: খুব সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্যগ্রহণ সম্পর্কিত অভ্যাস বা খাদ্যাভ্যাসকে আমি এক কথায় Good Eating Practices (GEP) of the Prophet (SAWS) বলতে পারি। কারণ এ সুন্দর অভ্যাসগুলো সবই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানভিত্তিক। এসবের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সংঘর্ষ, বিরোধ বা contradiction নেই। আমি অমুসলিম জগৎকে challange দিয়ে বলতে পারি যে স্বাস্থ্য, সুস্থতা, ওষুধ, পানাহার সম্পর্কিত একটি হাদীসও কেউ খুঁজে পাবেনা, যা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক বা অবৈজ্ঞানিক। তিনটি উদাহরণ দিয়েই আমি সহজভাবে তা প্রমাণ করবো।
আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধপান করার পর কুলি করতেন। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, “একদা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দুধপান করলেন, অতঃপর তিনি পানি দিয়ে কুলি করলেন আর বললেন, এতে তৈলাক্ত পদার্থ আছে।" (সহীহ আল বুখারী) ২৫৬
সুপ্রিয় দর্শক! দুধে যে তৈলাক্ত পদার্থ বা fat থাকে, তা আমরা জেনেছি অনেক গবেষণার ফলে, আনুমানিক কয়েক দশক আগে। আমরা সর্বদা fat বা চর্বি জাতীয় পদার্থ পানাহার থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। কারণ, এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মরুভূমির কোন্ গবেষণাগারে research করে বললেন যে, দুধে তৈলাক্ত পদার্থ আছে? কে তাঁকে এই গবেষণার ফল জানিয়ে দিলেন যে milk contains fat. অর্থাৎ দুধে তৈলাক্ত পদার্থ থাকে ।
এই হাদীসের ভেতর আরো একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য সুপ্ত অবস্থায় আছে। আমরা জানি, অর্থাৎ বিজ্ঞান আমাদের বলে যে, পানি ও তেল একত্রে মেশেনা। তবু কেনো নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি চাইলেন কুলি করার জন্য? এর উত্তর হচ্ছে, দুধে যে তৈলাক্ত পদার্থ বা fat থাকে, দুধের পানি ও অন্যান্য দ্রব্যের তুলনায় তার পরিমাণ অনেক কম, এবং তা পানিতে দ্রবণীয় অন্যান্য কঠিন পদার্থের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। তাই যে সামান্য তৈলাক্ত পদার্থ দুধপান করার পর মুখের ভেতর থেকে যায়, তা পানিতে দ্রবণীয় অন্যান্য পদার্থের সাথে মিশ্রিত থাকে বলে সহজেই তা পানির সাহায্যে extract করে আনা যায়। কারণ পানি হচ্ছে all purpose solvent, যা সউদি আরবের মরুভূমিতে পাওয়া যেতো। Water immiscible কিছু solventও বেশি পরিমাণ পানির ভেতর ঝেঁকে নিলে তা সামান্য পরিমাণ miscible হয়ে যায়। তাই নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখের অভ্যন্তরের তৈলাক্ত পদার্থ বেশি পরিমাণ পানির সাহায্যে কুলি করে দূর করলেন।
দ্বিতীয় উদাহরণটি আরো সহজ। গ্রামের মা-বোনেরা পর্যন্ত এটি জানেন। আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ ও ভিনেগার একত্রে খেতেননা এবং খেতে নিষেধ করেছেন। এটি অনেক হাদীস গ্রন্থে এসেছে। এবার চলুন এই হাদীসটি বিজ্ঞানের আলোকে যাচাই করি ।
ভিনেগারে কী থাকে? এর প্রধান উপাদান এসিড। কোন্ এসিড? এসিটিক এসিড, সম্ভবত ৩-৬% এসিড যদি দুধে দেয়া হয়, তখন কী হয়? দুধ কি তখন দুধ থাকে? দুধ কি তার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে অন্য কিছুতে রূপান্তরিত হয়না? অনেকে লেবু বা citric এসিড দুধে দিয়ে ছানা তৈরি করেন। Vinegar দিলেও তো ছানা হবে। তাই নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ ও ভিনেগার একত্রে খেতেন না এবং খেতে নিষেধ করেছেন, যা পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত ।