রোগ ও গুনাহ্ এ দুটো বিষয় কীভাবে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত?

আমাদের সমাজে অনেক ব্যক্তি রোগকে খারাপ বা গুনাহের কাজের ফলাফল বা কারণ মনে করে। অনেকে এমন ধারণা পোষণ করে থাকেন যে রোগ হলো পূর্বের কোনো খারাপ বা পাপকার্যের ফলাফলস্বরূপ। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে রোগ গুনাহের কারণ নাও হতে পারে, বরং এটা গুনাহের ক্ষতিপূরণ বা কাফ্ফারা । এ সম্পর্কে আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'টি মূল্যবান হাদীস পেশ করছি। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে জ্বর নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তখন এক ব্যক্তি উঠে জ্বরকে গালমন্দ করলো। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “জ্বরকে গালি দিওনা, কেননা এটি পাপসমূহকে এমনভাবে দূর করে যেমনিভাবে আগুন লোহার মরিচা (জং) বা ময়লা পরিষ্কার করে দেয়।" (ইবনে মাজাহ) ১৪ হযরত উম্মুল আ'লা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম, এমন সময় নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এসে বললেন, উম্মুল আ'লা! তোমার জন্য সুসংবাদ ! মুসলমানদের রোগ তাদের গুনাহকে দূর করে দেয় যেমনি অগ্নি সোনা-রূপার মরিচা দূর করে থাকে ।” (আবূ দাউদ) ১৫ আল-হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই মু'মিনের এক রাত্রির জ্বর তার সকল গুনাহ দূর করে দেয়।” (শু'আবুল ঈমান) নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “এক রাত্রিতে জ্বরে ভুগে কষ্ট পাওয়া এক বছর রোযা রাখার সমান।” (আস-সুয়ূতী ও কাশফুল খফা) :


আল-হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জ্বর প্রত্যেক মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তি একটা অংশ। এক রাতের জ্বর একজন ইবাদতকারী এক বৎসরের সকল গুনাহ দূর করে দেয়।" (জামে সগীর


...অবশ্য এসব হাদীসে ‘সব গুনাহ' বলে সগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য। যেহেতু কাবীরা গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয়না ।