হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো খাদ্যদ্রব্যে ত্রুটি ধরতেননা বা ধরেননি। মনে চাইলে খেতেন আর মনে না চাইলে বা পছন্দ না হলে খেতেননা । অথবা চুপ থাকতেন।” (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ) ২৩৪ জনৈক বুযুর্গ ইন্তিকাল করলে তাকে কেউ স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলো, ‘কেমন আছেন?' তিনি উত্তরে বললেন, “হিসাব-নিকাশের ঝামেলা সহজেই মিটে গেছে।' প্রশ্নকারী পুনরায় বললো, 'কোন্ নেক কাজটি কাজে এসেছে?' বুযুর্গ জবাবে বললেন, “আমার স্ত্রী একদিন খিচুড়ি পাকাতে গিয়ে ভুলে অতিরিক্ত লবণ দিয়ে ফেলে। আমি খিচুড়ির লোকমা মুখে দিতেই মনে হলো মুখে বিষ পুরে দিয়েছি। তখন অনিচ্ছায় লোকমা মুখ থেকে ফেলে দিতে ইচ্ছা করলো। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল হলো, এটি তো আল্লাহ্র নিয়ামত। বিবির সামনে অসন্তোষের একটি কথাও উচ্চারণ না করে খিচুড়িটা পেটভরে খেয়ে নিই। এ আমলটি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালার নিকট পছন্দ হয় এবং আমার ক্ষমার নির্দেশ মিলে।” (নযর আহমদ) ২৩৫
সুপ্রিয় পাঠক! এবার দেখুন আমাদের দেশে এমন ঘটনা আছে যে অনেকেই রাগের বশবর্তী হয়ে স্ত্রীকে মারধর পর্যন্ত করে থাকে, যা সত্যি অন্যায়। কারণ তরকারিতে কেউ তো ইচ্ছে করে লবণ বেশি দেয় না। যিনি রান্না করেন তিনিও তো সেই তরকারি একত্রে খাবেন। হঠাৎ কোনোদিন যদি এ ধরনের ভুল হয়ে যায়, তবে খাদ্যদ্রব্যকে আল্লাহ্র নিয়ামত মনে করে ফেলে না দিয়ে খেয়ে নেয়াই উত্তম। আর স্ত্রীকে বা যিনি রান্না করেন তাকে ক্ষমা করাই উচিত। কারণ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাঁর খাদেমকে দিনে ৭০ বার ক্ষমা করতেন। রমাদান মাসে এ ধরনের ভুল বেশি হয়ে থাকে। কারণ রোযা রেখে তরকারির স্বাদ গ্রহণ করা যায়না।