: নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য আল্লাহ্র দরবারে স্বাস্থ্য, সুস্থতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অসংখ্য দু'য়া করেছেন। তন্মধ্যে তিনটি দু'য়া এখানে উল্লেখ করছি। প্রথমটি হচ্ছে, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকাল আফওয়া ওয়াল 'আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি।”
“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি।” (মুসনাদে আহমাদ, আবূ দাউদ ও নাসাঈ)
নাসাঈ শরীফে উদ্ধৃত হাদীসে ‘আফওয়া’ শব্দটি নেই, যার অর্থ ক্ষমা।
দ্বিতীয় দু'য়াটি হচ্ছে, “হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি। কেননা ঈমানের পর সুস্থতা থেকে উত্তম আর কোনো কিছু মানুষকে দেয়া হয়নি। ” (মুসনাদে আহমাদ)
তৃতীয়টি হচ্ছে, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে আরোগ্য দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন।” (আবূ দাউদ)
আল্লাহ্র কাছে দু'য়ারত দুজন মুমিনার উত্তোলিত দু'খানা হাত
এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত একটি হাদীস আপনাদের সামনে আলোচনা করব। তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য এভাবে দু'য়া করতেন :
“হে আল্লাহ! আমাকে শারীরিক সুস্থতা দান করুন, আমার দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা দান করুন এবং আমার মৃত্যু পর্যন্ত তাকে (দেহকে) সুস্থ রাখুন। আল্লাহ ভিন্ন কোনো উপাস্য নেই। তিনি অতি সহনশীল ও দয়ালু। মহান আরশের মালিক আল্লাহ অতি পবিত্র। জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।” (আত-তিরমিযী)
হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে তিনি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “আল্লাহ্র কাছে তোমরা ক্ষমা বা সুস্থতা চাও। কারণ ঈমানের পর সুস্থতা বা ক্ষমা থেকে উত্তম কোনো কিছু কাউকে দেয়া হয়নি।” (মুসনাদে আহমাদ)
হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও একই ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা ইমাম আন-নাসাঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য দু'য়া করো। নিশ্চয়ই ঈমান আনার পর স্বাস্থ্যের চেয়ে আর কোনো অর্জন মানুষের নিকট উত্তম নয়।” (আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ) ১১২
দু'জন বয়োজ্যেষ্ঠ হাজী সাহেবের দু'য়া
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য কখনো কোনোদিন দু'য়া করেননি। অথচ তাঁর সংসার তেমন সচ্ছলও ছিলোনা যা আমরা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মারফত জানতে পারি। নিয়মিত তাঁর ঘরে উনুনও জ্বলত না।
একদা হযরত আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনার রাস্তায় হাঁটছিলেন। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার নিকট যদি উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে তাহলে তিনদিনের বেশি তা কখনো রাখবোনা, তবে সামান্য কিছু ছাড়া যা দিয়ে আমি ঋণ পরিশোধ করবো।” (সহীহ আল বুখারী)