ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে রাখার বিষয়ে আরো কোনো হাদীস আছে কি?

ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে রাখার বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস রয়েছে। প্রথমটি বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিওনা।” (সহীহ মুসলিম)

হযরত সালেম রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার পিতার সূত্রে জেনে বর্ণনা করেন যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা (রাতে) ঘুমানোর সময় তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখোনা।” (সহীহ আল বুখারী ও ইবনে মাজাহ)

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "রাতে

তোমরা শোবার সময় প্রদীপগুলো নিভিয়ে দিবে, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে দিবে, মশকের (পানির পাত্রের) মুখ বেঁধে রাখবে এবং আহার ও পানীয়দ্রব্য ঢেকে রাখবে। (সহীহ আল বুখারী) ১৭৭

এ সম্পর্কে আরো একটি হাদীস এখানে আলোচনায় আনবো যা বর্ণনা করেন হযরত আবূ মূসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেন, একবার মদীনা শরীফের কোনো এক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন লেগে যায়। ঘটনাটি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই এই আগুন তোমাদের দুশমন। সুতরাং তোমরা ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে দাও।” (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)

সুপ্রিয় দর্শক-শ্রোতা-পাঠক! আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, এই চারটি মূলনীতি মেনে চলা, তথা ১. খাদ্যদ্রব্যের পাত্র ঢেকে রাখা, ২. পানীয় দ্রব্যের পাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখা, ৩. শয়নের পূর্বে ঘরের দরজা বন্ধ রাখা এবং ৪. ঘুমানোর পূর্বে বাতি নিভিয়ে দেয়া, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অতীব প্রয়োজন, যা আমাদের নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম শতাব্দীতে বর্ণনা করে গেছেন আজ হতে ১৪০০ বছর পূর্বে। আল্লাহ্ এই চারটি মূলনীতি থেকে ফায়দা হাসিলের তাওফীক দিন । (আমিন)

শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার জন্য তিনি ঘুমাতে যাবার আগে শয্যাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝেড়ে নিতে উপদেশ দিয়েছেন, যা সত্যি বিস্ময়কর। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ শুতে যায় তখন সে যেনো শয্যাটি ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে তার অবর্তমানে কোনো বিষাক্ত প্রাণী বা কীটপতঙ্গ বিছানায় লুকিয়ে আছে কিনা। বিছানা ঝেড়ে ফেলার পর এই দু'য়া পড়বে।” “বিইমিকা রব্বি ওয়াঅদ্বাতু জামবি ওয়াবিকা আরফাউহু ইন আমসাকতা নাফ্‌সী ফারহামহা ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাফাজু বিহিসলিহীন। "

“হে প্রতিপালক! আপনারই নামে (বিছানায় আমার) দেহ এলিয়ে দিলাম এবং আপনারই সাহায্যে আবার তা উঠাবো। যদি আপনি (এর মধ্যে) আমার জান কবজ করে নিন তবে তার ওপর রহম করুন। আর যদি তাকে থাকতে দিন তবে ঠিক সেভাবেই হিফাজত করুন যেভাবে আপনি সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জানের হিফাজত করে থাকেন।” (সহীহ আল বুখারী)