উত্তর: বস্তুত ইসলাম এমনই সুন্দর এক জীবন বিধান যে রোগী দেখতে গিয়ে কতো সময় তার নিকট সে ব্যয় করবে, এতে তারও নির্দেশনা রয়েছে। আর এজন্যই আমরা বলে থাকি, Islam is a complete way of life. অর্থাৎ 'ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান'। মানুষের চলার পথে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছু এতে বলে দেয়া আছে। যা হোক, স্বল্প সময়ে রোগী দেখা সুন্নাত। হযরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সওয়াব ও প্রতিদানের দিক থেকে সর্বোত্তম শুশ্রূষা হলো রোগীর নিকট স্বল্পসময় অবস্থান করা এবং তাকে সান্ত্বনা প্রদান করা।” (শু'আবুল ঈমান) ৮৫
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “উত্তম রোগী সেবা হলো, দু'বার উটনী দোহনের মধ্যবর্তী বিরতি পরিমাণ সময় (তার কাছে বসা)।” (শু'আবুল ঈমান) ৮৬
হাদীসের মর্মকথা হলো, উটনীকে একবার দুধ দোহনের পর কিছু সময় বিরতি দেয়া হয়, যেনো তার বাচ্চা দুধপান করতে পারে এবং তার স্তনে দুধ নামে। অতঃপর আবার দোহানো হয়। এই দু'বার দোহনের মধ্যবর্তী বিরতি অতি সামান্য। প্রায় দশ থেকে পনের মিনিট। সুতরাং হাদীসের শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে, উত্তম রোগী সেবা হলো রোগীর নিকট অল্প সময় বসা। সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাদিয়াল্লাহু আনহুও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম রোগীসেবা হলো খুব তাড়াতাড়ি তার কাছ থেকে উঠে যাওয়া।" (শু'আবুল ঈমান) ৮৭
এ দু'টি হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি, রোগীর নিকট দর্শনার্থীরা অধিক সময় অবস্থান করলে রোগীর পরিজন ও চিকিৎসা কাজে সহায়ক ব্যক্তিবর্গ তথা ডাক্তার ও নার্সদের অসুবিধে হয়। তারা এ কাজ পছন্দ করেননা। অনেকে রোগীর সাথে ক্রিকেট খেলা দেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আবার অনেক দর্শনার্থী রোগীর সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসব করা অনুচিত। কারণ নার্স ণ রোগীকে ওষুধ খাওয়াতে এসে এসব ভিড় দেখে বিরক্তিবোধ করেন। রোগী যেনো মনোনিবেশ সহকারে আল্লাহকে ডাকতে পারে তার সুযোগ করে দেয়া উচিত। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের যারা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত, তারা ইতিমধ্যেই অসুস্থ ব্যক্তিটিকে আরো একটি রোগে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে ।
অপরদিকে দর্শনার্থীর অসাবধান কথাবার্তায় রোগী কোনো না কোনোভাবে মনে আঘাতও পেতে পারে এবং তা রোগীর মনোপীড়ার কারণ হতে পারে। ফলে তার রোগ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তার কষ্ট দীর্ঘায়িত হতে পারে। রোগীর কাছে শোরগোল করলে তার কষ্ট হয়। তাছাড়া কোনো দর্শনার্থী যদি বেশি সময় ধরে রোগীর নিকট বসে থাকে, তাতেও সে বিরক্তিবোধ করে। এসব কারণেই রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগীর কাছে শোরগোল করাকে অপছন্দ করতেন এবং নিস্প্রয়োজনে তার কাছে বেশি সময় বসতেও নিষেধ করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “রোগীর নিকট কম সময় বসা এবং শোরগোল কম করা সুন্নাত।”
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও কোনো কোনো সময় রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করতেন এবং অন্যদেরকেও রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করতে উৎসাহিত করেছেন। তবে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাড়-ফুঁক-এর কথাগুলো প্রচলিত ঝাড়-ফুঁকের মতো নয়। তিনি দু'য়ার মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক করতেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন যে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নিয়ম ছিলো এই যে “কেউ তার দেহের কোনো অঙ্গে অসুস্থতাবোধ করলে কিংবা তাতে কোনো ফোঁড়া বা জখম হলে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের আঙুল দিয়ে এভাবে করতেন। একথা বলে, এভাবে করার রূপ বোঝানোর নিমিত্তে হাদীস বর্ণনাকারী সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল মাটিতে রাখলেন, এরপর তা তুলে নিলেন এবং তখন এ দু'য়া পড়লেন, "বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদ্বিনা, বিরীকাতে বা’দিনা, যুফ্ফা সাকীমুনা বিইযনি রব্বিনা।” “আল্লাহ্র নামে আমাদের এ যমীনের ধূলাবালি কারো মুখ নিঃসৃত লালার সাথে মিশিয়ে প্রতিপালকের নির্দেশে তা দিয়ে আমাদের রোগীর আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে মালিশ করছি।” (সহীহ মুসলিম) ৮৮