অমুসলিম পীড়িত ব্যক্তির সেবার বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বাণী আছে কি?

আগেই বলেছি, অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ধর্মের লোকদের প্রতি একই আচরণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমি অমুসলিম পীড়িত ব্যক্তির সেবার দু'টি ঘটনা আলোচনা করছি।

১. হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে

উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল, আবদুল্লাহ্ ইবনে উবাই, উমায়্যা ইবনে মুগীরা প্রমুখকে দেখতে পেলেন । রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি কালেমা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' বলুন । আল্লাহ্র নিকট আপনার জন্য এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেবো । (সহীহ আল বুখারী) ২

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী ছেলে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করতো। ছেলেটি অসুস্থ হলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। এরপর বললেন, “তুমি ইসলাম গ্রহণ করো।” সে ইসলাম গ্রহণ করলো। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।” এরপর তিনি বের হয়ে আসেন। (সহীহ আল বুখারী ও আবূ দাউদ) ৯৩

৩. হযরত ইবনুল মুসাইয়্যাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে জেনে বর্ণনা করেন, “আবূ তালিব মৃত্যুমুখে পতিত হলে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে যান।” (সহীহ আল বুখারী) ৯৪

আবূ মালিক আশজাঈ রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, যখন কেউ ইসলাম গ্রহণ করতো তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নামায শিক্ষা দিতেন। তারপর তিনি তাকে এ কালেমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেন, “হে মাবূদ! আমাকে মাফ করুন। আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। আমাকে হিদায়েত নসীব করুন। আমার রোগ আরোগ্য করুন। আর আমার রিযিক প্রসারিত করে দিন।” (সহীহ মুসলিম) ৯৫