এবার বলুন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী কী হালাল খাবার বর্জন করতেন, খেতেন না বা অপছন্দ করতেন? বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের খাদ্যদ্রব্য কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন করতেন?

নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য আহারের ব্যাপারে মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত । তাঁর এই উপদেশগুলো যদি আমরা মেনে চলতে পারি তবে অনেক রোগ-ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দুটো খাদ্যদ্রব্য একত্রে খেতেননা, যা একই স্বভাব ও মেজাজবিশিষ্ট । অর্থাৎ ঊষ্ণ প্রকৃতির খাদ্যের সঙ্গে শীতল বা আর্দ্র প্রকৃতির খাবার একত্রে মিশিয়ে নিতেন এবং এই নীতির উপর ভিত্তি করেই খাদ্য নির্বাচন করতেন। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতো। ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের ক্রিয়াকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে হতো। যেমন :

১. নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ ও মাছ এবং দুধ ও টক জাতীয় জিনিস একত্রে খেতেন না । ২. তিনি দুটি গরম জাতীয় খাবার কিংবা দুটি ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার একত্রে খেতেননা।

বিজ্ঞান আমাদের বলে যে দুটি গরম জাতীয় খাবার একত্রে খেলে একসঙ্গে বেশি ক্যালরি খাওয়া হয়। ফলে রক্ত ও চর্বিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে ।

৩. তিনি দুটো শক্ত অথবা দুটো অত্যধিক নরম খাদ্য একত্রে খেতেননা ।

৪. তিনি ভুনা গোশতের সাথে টাটকা গোশতের তরকারি একত্রে খেতেননা। অর্থাৎ মুরগির রোস্ট-এর সাথে মুরগির তরকারি একত্রে খেতেননা।

৫. তিনি দুটো জোলাপ সৃষ্টিকারী খাবার অর্থাৎ যেসব খাবার একই সাথে ডায়রিয়া বা আমাশয় সৃষ্টি করে, তা একত্রে খেতেননা । অথবা এমন দুটি খাবার একত্রে খেতেননা, যা উভয়ই কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে ।

৬. তিনি তাজা খাবার ও বাসি (অর্থাৎ আগের দিনের রান্না করা) খাবার একত্রিত করে খেতে নিষেধ করেছেন। ৭. তিনি দ্রুত হজমশীল ও দেরীতে হজমশীল খাবার একত্রে খেতে নিষেধ করেছেন।

৮. তিনি রসুন ও পেঁয়াজ একসাথে খেতে নিষেধ করেছেন।

৯. তিনি ডালিম ও গোশতের পুডিং একত্রে খেতে নিষেধ করেছেন ।

১০. তিনি এমন দুটো খাবার একত্রে খেতে নিষেধ করেছেন, যা পেটে বায়ু সৃষ্টি করে।

১১. তিনি কোনো পেঁয়াজ-রসুন বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ও চটপটি জাতীয় খাবার পছন্দ করতেননা । ১২. তিনি রাতের রান্না পরের দিন খেতেননা। এর সম্ভাব্য কারণ মরুভূমির তাপমাত্রা বেশি থাকে। চব্বিশ ঘণ্টা পর খাবার স্বভাবতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া সেখানে ঐ সময় কোনো ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ছিলো না যার ভেতর আগের দিনের রান্নাকরা খাবার সংরক্ষণ করা যেতো। খাদ্য ও পানাহার সম্পর্কিত এসব তথ্যাবলি বিখ্যাত লেখক, গবেষক ও হাদীসশাস্ত্র বিশারদ হাফিজ ইবনুল কাইয়িম-এর বিখ্যাত গ্রন্থ যাদুল মা'আদ-এ উল্লিখিত আছে।