রান্নার মশলার দাগ লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নখের যত্ন নিন। সপ্তাহে অন্তত একটি দিন হাতের পরিচর্যা করতে হবে। কাগজি লেবু কেটে হাতে ঘষে নিন, এতে খসখসে চামড়া মসৃণ হবে। কমলালেবুর খোসা মিহি করে বেঁটে দুধের সরের সঙ্গে মিশিয়ে হাত মুখে মেখে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো যায়। অল্প সময়ে অল্প খরচে অনায়াসে প্রকৃতির এই জিনিসগুলোর সাহায্যে দেহ-ত্বকের যত্ন নেয়া যায়।
যুগের পরিবর্তনে আমরা আধুনিকতার চরম শীর্ষে পৌঁছে গেছি। নিত্য-নতুন উদ্ভাসিত হচ্ছে সাজ-সরঞ্জাম, প্রাচীনকালে তো এগুলো ছিল না তবুও নারী ছিল সুন্দর সাজে কোমল আকর্ষণীয়া। কিন্তু কেমন করে ? তা হলো প্রকৃতির সাহায্য ।
ফুল, ফুলের রেণু সব তারা ব্যবহার করতো। শীতের সকালে ঘাসের বুকে যে শিশির কণা জমে থাকে, তা হাতে নিয়ে চোখের মণিতে লাগান, চোখের জ্যোতি বেড়ে যাবে। আসলে শুধু প্রসাধনীর উপর নির্ভর করলে চলবে না। কাঁচা হলুদ এখন বাজারে প্রচুর পাওয়া যায়। কাঁচা হলুদ বেঁটে ত্বকে দিন, এতে ত্বকে খাজলি, পাঁচড়া হবে না। কাঁচা হলুদের সঙ্গে সামান্য নিমপাতা দিতে পারলে আরো ভাল হয়। নিমপাতায় একটি তেতো স্বাদ আছে তা ত্বকের লোমকূপের তলায় জমে থাকা ময়লা দূরে করতে সক্ষম। সুন্দর থাকতে চাইলে আপনি যে-কোন সময় প্রকৃতির এই সামান্য জিনিসগুলো ব্যবহার করে সুন্দর থাকতে পারবেন অনায়াসে।