মুহতারাম, এবার আলোচনা করুন রোগীর সেবা-শুশ্রূষার পাশাপাশি একজন মুসলমান তার ভাইয়ের জন্য আর কী করতে পারে?

অর্থাৎ পথ্যাদি বা রোগীর খাবার বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উপদেশমূলক বাণী আছে কি? দর্শনার্থীগণ কি রোগীর জন্য পথ্যাদি বা খাবার নিয়ে যেতে পারে?

উত্তর : অসুস্থ ব্যক্তি যদি বিশেষ কোনো কিছু খেতে চায়, তাহলে শুশ্রূষাকারীদের উচিত সে খাবারের বা পথ্যের ব্যবস্থা করা এবং তাকে খাওয়ানো। যেমন মিষ্টি বা ফলমূল। এমনকি কেউ যদি পোলাও-কোর্মাও খেতে চায়, তাকে তা দেয়া উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা। নতুবা না খেয়ে রোগী আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তাকে জিজ্ঞেস করতেন, তুমি কি কোনো কিছু খেতে চাও? যদি রোগী কোনো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতো, তাহলে তার জন্য তিনি সে খাবারের ব্যবস্থা করতেন। আমাদেরও তাই করা উচিত। আমি একটি হাদীস এ প্রসঙ্গে আলোচনা করবো যার মাধ্যমে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কিছু খেতে চাও?' রোগী উত্তর দিলো, যবের রুটি। তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যার কাছে যবের রুটি আছে সে যেনো তার এই (মুসলমান) ভাইয়ের কাছে তা পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর বললেন, যদি তোমার কাছে রোগী কোনো কিছু খেতে চায়, তাহলে (তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেনো) তাকে তা আহার করায়।” (ইবনে মাজাহ)

তবে রোগীকে বলপূর্বক বা জোরাজুরি করে খাওয়ানো উচিত নয়। জোর করে খাওয়ালে রোগী অসুস্থবোধ করতে পারে। এতে রোগী বমি করে ফেলে দিতে পারে। তাছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে রোগীকে খাওয়ানোর প্রয়োজন আছে কিনা তা আল্লাহই ভালো জানেন। হযরত উকবা ইবনে আমের আল জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রোগীকে পানাহার করতে পীড়াপীড়ি করবেনা । কেননা আল্লাহ্ তাদের পানাহার করান।” (ইবনে মাজাহ) ৯০

এ প্রসঙ্গে আমি আরো একটি হাদীস আলোচনায় আনবো। আল্লাহ্র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমি আল্লাহর সান্নিধ্যে বাস করি। তিনি আমাদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করে থাকেন।” (আত-তিরমিযী) ৯১