ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা Personal Hygiene and Cleanliness সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আছে কী?

উত্তর : অবশ্যই ছিলো। প্রথমেই বর্ণনা করছি সেই প্রসিদ্ধ হাদীসটি যা আমাদের অধিকাংশ দর্শকই জেনে থাকবেন। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ মালিক আশআরী রাদিয়াল্লাহ আনহু। হাদীসটি হচ্ছে, “পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ বা ঈমানের অর্ধেক।" (সহীহ মুসলিম) ১১৪ "Purity is part (or half)

of the Faith" (Sahih Muslim)

বলা বাহুল্য, পবিত্রতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অনেক ঊর্ধ্বে। কাজেই যার কাপড়, দেহ ও স্থান পবিত্র তার কাপড়, দেহ ও স্থান পরিচ্ছন্নও বটে। কিন্তু কাপড় পরিচ্ছন্ন হয়ে অপবিত্রও হতে পারে। বাহ্যিক পবিত্রতায় দেহ, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ এবং স্থানের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেহের পবিত্রতায় মলমূত্র ত্যাগের পর শৌচকার্য সম্পন্নের পরই উযু-গোসল করতে হয়। নাপাক পানি দিয়ে কেউ কাপড় এবং স্থান পরিষ্কার করেনা । কাজেই পবিত্রতার পূর্ব শর্ত হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। দ্বিতীয় হাদীসটি হচ্ছে, “তোমরা যথাসম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকো। কারণ আল্লাহ তা'য়ালা ইসলামের ভিত্তি রেখেছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। জান্নাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ করবেনা।" (জামে সগীর ও আত-তাদভীন ফী আখবারে কাযভীন লির রাফিয়ী)

এ হাদীসে ব্যক্তির স্বাস্থ্যকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। উপরোক্ত হাদীস দুটোর বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কমিউনিটি হেল্থ বা Public Health তথা জনস্বাস্থ্য অটুট রাখার ওপর যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, নোংরামী, পছন্দ করতেননা । সুতরাং আমাদের সকলকে সর্বদা পবিত্রতা অর্জন করতে হবে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বস্তুত পবিত্রতা অর্জন করাকে আল্লাহ্ তা'য়ালার ভালোবাসা লাভের উপায় বলে কুরআন মাজীদে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন,

انَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

“আল্লাহ্ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা অতিমাত্রায় পবিত্র থাকে তাদেরকেও।" (আল বাকারাহ 2:222)