কষ্টের সাথে এমন কাজ করা বা এমন কোনো বিষয়, যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নিহিত নেই এবং যাতে কোনো উপকারও হয়না, তাকে লৌকিকতা বলে ।
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে "আমরা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ছিলাম । তখন তিনি বললেন, অযথা কষ্ট করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।” (সহীহ আল বুখারী) ২৯৭ সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন "তোমাদের নিকট যা নেই, মেহমানদের খাতিরে তা জোগাড় করতে গিয়ে অযথা কষ্ট করবেনা, (বরং যাকিছু উপস্থিত আছে তাই তাদের সামনে দেবে)।” (শু'আবুল ঈমান) ২৯৮
আবূ শুরাইহ কা'বী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, সে যেনো অবশ্যই তার মেহমানের সম্মান করে । একদিন ও একরাত পর্যন্ত তাকে উত্তম খাদ্য পরিবেশন করতে হবে। আর মেহমানদারী হলো তিন দিন। এর বেশি হলে হবে সদকাহ্। আর মেজবানের কষ্ট হতে পারে এমন দীর্ঘ সময় কোনো মেহমানের তথায় অবস্থান করা বৈধ নয়।” (সহীহ আল বুখারী) ২৯৯
ইমাম আত-তাবারানী লিখিত হাদীস গ্রন্থে দু'একটি শব্দের পরিবর্তন সাপেক্ষে শুয়াবুল ঈমানে উদ্ধৃত হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে- “আমাদের নিকট যা নেই. মেহমানদের খাতিরে তা নিয়ে লৌকিকতা করতে আমাদেরকে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।” (আল মু'জামুল কাবীর) ৩০০
সুপ্রিয় দর্শক! এই হাদীস আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে আমাদের হাতের কাছে যা নেই তা জোগাড় করতে দৌড়াদৌড়ি করা, কোথাও কিছু না পাওয়া গেলে প্রতিবেশীদের বাসায় গিয়ে ধরনা দেয়া, টাকা- পয়সা ধার-কর্জ করে জিনিসপত্র কিনে আনা ইত্যাদি করা অনুচিত। অনেক সময় এসব কারণে মেহমানও লজ্জায় পড়ে যায় এবং আমরা খামাকাই পেরেশান হই। আর এ কারণে রহমতের ফেরেশতা তথা মেহমানকে বিপদের কারণ মনে করি। কারণ এতে লোকে মেহমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। ফলে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট হন। কারণ যে মেহমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে আল্লাহ্র প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।