খানা মুখে দেয়ার সময় লুকমাহ পড়ে গেলে আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করতেন বা কী করতে উপদেশ দিয়েছেন?

হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কারো লুকমাহ (খাবারের গ্রাস) পড়ে গেলে তা তুলে নাও এবং মাটি বা ময়লা পরিষ্কার করে তা খেয়ে নাও । শয়তানের জন্য ফেলে রেখোনা” (সহীহ মুসলিম, আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ২৬১ অন্যত্র জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শয়তান সর্বাবস্থায় তোমাদের সকল কাজে হাজির হয়। এমনকি তোমাদের আহারের সময়ও সে এসে উপস্থিত হয় । সুতরাং তোমাদের মধ্যে কারো খানার লুকমাহ পড়ে গেলে সে যেনো ময়লা দূর করে তা খেয়ে ফেলে, শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আহার শেষে সে যেনো আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কেননা সে জানেনা যে খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত নিহিত আছে।" (সহীহ মুসলিম) ২৬২

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (সহীহ মুসলিম) ২৬৩ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতিত খানা দস্তরখানা থেকে উঠিয়ে খেয়ে নিতেন । সুপ্রিয় দর্শক! সাধারণত দেখা যায় যে কারো মুখ থেকে খাওয়ার সময় কোনো খাবার মাটিতে পড়ে গেলে তা অনেকে ফেলে দেয়, আবার অনেকে তা তুলে পরিষ্কার করে খেয়ে নেয়। তবে খাবার বস্তুটি যদি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায় তবে তা ফেলে দেয়াই ভালো। কিন্তু তা না হলে কুড়িয়ে নিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া উত্তম। কারণ শয়তান আমাদের খাওয়ার সময় আশেপাশেই থাকে। তাকে সে খাদ্য গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি মুরগির রান হঠাৎ করে হাত থেকে পড়ে যায়, তবে তা ফেলে দেয়া কি ঠিক হবে? কখনোই না। আর যদি তরল বা আধা তরল জাতীয় খাবার পড়ে যায়, তবে তা কুড়িয়ে নেয়া যায়না। এ হাদীসগুলোতে সেসব খাবারের কথা বলা হয়নি। বস্তুত এই হাদীসের গুরুত্ব অনুধাবন করে পীর-মাশায়েখ, আলেম-দরবেশ ও জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি খাবার সময় যদি ১টি ভাতও দস্তরখানে পড়ে যায়, তাও তারা তুলে খেয়ে নেন আর আল্লাহ্ শুকরিয়া আদায় করে থাকেন এটা খুবই বরকতপূর্ণ কাজ। এটিই good eating practice of the Prophet (SAWS).