হ্যাঁ, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত হচ্ছে, “আঙ্গুলের নখ কাটা এবং কর্তিত অংশ মাটিতে পুঁতে ফেলা।” তিনি বলেন, “প্রতি বৃহস্পতিবার নখের মাথা কেটে ফেলো বা ছোট রাখো, নাভির নিচের লোম কামিয়ে ফেলো এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলো। আর প্রত্যেক শুক্রবারে গোসল করো আর পরিষ্কার ও পবিত্র পোশাক পরো ও সুগন্ধি ব্যবহার করো।” (আস-সুয়ূতী)
শুক্রবারে গোসল করা অনেক সময় বেশ প্রয়োজন। আবার অনেক সময় তা উত্তম, তবে অত্যাবশ্যক নয়। এই শুক্রবারে গোসল করা সম্পর্কে আরেকটি হাদীস আছে, যা বর্ণনা করেন হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুত্র আব্দুর রহমান। তিনি তার পিতার বরাত দিয়ে বলেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উচিত শুক্রবার গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করা।” (সহীহ মুসলিম)
যন্ত্রের সাহায্যে আঙ্গুলের নখ কাটা (Trimming finger nails with nail cutter)
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “যে ব্যক্তি যে হাতের আঙ্গুলের নখ কাটে তার অপর দিকের চোখে কোনো অসুখ হবেনা।” (আস-সুয়ূতী)
অর্থাৎ বাম হাতের আঙ্গুলের নখ কাটলে ডান চোখে ophthalmia রোগ হবেনা । তিনি আরো বলেছেন, “আঙ্গুলের নখ কেটে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা উত্তম।” ( আন-নাসাঈ)
প্রশ্ন-৪৫ : গোঁফ ছোট রাখার বিষয়ে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে কি? উত্তর : হ্যাঁ আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আঙ্গুলের নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং নাভির নিম্নাংশের লোম পরিষ্কার করা মানুষের স্বভাবধর্মের কাজ।” (সহীহ আল বুখারী)
এর আগে যে হাদীসটি নিয়ে আলোচনা করেছি, তা হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। সেখানে পাঁচটি স্বভাবজাত বিষয়ের কথা বলা হয়েছে যা মানুষের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হচ্ছে- “খত্না করা, নখ কাটা বা পরিষ্কার রাখা, নাভির নিচের পশম বা লোম পরিষ্কার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা ও গোঁফ ছাঁটা।”
হযরত আবূ আব্দুল্লাহ আল-আগার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর সালাতে যাওয়ার আগে নিজের গোঁফ ছোট করতেন ও হাতের নখ কাটতেন।” (মুসনাদে আল বাযযার)
আত-তাবারানী ও বাযযার গ্রন্থে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার মসজিদে জুমু'আর সালাতে গমনের পূর্বে নিজের গোঁফ ও নখ কেটে নিতেন।” (মু'জামুল আওসাত ও আখলাকুন্নবী)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুও একই হাদীস বর্ণনা করেন। হযরত যায়দ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি গোঁফ ছোট রাখেনা, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। অর্থাৎ সে আমার উম্মত নয়।” (আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)
মাত্রাতিরিক্ত লম্বা গোঁফ অপ্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
গোঁফ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেন ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু । তিনি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা গোঁফ কামিয়ে ফেলো, আর দাড়ি বড় হতে দাও।” (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও আত-তিরমিযী)
এই হাদীস দুটোর বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রথম হাদীসটির তাৎপর্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এই হাদীস অনুযায়ী যারা মাত্রাতিরিক্ত বড় গোঁফ রাখেন তারা নবীর উম্মত নন। বস্তুত হাদীস দুটোতে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন বাস্তবে আমরা করছি তার উল্টো। আল্লাহ্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি রাখতে আর গোঁফ ছাঁটতে নির্দেশ দিয়েছেন, আর আমরা হুবহু এর বিপরীত কাজটিই করছি । অর্থাৎ আমরা গোঁফ বড় রাখি আর দাড়ি কামিয়ে ফেলি এবং দলচ্যুত হই। এটি কাম্য নয় ।