জাফর ইবনে মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে “নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবী ও অন্যান্যদের সাথে খেতেন তখন সবাই খাওয়া শেষ করার পর তিনি খাওয়া শেষ করতেন।” (মিশকাত) ২৮৯
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “দস্তরখান (কোন মজলিসে একত্রে খাওয়া শুরু করার সময় যে কাপড় বা তদ্রূপ জিনিস) বিছানো হলে তা পুনরায় তুলে না নেয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি যেনো উঠে না যায় এবং সে আহারে পরিতৃপ্ত হলেও হাত গুটিয়ে না নেয়, যতোক্ষণ না অন্য সকলের আহার শেষ হয়। একান্তই যদি উঠার প্রয়োজন হয় তবে সে যেনো অপারগতা প্রকাশ করে। কারণ সে হাত গুটিয়ে নিলে খেতে বসা তাঁর অন্যান্য সাথীরা লজ্জিত হবে, এবং হয়ত বা তাঁদের আরো খাদ্যের প্রয়োজন থাকতে পারে।” (ইবনে মাজাহ) ২৯০
সম্ভবত রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ উপদেশের জন্যই আমাদের এই উপমহাদেশে এ ঐতিহ্য চালু আছে যে মুরুব্বিগণ খাওয়া শেষে হাত ধোয়ার জন্য না দাঁড়ালে যুবকরা বা অল্পবয়স্ক লোকেরা দাঁড়ায় না এবং মুরুব্বিগণই প্রথম খানা শুরু করে থাকেন ।
খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের পূর্বে বা খানা খাওয়ার সময় রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কি দু'য়া পাঠ করতেন এবং পাঠ করতে উপদেশ দিয়েছেন? খাওয়া শেষ হবার পর আল্লাহ্র রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী দু'য়া পাঠ করতেন বা কী বলতেন ?
উত্তর : নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য গ্রহণের পূর্বে 'বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহি
বলে দুয়া করতেন। “আমি আল্লাহ্র নামে এবং তার অনুগ্রহে শুরু করছি।" (মুসতাদরাক )
I begin in the name and blessings of Allah.'
উমর ইবনে আবূ সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে আমি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে থাকতাম। খানা খাওয়ার সময় আমার হাত (বরতনের) চারদিক হাতড়াতো। তখন তিনি বললেন, “হে বৎস! আল্লাহ্র নাম নিয়ে খানা শুরু করো এবং ডানহাত দিয়ে খানা খাও। আর থালের ভেতর তোমার সামনের নিকটবর্তী জায়গা থেকে খাও।” (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও আত-তিরমিযী)
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে নিম্নোক্তভাবে উপদেশ দিয়েছেন, “তোমাদের ভেতর যে কেউ খাওয়া শুরু করবে, সে যেনো আল্লাহ্র নামে খানা শুরু করে, অর্থাৎ 'বিসমিল্লাহ' বলে। আর যদি কেউ আল্লাহ্র নাম বলতে ভুলে যায়, তখন যখনই তার মনে হবে, তখন সে যেনো পাঠ করে, “বিসমিল্লাহি আওআলাহু ওয়া আখিরাহু (আল্লাহ্র নামে খাওয়া শুরু করছি, প্রথমে এবং শেষে)।” (আবূ দাউদ ও আত-তিরমিযী) ২৯৩ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “কোনো ব্যক্তি যদি স্বীয় ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দিয়ে এবং খানা খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ' পাঠ করে খাওয়া শুরু করে, তখন শয়তান তার সঙ্গী-সাথীদের বলতে থাকে, “এটি আমাদের জন্য রাত কাটাবার এবং খানা খাবার স্থান নয়। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি যদি ঘরে প্রবেশের সময় সালাম না দেয় ও খানা খাওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ' না পড়ে, তখন শয়তান তার সঙ্গী-সাথীদের বলতে থাকে যে “তোমাদের জন্য রাত যাপন করা ও খানা খাওয়ার স্থান উভয় মিলে গেছে।” (সহীহ মুসলিম) ২৯৪ হযরত আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার পর কতিপয় শব্দ দিয়ে আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় ও দুয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আলহামদু লিল্লাহিল লাযী আত্ব'আমানা ওয়াসাকানা, ওয়াজা আলানা মিনাল মুসলিমীন।”
“সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া আল্লাহর, যিনি আমাকে আহার করিয়েছেন ও পান করিয়েছেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ২৯৫
হযরত আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে থেকে দস্তরখান ওঠানো হলে তিনি বলতেন, “আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাছীরান, ত্বয়্যিবান মুবারকান ফীহি, গয়রা মাগফিয়্যিন অলা মুসতাগনীন 'আনহু রব্বানা'।”
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, পবিত্র ও বরকতময় অনেক প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তা কখনো ত্যাগ করতে পারবোনা এবং তা থেকে অমুখাপেক্ষীও হতে পারবোনা।” (আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) ২৯৬
আবূ ঈসা তিরমিযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।